বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বুধবার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, জয়-পরাজয় মুখ্য নয়, বরং ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে আসাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি গণতন্ত্রের বিজয়, বর্ষা বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশের বিজয়।
ডাকসুর ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার পর ঢাবির সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। তিনি পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট। জিএস পদে জয়ী হন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের এসএম ফরহাদ, তিনি পান ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামীম পান ৫ হাজার ২৮৩ ভোট। এজিএস পদেও জয় পান শিবির সমর্থিত মুহা. মহিউদ্দীন খান।
এছাড়া আরও বিভিন্ন সম্পাদকীয় ও সদস্য পদে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় লাভ করেছে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, আন্তর্জাতিক সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, মানবাধিকার সম্পাদকসহ একাধিক পদে তাদের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
পাঁচটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে সমাজসেবা সম্পাদক হয়েছেন যুবাইর বিন নেছারী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হয়েছেন মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন সানজিদা আহমেদ তন্বী। এছাড়া সদস্য পদে জয় পেয়েছেন হেমা চাকমা ও উম্মু উসউয়াতুন রাফিয়া।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কোনো বড় ধরনের অঘটন ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয় ডাকসুর ৩৮তম নির্বাচন। এবার ২৮টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন, এর মধ্যে ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ এবং ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ জন ভোটার।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























