ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের নোয়াখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ চার পরিবর্তন নিয়ে রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল মেহেরপুর তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবি-গ্রামবাসীর প্রতিরোধে ব্যর্থ বিএসএফ, সীমান্তে সতর্ক অবস্থান এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকার, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ মেহেরপুর প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি ফারুক সম্পাদক মুক্ত রক্তাক্ত ছবি শেয়ার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি তিন মাসেই আ.লীগের অবস্থানে পৌঁছে গেছে: আসিফ মাহমুদ ঈদের ছুটি শেষে ফেরার পর এক গ্রুপে গণছাঁটাই, চাকরি হারালেন ১৮৬৮ শ্রমিক যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’, ক্ষেপণাস্ত্র মজুত মাত্র ২১% : ট্রাম্প

‘হানি ট্র্যাপে’ ছিনতাইয়ের ভিডিও’র কারণে সাংবাদিক তুহিন হত্যা: পুলিশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮৯১ বার পড়া হয়েছে

সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার ‘একটি কারণ’ উদঘাটন করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। পুলিশ বলছে, গোলাপী নামের এক নারী দিয়ে ‘হানি ট্র্যাপে’র মাধ্যমে ছিনতাই করত একটি চক্র। তেমন একটি ঘটনার ভিডিও করেছিলেন সাংবাদিক তুহিন। এরপরই ওই চক্রটি ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করছিল। কিন্তু তিনি তা মোছেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তুহিনকে হত্যা করে চক্রটি।

আজ শনিবার (৯ আগস্ট) জিএমপি কার্যালয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান বলেন, ‘সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন একটি ছিনতাই ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। গোলাপী নামের এক নারীর ‘হানিট্র্যাপে’ এক ব্যক্তির সঙ্গে বাকবিতণ্ডার দৃশ্য ভিডিও করার পর সেটি মুছে না ফেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।’ তিনি বলেন, ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে। অপরাধীরা আদালতে স্বীকার না করলেও প্রমাণই তাদের অপরাধ প্রমাণ করবে। সর্বোচ্চ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

এ সময় তিনি সাংবাদিক সম্প্রদায়ের কাছে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিহত তুহিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। হঠাৎ ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জিএমপি কমিশনার বলেন, ‘৫ আগস্টের পর গাজীপুরে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকারত্ব বেড়েছে, ফলে অপরাধও বেড়েছে। পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক শক্তি এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, যা নজরদারিতে রয়েছে।’

এদিকে, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব, বাকিদের গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। গ্রেপ্তাররা হলেন—পাবনার চাটমোহরের ফয়সাল হাসান, কুমিল্লার হোমনার শাহ জালাল, সুমন, মো. মিজান ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপী, আল আমিন এবং মো. স্বাধীন। এর মধ্যে স্বাধীনকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে। তিনজনকে সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তারা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। র‌্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার কে এম এ মামুন খান চিশতী সকালে জানান, স্বাধীন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের

‘হানি ট্র্যাপে’ ছিনতাইয়ের ভিডিও’র কারণে সাংবাদিক তুহিন হত্যা: পুলিশ

আপডেট সময় ০৩:১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার ‘একটি কারণ’ উদঘাটন করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। পুলিশ বলছে, গোলাপী নামের এক নারী দিয়ে ‘হানি ট্র্যাপে’র মাধ্যমে ছিনতাই করত একটি চক্র। তেমন একটি ঘটনার ভিডিও করেছিলেন সাংবাদিক তুহিন। এরপরই ওই চক্রটি ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করছিল। কিন্তু তিনি তা মোছেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তুহিনকে হত্যা করে চক্রটি।

আজ শনিবার (৯ আগস্ট) জিএমপি কার্যালয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান বলেন, ‘সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন একটি ছিনতাই ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। গোলাপী নামের এক নারীর ‘হানিট্র্যাপে’ এক ব্যক্তির সঙ্গে বাকবিতণ্ডার দৃশ্য ভিডিও করার পর সেটি মুছে না ফেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।’ তিনি বলেন, ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে। অপরাধীরা আদালতে স্বীকার না করলেও প্রমাণই তাদের অপরাধ প্রমাণ করবে। সর্বোচ্চ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

এ সময় তিনি সাংবাদিক সম্প্রদায়ের কাছে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিহত তুহিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। হঠাৎ ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জিএমপি কমিশনার বলেন, ‘৫ আগস্টের পর গাজীপুরে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকারত্ব বেড়েছে, ফলে অপরাধও বেড়েছে। পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক শক্তি এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, যা নজরদারিতে রয়েছে।’

এদিকে, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব, বাকিদের গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। গ্রেপ্তাররা হলেন—পাবনার চাটমোহরের ফয়সাল হাসান, কুমিল্লার হোমনার শাহ জালাল, সুমন, মো. মিজান ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপী, আল আমিন এবং মো. স্বাধীন। এর মধ্যে স্বাধীনকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে। তিনজনকে সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তারা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। র‌্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার কে এম এ মামুন খান চিশতী সকালে জানান, স্বাধীন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।