ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম, জুলাইতেও মানুষের পক্ষেই ছিলাম: ফারুকী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘জাতির জন্য লজ্জার’: নাহিদ ইসলাম খেলা শুরুর আগেই বিজয়ী বেছে নিল হাতি-জিরাফ-গরিলারা রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারালো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের নোয়াখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ

বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারণায় এআই ভিডিওর ছড়াছড়ি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • ৩৯৫ বার পড়া হয়েছে

এবার বাজারে কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে এক নারীকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘এবার কাকে ভোট দেবেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেব’ এই কথোপকথনের ভিডিও ক্লিপটি দেখে মনে হবে তিনি একজন মধ্যবিত্ত হিন্দু নারী—সিঁথির সিঁদুর, পোশাক-আশাক এবং আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিই তা ইঙ্গিত করে। কিন্তু আসল সত্য হলো: এই নারী, এমনকি সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীও—কেউই বাস্তব নন। পুরোটাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) জেনারেটেড সিনথেটিক কন্টেন্ট।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ক্লান্ত রিকশাচালককে একই ধরনের সাংবাদিক জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। কঠোর পরিশ্রমে জরাজীর্ণ এই বয়স্ক ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে জানান, এবার তিনি ভোট দিচ্ছেন ‘দাড়ি-পাল্লা’ (জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক)-কে, কারণ তিনি চান ন্যায়বিচার ও সততা।

প্রথম নজরে, এই ভিডিওগুলো মনে হয় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী, ধর্ম ও পেশার মানুষের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করছে। কিন্তু সমস্যা হলো—এই ভিডিওগুলোর কোনো মানুষই বাস্তব নয়। প্রতিটি মুখ, কণ্ঠ, পটভূমি—সবই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। ২০২৫ সালের জুনের মাঝামাঝি থেকে ফেসবুক ফিডে এমন অসংখ্য ভিডিও দেখা যাচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দলটি এটিকে তাদের সমর্থক-নেতৃত্বাধীন প্রচারণা বলে দাবি করেছে, যা তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত নয়।

এই ভিডিওগুলো মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ, লাখ লাখ লাইক ও কমেন্ট পেয়েছে, যা তাদের ব্যাপক ‘প্রভাব ও সম্পৃক্ততা’ প্রমাণ করে।শুরুতে এটি শুধু জামায়াতের এআই-চালিত প্রচারণা ছিল, কিন্তু দ্রুতই এটি একটি ব্যাপক প্রবণতায় রূপ নেয়। অন্যান্য দলের সমর্থকরাও তাদের প্রার্থীদের প্রচার বা বিরোধীদের দুর্বল করতে একই ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করতে শুরু করে।

চলতি বছরের ১৮ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে ফেসবুকে পোস্ট করা ৭০টি এমন প্রচার ভিডিও শনাক্ত করা হয়েছে। টিকটকেও একই ধরনের ভিডিও পাওয়া গেছে, যা দলীয় কর্মীরা শেয়ার করছে। রাজনীতিতে এআই-এর আগের ব্যবহার থেকে এই ভিডিওগুলোর পার্থক্য হলো—এগুলো সম্পূর্ণ সিনথেটিক। সব মুখ, কণ্ঠ ও পটভূমি মূলত গুগলের তৈরি ভিডিও জেনারেশন মডেল ‘ভিও’ দিয়ে তৈরি। অধিকাংশ ভিডিওতেই স্বীকারোক্তি নেই যে এগুলো এআই দিয়ে তৈরি এবং কোনো লেবেল ছাড়াই প্রকাশিত হচ্ছে। বিশেষ করে ফেসবুকের অটোমেটেড সিস্টেমও এগুলো শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারণায় এআই ভিডিওর ছড়াছড়ি

আপডেট সময় ০৩:২৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

এবার বাজারে কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে এক নারীকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘এবার কাকে ভোট দেবেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেব’ এই কথোপকথনের ভিডিও ক্লিপটি দেখে মনে হবে তিনি একজন মধ্যবিত্ত হিন্দু নারী—সিঁথির সিঁদুর, পোশাক-আশাক এবং আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিই তা ইঙ্গিত করে। কিন্তু আসল সত্য হলো: এই নারী, এমনকি সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীও—কেউই বাস্তব নন। পুরোটাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) জেনারেটেড সিনথেটিক কন্টেন্ট।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ক্লান্ত রিকশাচালককে একই ধরনের সাংবাদিক জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। কঠোর পরিশ্রমে জরাজীর্ণ এই বয়স্ক ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে জানান, এবার তিনি ভোট দিচ্ছেন ‘দাড়ি-পাল্লা’ (জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক)-কে, কারণ তিনি চান ন্যায়বিচার ও সততা।

প্রথম নজরে, এই ভিডিওগুলো মনে হয় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী, ধর্ম ও পেশার মানুষের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করছে। কিন্তু সমস্যা হলো—এই ভিডিওগুলোর কোনো মানুষই বাস্তব নয়। প্রতিটি মুখ, কণ্ঠ, পটভূমি—সবই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। ২০২৫ সালের জুনের মাঝামাঝি থেকে ফেসবুক ফিডে এমন অসংখ্য ভিডিও দেখা যাচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দলটি এটিকে তাদের সমর্থক-নেতৃত্বাধীন প্রচারণা বলে দাবি করেছে, যা তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত নয়।

এই ভিডিওগুলো মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ, লাখ লাখ লাইক ও কমেন্ট পেয়েছে, যা তাদের ব্যাপক ‘প্রভাব ও সম্পৃক্ততা’ প্রমাণ করে।শুরুতে এটি শুধু জামায়াতের এআই-চালিত প্রচারণা ছিল, কিন্তু দ্রুতই এটি একটি ব্যাপক প্রবণতায় রূপ নেয়। অন্যান্য দলের সমর্থকরাও তাদের প্রার্থীদের প্রচার বা বিরোধীদের দুর্বল করতে একই ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করতে শুরু করে।

চলতি বছরের ১৮ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে ফেসবুকে পোস্ট করা ৭০টি এমন প্রচার ভিডিও শনাক্ত করা হয়েছে। টিকটকেও একই ধরনের ভিডিও পাওয়া গেছে, যা দলীয় কর্মীরা শেয়ার করছে। রাজনীতিতে এআই-এর আগের ব্যবহার থেকে এই ভিডিওগুলোর পার্থক্য হলো—এগুলো সম্পূর্ণ সিনথেটিক। সব মুখ, কণ্ঠ ও পটভূমি মূলত গুগলের তৈরি ভিডিও জেনারেশন মডেল ‘ভিও’ দিয়ে তৈরি। অধিকাংশ ভিডিওতেই স্বীকারোক্তি নেই যে এগুলো এআই দিয়ে তৈরি এবং কোনো লেবেল ছাড়াই প্রকাশিত হচ্ছে। বিশেষ করে ফেসবুকের অটোমেটেড সিস্টেমও এগুলো শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।