ঢাকা , শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনে ১,৪০০ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ‘শেখ হাসিনার চিঠি’ স্মার্টফোনের মতো চার্জ লাগবে ২০২৬ বিশ্বকাপ বলে ! ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প ব্রেক ফেল করা বাস যাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে হেল্পার নিহত মিরপুর চিড়িয়াখানার নাম বদলে ‘হোয়াইট হাউস’ রাখার দাবি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের মসজিদের টাকায় কুরবানির ছুরি কেনার জেরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৬ সন্তানকে নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, নিখোঁজ শিশু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনে ২৪৯ খুন

শব্দের গতির চেয়েও দ্রুত চলবে তুরস্কের চালকবিহীন যুদ্ধবিমান!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
  • ৫১৭ বার পড়া হয়েছে

এটা দেখতে অবিকল ফাইটার জেটের মতো, তবে এতে নেই কোনো পাইলট। শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটতে সক্ষম এমন পঞ্চম প্রজন্মের এক অত্যাধুনিক চালকবিহীন যুদ্ধবিমান উদ্ভাবন করেছে তুরস্ক। এর নাম কিজিলেলমা (Kızılelma)। সফলভাবে পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে সম্প্রতি।

এদিকে বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী ড্রোন ভাণ্ডারের জন্য সুপরিচিত তুরস্ক বরাবরই নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মনুষ্যবিহীন আকাশযানের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায়, খ্যাতনামা প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বেইকার টেকনোলজিস (Baykar Technologies) নতুন এই যুদ্ধযানটি তৈরি করেছে। এর আগে টিভি-টু (TB2) ও আকিঞ্জি (Akıncı)-এর মতো সফল ড্রোনের নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠানটিই।

কিজিলেলমা দেখতে যুদ্ধবিমানের মতো হলেও এটি একটি সম্পূর্ণ চালকবিহীন আকাশযান। এটি তুরস্কের প্রথম জেট ফুয়েল চালিত ড্রোন, যাতে ব্যবহার করা হয়েছে ইউক্রেনীয় প্রযুক্তি—AI-322F মডেলের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনের সাহায্যে এটি শব্দের গতির চেয়েও বেশি বেগে উড়তে সক্ষম।

মাত্র ১৪.৫ মিটার (প্রায় ৪৮ ফুট) দৈর্ঘ্যের কিজিলেলমা আকাশযানটি দেড় টন পর্যন্ত পেইলোড বহন করতে পারে এবং সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। এটি একটানা তিন ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে থাকতে পারে। আধুনিক কমব্যাট মিশনের জন্য তৈরি এই ড্রোনটিতে লেজার গাইডেড অস্ত্র ছাড়াও যুক্ত করা যায় দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। বর্তমানে কিজিলেলমার তিনটি ভিন্ন সংস্করণ রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কিছু শব্দের চেয়ে বেশি, আবার কিছু কম গতিতে চলার উপযোগী।

তুরস্ক দাবি করছে, কিজিলেলমা যুদ্ধক্ষেত্রসহ বিভিন্ন কমব্যাট অপারেশনে ফাইটার জেটের মতো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। ইতোমধ্যে এটি সীমান্তবর্তী এলাকায় মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশ তুরস্কের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করছে, আর কিজিলেলমা সেই ড্রোন ক্ষমতাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছে আঙ্কারা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনে ১,৪০০ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ‘শেখ হাসিনার চিঠি’

শব্দের গতির চেয়েও দ্রুত চলবে তুরস্কের চালকবিহীন যুদ্ধবিমান!

আপডেট সময় ১০:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

এটা দেখতে অবিকল ফাইটার জেটের মতো, তবে এতে নেই কোনো পাইলট। শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটতে সক্ষম এমন পঞ্চম প্রজন্মের এক অত্যাধুনিক চালকবিহীন যুদ্ধবিমান উদ্ভাবন করেছে তুরস্ক। এর নাম কিজিলেলমা (Kızılelma)। সফলভাবে পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে সম্প্রতি।

এদিকে বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী ড্রোন ভাণ্ডারের জন্য সুপরিচিত তুরস্ক বরাবরই নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মনুষ্যবিহীন আকাশযানের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায়, খ্যাতনামা প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বেইকার টেকনোলজিস (Baykar Technologies) নতুন এই যুদ্ধযানটি তৈরি করেছে। এর আগে টিভি-টু (TB2) ও আকিঞ্জি (Akıncı)-এর মতো সফল ড্রোনের নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠানটিই।

কিজিলেলমা দেখতে যুদ্ধবিমানের মতো হলেও এটি একটি সম্পূর্ণ চালকবিহীন আকাশযান। এটি তুরস্কের প্রথম জেট ফুয়েল চালিত ড্রোন, যাতে ব্যবহার করা হয়েছে ইউক্রেনীয় প্রযুক্তি—AI-322F মডেলের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনের সাহায্যে এটি শব্দের গতির চেয়েও বেশি বেগে উড়তে সক্ষম।

মাত্র ১৪.৫ মিটার (প্রায় ৪৮ ফুট) দৈর্ঘ্যের কিজিলেলমা আকাশযানটি দেড় টন পর্যন্ত পেইলোড বহন করতে পারে এবং সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। এটি একটানা তিন ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে থাকতে পারে। আধুনিক কমব্যাট মিশনের জন্য তৈরি এই ড্রোনটিতে লেজার গাইডেড অস্ত্র ছাড়াও যুক্ত করা যায় দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। বর্তমানে কিজিলেলমার তিনটি ভিন্ন সংস্করণ রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কিছু শব্দের চেয়ে বেশি, আবার কিছু কম গতিতে চলার উপযোগী।

তুরস্ক দাবি করছে, কিজিলেলমা যুদ্ধক্ষেত্রসহ বিভিন্ন কমব্যাট অপারেশনে ফাইটার জেটের মতো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। ইতোমধ্যে এটি সীমান্তবর্তী এলাকায় মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশ তুরস্কের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করছে, আর কিজিলেলমা সেই ড্রোন ক্ষমতাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছে আঙ্কারা।