জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) যে তথ্য প্রকাশ করেছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অত্যন্ত ভুল বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই তথ্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক আইনি দল। চিঠিতে নিহতের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রত্যাহার ও সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ মে লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের আইনজীবী স্টিভেন পাউলেস কেসি শেখ হাসিনার পক্ষে এ চিঠি পাঠান। এতে ওএইচসিএইচআরের ‘বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভ সংক্রান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপব্যবহার’ শীর্ষক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের নিহতের সংখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়।
চিঠিতে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিজস্ব সরকারি নথিতেই দেখা যায় যে ১ হাজার ৪০০ নিহতের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শেখ হাসিনার আইনি দলের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার পতনের ঘটনাকে বৈধতা দিতেই অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছিল।
তাদের যুক্তির পক্ষে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত সরকারি গেজেটের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত বা ‘শহীদ’ হিসেবে ৮৩৪ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হিসাবেও নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬৫০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও কম হতে পারে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শেখ হাসিনার আইনি দলের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে পরিচালিত তদন্ত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
চিঠির শেষাংশে ওএইচসিএইচআরের কাছে অবিলম্বে ১ হাজার ৪০০ নিহতের তথ্য প্রত্যাহার ও সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সূত্র: এনডিটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট 
























