ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জ্বালানি সংকট সাময়িক, ধৈর্য ধরে কিছুটা সময় দিতে হবে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাসুলের আদর্শ অনুসরণেই মানবজাতির কল্যাণ: গোলাম পরওয়ার পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের সময় জাতিসংঘ থেকে বেরিয়ে গেলেন মার্কিন প্রতিনিধি ইরান সন্ত্রাসবাদের শিকার; মাথানত করবে না: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক এমপি মোস্তাক আহমেদ রুহী মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার ছাত্রদল না থাকলে জামায়াত-শিবিরকে পিটিয়ে আবারও গুপ্ত বানিয়ে দেবে ছাত্রলীগ: রাশেদ খাঁন আমার রিসার্চের সাবজেক্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন তারেক রহমান: শিক্ষামন্ত্রী ২ বছরে রুপির বিপরীতে আরও শক্তিশালী হয়েছে টাকা স্ত্রী গৌরী পাশে থাকলেও সহকারী পূজার ওড়নায় মুখ মুছলেন শাহরুখ খান

স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কলিজা দিলেন স্ত্রী, মারা গেলেন দুজনেই

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬৩৭ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের পুনেতে লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত স্বামীকে বাঁচাতে নিজের লিভারের একটি অংশ দান করেছিলেন স্ত্রী। লিভার প্রতিস্থাপনের পর দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে। পুনের বাসিন্দা বাপু কোমকার। দীর্ঘদিন ধরে লিভারের রোগে ভুগছিলেন তিনি। স্বামীকে বাঁচাতে লিভারের একটি অংশ দান করেন তাঁর স্ত্রী কামিনী কোমকার। গত ১৫ আগস্ট তাঁদের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পর বাপু কোমকারের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে এবং দুদিন পর ১৭ আগস্ট মারা যান তিনি। এরপর ২১ আগস্ট সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় স্ত্রী কামিনীর।

বাপু কোমকার ও কামিনী কোমকারের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে অস্ত্রোপচার আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চিকিৎসা-প্রটোকল মেনে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সাহ্যাদ্রি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দপ্তর সাহ্যাদ্রি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপপরিচালক ডা. নাগনাথ ইয়েমপালে জানান, সাহ্যাদ্রি হাসপাতালকে সোমবারের মধ্যে অস্ত্রোপচারের সব বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘আমরা তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি। এই ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও সহায়তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাপু কোমকার বেশ ঝুঁকিপূর্ণ রোগী ছিলেন এবং তাঁর একাধিক জটিলতা ছিল। বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘আমরা কোমকার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। লিভিং ডোনার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট একটি অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার, আর এই ক্ষেত্রে রোগী অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন এবং নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।’

অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর পরিবার ও লিভার দাতাকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে হাসপাতাল।হাসপাতালের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অস্ত্রোপচারগুলো মানসম্মত চিকিৎসা প্রটোকল মেনেই সম্পন্ন করা হয়। দুঃখজনকভাবে, লিভার প্রতিস্থাপনের পর রোগী (বাপু কোমকার) কার্ডিওজেনিক শকে আক্রান্ত হন এবং সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

কামিনী কোমকারের বিষয়ে হাসপাতাল জানায়, অস্ত্রোপচারের পর তিনি প্রাথমিকভাবে ভালোভাবে সেরে উঠছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর সেপটিক শক এবং মাল্টি-অর্গান ডিসফাংশন দেখা দেয়, যা আধুনিক চিকিৎসা প্রয়োগ করেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘আমরা সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই শোকাবহ সময়ে কোমকার পরিবারের পাশে থাকার জন্য পূর্ণ সহায়তা অব্যাহত রাখব।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি সংকট সাময়িক, ধৈর্য ধরে কিছুটা সময় দিতে হবে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কলিজা দিলেন স্ত্রী, মারা গেলেন দুজনেই

আপডেট সময় ০৩:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

এবার ভারতের পুনেতে লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত স্বামীকে বাঁচাতে নিজের লিভারের একটি অংশ দান করেছিলেন স্ত্রী। লিভার প্রতিস্থাপনের পর দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে। পুনের বাসিন্দা বাপু কোমকার। দীর্ঘদিন ধরে লিভারের রোগে ভুগছিলেন তিনি। স্বামীকে বাঁচাতে লিভারের একটি অংশ দান করেন তাঁর স্ত্রী কামিনী কোমকার। গত ১৫ আগস্ট তাঁদের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পর বাপু কোমকারের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে এবং দুদিন পর ১৭ আগস্ট মারা যান তিনি। এরপর ২১ আগস্ট সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় স্ত্রী কামিনীর।

বাপু কোমকার ও কামিনী কোমকারের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে অস্ত্রোপচার আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চিকিৎসা-প্রটোকল মেনে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সাহ্যাদ্রি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দপ্তর সাহ্যাদ্রি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপপরিচালক ডা. নাগনাথ ইয়েমপালে জানান, সাহ্যাদ্রি হাসপাতালকে সোমবারের মধ্যে অস্ত্রোপচারের সব বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘আমরা তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি। এই ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও সহায়তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাপু কোমকার বেশ ঝুঁকিপূর্ণ রোগী ছিলেন এবং তাঁর একাধিক জটিলতা ছিল। বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘আমরা কোমকার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। লিভিং ডোনার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট একটি অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার, আর এই ক্ষেত্রে রোগী অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন এবং নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।’

অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর পরিবার ও লিভার দাতাকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে হাসপাতাল।হাসপাতালের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অস্ত্রোপচারগুলো মানসম্মত চিকিৎসা প্রটোকল মেনেই সম্পন্ন করা হয়। দুঃখজনকভাবে, লিভার প্রতিস্থাপনের পর রোগী (বাপু কোমকার) কার্ডিওজেনিক শকে আক্রান্ত হন এবং সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

কামিনী কোমকারের বিষয়ে হাসপাতাল জানায়, অস্ত্রোপচারের পর তিনি প্রাথমিকভাবে ভালোভাবে সেরে উঠছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর সেপটিক শক এবং মাল্টি-অর্গান ডিসফাংশন দেখা দেয়, যা আধুনিক চিকিৎসা প্রয়োগ করেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘আমরা সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই শোকাবহ সময়ে কোমকার পরিবারের পাশে থাকার জন্য পূর্ণ সহায়তা অব্যাহত রাখব।’