ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে এলে ফি অর্ধেক নেওয়ার ঘোষণা দিলেন চিকিৎসক তিন দিনের সফরে ঢাকায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকার পতনের পর আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং হান্নান মাসউদের সিআইডি প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার তিন দিনের মাথায় অবসরের আবেদন কারাগারে গান-কবিতার আড্ডা, আইভীর কবিতায় সুর দেন মমতাজ আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নিহত ৬, শোকের ছায়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘জনগণ ভাবছে সরকার ভোট নয়, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নির্বাচিত’ যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল নিখোঁজের ৬ দিন পর এভারেস্টে জীবিত উদ্ধার নেপালি শেরপা

যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্মত হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল এবং দেশটি জানিয়েছে তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

 

এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোলাবর্ষণ বন্ধ এবং সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের এলাকাগুলো থেকে গোষ্ঠীটির যোদ্ধাদের সরিয়ে নেয়ার শর্তে লেবানন ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে।

 

প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম এই আলোচনাকে নির্লজ্জ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের ঘোষণাকে লেবাননের জনগণের একটি অংশের বিনাশ এবং বাকিদের দাসত্বে আবদ্ধ করার একটি রূপরেখা বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি একটি লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘যতদিন দখলদারিত্ব থাকবে, প্রতিরোধও ততদিন চলবে।’

 

সর্বশেষ মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণের মুখে তেহরানের সমর্থনে গেল ২ মার্চ হিজবুল্লাহ, ইসরায়েলে হামলা চালালে সংঘাত পুনরায় শুরু হয় এ অঞ্চলে। এপ্রিল মাস থেকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েল ও গোষ্ঠীটির মধ্যে।

 

আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই যুদ্ধ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাসেম বলেছেন, যুদ্ধবিরতিতে অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেখানে ইসরায়েল একটি স্ব-ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চল দখল করেছে। তাদের দাবি, এই অঞ্চল দখলের উদ্দেশ্য হলো উত্তর ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করা।

 

কাসেম বলেন, ‘যতদিন আমাদের গ্রামগুলো অনিরাপদ, বোমাবর্ষণে বিধ্বস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত থাকবে এবং আমাদের লোকজনকে হত্যা করা হবে, ততদিন উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলো নিরাপদ থাকবে না।’

 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ইসরায়েল আপাতত স্থলভাগে গোলাবর্ষণ ও অভিযান অব্যাহত রাখবে। সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা অব্যাহত থাকবে।’

 

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে অসংখ্য বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সোহমোর শহরে বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

 

কাৎজ বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী নিরাপত্তা অঞ্চলে থাকবে, যার মধ্যে সপ্তাহান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর দখল করা বোফোর্ট দুর্গের এলাকাও অন্তর্ভুক্ত। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের অভিযানের কারণে প্রায় ১২ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের কয়েক লাখ মানুষও রয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম।

 

মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েল দ্রুত পাইলট জোন তৈরির কাজ এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী সকল অরাষ্ট্রীয় পক্ষকে বাদ দিয়ে ভূখণ্ডটির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নেবে।

 

এদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই যুদ্ধবিরতিকে একটি ‘গুরুতর ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন এবং মন্ত্রিসভার ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন। বেন-গভির বলেন, ‘হিজবুল্লাহ লিতানি নদীর দক্ষিণের এলাকা থেকে তাদের যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করবে না এবং লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য করতে অক্ষম।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার জার্সি পরে এলে ফি অর্ধেক নেওয়ার ঘোষণা দিলেন চিকিৎসক

যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের

আপডেট সময় ১০:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্মত হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল এবং দেশটি জানিয়েছে তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

 

এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোলাবর্ষণ বন্ধ এবং সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের এলাকাগুলো থেকে গোষ্ঠীটির যোদ্ধাদের সরিয়ে নেয়ার শর্তে লেবানন ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে।

 

প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম এই আলোচনাকে নির্লজ্জ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের ঘোষণাকে লেবাননের জনগণের একটি অংশের বিনাশ এবং বাকিদের দাসত্বে আবদ্ধ করার একটি রূপরেখা বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি একটি লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘যতদিন দখলদারিত্ব থাকবে, প্রতিরোধও ততদিন চলবে।’

 

সর্বশেষ মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণের মুখে তেহরানের সমর্থনে গেল ২ মার্চ হিজবুল্লাহ, ইসরায়েলে হামলা চালালে সংঘাত পুনরায় শুরু হয় এ অঞ্চলে। এপ্রিল মাস থেকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েল ও গোষ্ঠীটির মধ্যে।

 

আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই যুদ্ধ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাসেম বলেছেন, যুদ্ধবিরতিতে অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেখানে ইসরায়েল একটি স্ব-ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চল দখল করেছে। তাদের দাবি, এই অঞ্চল দখলের উদ্দেশ্য হলো উত্তর ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করা।

 

কাসেম বলেন, ‘যতদিন আমাদের গ্রামগুলো অনিরাপদ, বোমাবর্ষণে বিধ্বস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত থাকবে এবং আমাদের লোকজনকে হত্যা করা হবে, ততদিন উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলো নিরাপদ থাকবে না।’

 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ইসরায়েল আপাতত স্থলভাগে গোলাবর্ষণ ও অভিযান অব্যাহত রাখবে। সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা অব্যাহত থাকবে।’

 

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে অসংখ্য বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সোহমোর শহরে বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

 

কাৎজ বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী নিরাপত্তা অঞ্চলে থাকবে, যার মধ্যে সপ্তাহান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর দখল করা বোফোর্ট দুর্গের এলাকাও অন্তর্ভুক্ত। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের অভিযানের কারণে প্রায় ১২ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের কয়েক লাখ মানুষও রয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম।

 

মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েল দ্রুত পাইলট জোন তৈরির কাজ এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী সকল অরাষ্ট্রীয় পক্ষকে বাদ দিয়ে ভূখণ্ডটির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নেবে।

 

এদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই যুদ্ধবিরতিকে একটি ‘গুরুতর ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন এবং মন্ত্রিসভার ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন। বেন-গভির বলেন, ‘হিজবুল্লাহ লিতানি নদীর দক্ষিণের এলাকা থেকে তাদের যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করবে না এবং লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য করতে অক্ষম।’