ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেনজীর অধ্যায়ের নতুন মোড়, সিডনির বৈঠকের ছবি ঘিরে নতুন বিতর্ক প্রিয় দল হেরে গেলে মন খারাপ? হতাশা কাটানোর ৭ কার্যকর উপায় শিক্ষামন্ত্রীর সামনে অভিনব কায়দায় প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরলো জবি ছাত্রশক্তি আওয়ামীলীগ একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি : শিক্ষামন্ত্রী ইরান-লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেবে চীন গোসলে নেমে আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল নিয়ে ৩ বন্ধুর তর্ক, একজনকে চুবিয়ে হত্যা ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনও অস্তিত্ব নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমরাই মেসিকে সুযোগ করে দিয়েছি: আলজেরিয়া কোচ সিগারেট-মদের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মিছিল দেখে ‘ভাষা হারিয়েছেন’ আইনমন্ত্রী মোদিকে দেখেই মেলোনির হাস্যরস, ‘আমরাই সবচেয়ে বিখ্যাত কাপল’

কুড়িগ্রাম-৪ এ নজিরবিহীন লড়াই: এক ভাই বিএনপির, আরেক ভাই জামায়াতের প্রার্থী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৬৩ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। একই পরিবারের দুই সহোদর ভিন্ন দুই বড় রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তুঙ্গে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত আলহাজ আজিজুর রহমান ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অপরদিকে তার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
দুই ভাইয়ের এই সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি-জামায়াতের শক্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পারিবারিক বিভক্তি ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,
“আমি ১৯৯১ সালেই নির্বাচন করেছি। নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। ছোট ভাইকে আমি কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি না। সে আমার ভাই হলেও বিমাতা।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উদ্দীপনা তাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। “আমি একাধিক মেয়াদে চেয়ারম্যান ছিলাম। জামায়াতে ইসলামী আমার ভাইকে প্রার্থী করে কোনো সুবিধা নিতে পারবে না। আমি জিতব,”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন,
“আমার ভাই বিএনপির প্রার্থী—এতে ভোটের কোনো প্রভাব পড়বে না। আমাদের মধ্যে পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে রাজনৈতিক মাঠে কোনো ছাড় নেই। রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করে আমি জয়ী হব।”
স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের দুই প্রার্থীর কারণে ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার ভোটে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত যে দলের ভোটসংখ্যা বেশি হবে, জয় যাবে তাদের ঘরেই—এমনটাই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আরও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক মণ্ডল, বাসদের খালেকুজ্জামান এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) থেকে রাজু আহমেদ। বহুমুখী প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই আসনের নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীর অধ্যায়ের নতুন মোড়, সিডনির বৈঠকের ছবি ঘিরে নতুন বিতর্ক

কুড়িগ্রাম-৪ এ নজিরবিহীন লড়াই: এক ভাই বিএনপির, আরেক ভাই জামায়াতের প্রার্থী

আপডেট সময় ০৭:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। একই পরিবারের দুই সহোদর ভিন্ন দুই বড় রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তুঙ্গে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত আলহাজ আজিজুর রহমান ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অপরদিকে তার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
দুই ভাইয়ের এই সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি-জামায়াতের শক্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পারিবারিক বিভক্তি ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,
“আমি ১৯৯১ সালেই নির্বাচন করেছি। নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। ছোট ভাইকে আমি কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি না। সে আমার ভাই হলেও বিমাতা।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উদ্দীপনা তাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। “আমি একাধিক মেয়াদে চেয়ারম্যান ছিলাম। জামায়াতে ইসলামী আমার ভাইকে প্রার্থী করে কোনো সুবিধা নিতে পারবে না। আমি জিতব,”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন,
“আমার ভাই বিএনপির প্রার্থী—এতে ভোটের কোনো প্রভাব পড়বে না। আমাদের মধ্যে পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে রাজনৈতিক মাঠে কোনো ছাড় নেই। রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করে আমি জয়ী হব।”
স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের দুই প্রার্থীর কারণে ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার ভোটে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত যে দলের ভোটসংখ্যা বেশি হবে, জয় যাবে তাদের ঘরেই—এমনটাই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আরও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক মণ্ডল, বাসদের খালেকুজ্জামান এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) থেকে রাজু আহমেদ। বহুমুখী প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই আসনের নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন