ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার আহ্বান স্পিকারের যুবদল নেতা নয়নের ‘দাড়িওয়ালাদের আস্তানা’ স্লোগানের প্রতিবাদ জামায়াতের পাকিস্তানের ‘স্বৈরাচারীদের’ রুখে দেওয়ার আহ্বান ইমরান খানের ছেলের বাবার কষ্টের দিন শেষ করার স্বপ্ন, নিয়োগের আগেই থামল সোহানের পথ কেউ চাঁদা চাইলে থানায় সোপর্দ করবেন: ধর্মমন্ত্রী এবার মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টা, অফিসে হামলা-ভাঙচুর নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরাল ইরান একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জোরালো আহ্বান বর্তমান সরকার যুবকদের লুটতরাজের জন্য দলীয় ক্যাডার বানাচ্ছে: সাবেক শিবির সভাপতি ‘যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা আদালতে, জাতিসংঘের মঞ্চে নয়’-নেতানিয়াহুকে এরদোয়ান

জুমার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াতের ফজিলত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৫১ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র কুরআনের আঠারো নম্বর সূরা হলো সূরা কাহাফ। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে রয়েছে ১১০টি আয়াত। রাসুলুল্লাহ ﷺ এবং সাহাবায়ে কিরামের বর্ণনায় সূরা কাহাফ পাঠ ও তেলাওয়াতের অসংখ্য ফজিলতের কথা উল্লেখ আছে। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে হেফাজতে থাকবে। (সহিহ মুসলিম: ৮০৯, আবু দাউদ: ৪৩২৩)। এ সুরাটির অবতরণের সময় একসাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা দুনিয়াতে নাজিল হয়েছিলেন। (আনাস রা.)

জুমা ইসলামের শ্রেষ্ঠ দিন। রাসুল ﷺ বলেছেন, পৃথিবীর যত দিন সূর্য উদিত হয় তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এ দিনেই আদম (আ.) সৃষ্টি হন, জান্নাতে প্রবেশ করেন এবং জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হন। কিয়ামতও সংঘটিত হবে শুক্রবার। (মুসলিম: ৮৫৪)। তাই জুমার দিনে সূরা কাহাফ পড়া সুন্নত ও বরকতময় আমল।

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার নূর এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত আলোকিত থাকবে। (মিশকাত: ২১৭৫)। আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন নূর হবে যা তার অবস্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দেবে। (সিলসিলা সহীহা: ২৬৫১)। জুমার রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করলে তার জন্য স্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত একটি নূর তৈরি হবে। (সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব: ৭৩৬)। আবার বলা হয়েছে, জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করলে কিয়ামতের দিন তার পায়ের নিচ থেকে আকাশ পর্যন্ত নূর বিকশিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (আত তারগীব ওয়াল তারহীব ১/২৯৮)।

সূরা কাহাফে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। এর মধ্যে আসহাবে কাহাফের ঘটনা, পৃথিবীর পরীক্ষার আলোচনা, আল্লাহর সন্তান গ্রহণের ধারণার খণ্ডন এবং কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার বর্ণনা অন্যতম। এছাড়া সৎকর্মীদের জন্য সুসংবাদ ও অবিশ্বাসীদের জন্য শাস্তির ঘোষণা রয়েছে। রাসুল ﷺ সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আদমের সৃষ্টি থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের ফেতনার মতো বড় ফেতনা আর নেই। (মুসলিম শরিফ)। সূরা কাহাফ হলো সেই ভয়াবহ ফিতনার বিরুদ্ধে ঈমানদারদের জন্য একটি ঢাল।

বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত যে কোনো সময়ে সূরা কাহাফ পাঠ করলে হাদিস অনুযায়ী এর পূর্ণ ফজিলত পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার আহ্বান স্পিকারের

জুমার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াতের ফজিলত

আপডেট সময় ১১:৩৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

পবিত্র কুরআনের আঠারো নম্বর সূরা হলো সূরা কাহাফ। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে রয়েছে ১১০টি আয়াত। রাসুলুল্লাহ ﷺ এবং সাহাবায়ে কিরামের বর্ণনায় সূরা কাহাফ পাঠ ও তেলাওয়াতের অসংখ্য ফজিলতের কথা উল্লেখ আছে। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে হেফাজতে থাকবে। (সহিহ মুসলিম: ৮০৯, আবু দাউদ: ৪৩২৩)। এ সুরাটির অবতরণের সময় একসাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা দুনিয়াতে নাজিল হয়েছিলেন। (আনাস রা.)

জুমা ইসলামের শ্রেষ্ঠ দিন। রাসুল ﷺ বলেছেন, পৃথিবীর যত দিন সূর্য উদিত হয় তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এ দিনেই আদম (আ.) সৃষ্টি হন, জান্নাতে প্রবেশ করেন এবং জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হন। কিয়ামতও সংঘটিত হবে শুক্রবার। (মুসলিম: ৮৫৪)। তাই জুমার দিনে সূরা কাহাফ পড়া সুন্নত ও বরকতময় আমল।

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার নূর এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত আলোকিত থাকবে। (মিশকাত: ২১৭৫)। আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন নূর হবে যা তার অবস্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দেবে। (সিলসিলা সহীহা: ২৬৫১)। জুমার রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করলে তার জন্য স্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত একটি নূর তৈরি হবে। (সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব: ৭৩৬)। আবার বলা হয়েছে, জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করলে কিয়ামতের দিন তার পায়ের নিচ থেকে আকাশ পর্যন্ত নূর বিকশিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (আত তারগীব ওয়াল তারহীব ১/২৯৮)।

সূরা কাহাফে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। এর মধ্যে আসহাবে কাহাফের ঘটনা, পৃথিবীর পরীক্ষার আলোচনা, আল্লাহর সন্তান গ্রহণের ধারণার খণ্ডন এবং কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার বর্ণনা অন্যতম। এছাড়া সৎকর্মীদের জন্য সুসংবাদ ও অবিশ্বাসীদের জন্য শাস্তির ঘোষণা রয়েছে। রাসুল ﷺ সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আদমের সৃষ্টি থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের ফেতনার মতো বড় ফেতনা আর নেই। (মুসলিম শরিফ)। সূরা কাহাফ হলো সেই ভয়াবহ ফিতনার বিরুদ্ধে ঈমানদারদের জন্য একটি ঢাল।

বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত যে কোনো সময়ে সূরা কাহাফ পাঠ করলে হাদিস অনুযায়ী এর পূর্ণ ফজিলত পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।