ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুদ্ধ নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনার মাঝেই ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য কলকাতায় শুভেন্দুর সহকারীকে গুলি করে হত্যা ‘ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক’, মমতার হুঙ্কার ‘কামব্যাক কমরেড’, মির্জা আব্বাসের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শুনেছি খালেদা জিয়ার দৃঢ়তার সঙ্গে আমার মিল আছে: মেঘনা আলম পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় চারজন নিহত যুবলীগের কর্মী অর্ঘ্য হচ্ছেন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সরকার এমন একটি প্রশাসন চায়, যেখানে মানুষ হয়রানি মুক্ত সেবা পাবে: প্রধানমন্ত্রী আমি পদত্যাগ করব না, রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক: মমতা স্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে আগারগাঁও গেলেন প্রধানমন্ত্রী

আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানো মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে রাজসাক্ষীর বিস্ফোরক জবানবন্দি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৪১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪৮ বার পড়া হয়েছে

গণঅভ্যুত্থানের সময় গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুড়িয়ে ফেলা মানুষদের রক্ষা করতে না পারায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন পুলিশের সাবেক এসআই ও রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক। বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এদিন আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন আবজালুল।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ছাত্র–জনতার আন্দোলন চলাকালে আশুলিয়া থানার ওসি এ এফ এম সায়েদকে আন্দোলন দমন ও বিরোধীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিতই নির্দেশ দিতেন এমপি সাইফুল ইসলাম। এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেন ওসি সায়েদ।

তিনি জানান, ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওসি সায়েদ থানার সব কর্মকর্তা ও ফোর্সকে নিচে ডেকে আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দেন। দুপুর আড়াইটার দিকে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার খবর পেয়ে ওসি থানা ফিরে আসেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে ছাত্র–জনতার মিছিল থানা অভিমুখে এলে তার নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুলি চালায়। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওসির নির্দেশে তাদের লাশ ভ্যানে তুলে থানায় আনা হয়।

এই দৃশ্য দেখার পর তিনি ট্রমায় পড়েন বলে জানান এসআই আবজালুল। তিনি আরও বলেন, পরদিন থানায় গিয়ে নিজের নামে ইস্যুকৃত পিস্তল জমা দিলে জানতে পারেন—গুলিতে নিহতদের লাশ সেই রাতেই ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ মিলে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে ফেলেন। এরপর তারা সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টে চলে যান।

জবানবন্দিতে আবজালুল অভিযোগ করেন, তৎকালীন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভারের অতিরিক্ত এসপি আব্দুল্লাহিল কাফি ও সার্কেল এএসপি শাহিদুল কেউই এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেননি।

তিনি আরও বলেন, “আমি গত মে মাসে গ্রেপ্তার হই। কিন্তু বিবেকের তাড়নায়, শহীদ ভাইদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, কোনো প্ররোচনা ছাড়া রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করি। তাদের রক্ষা করতে না পারায় আমি পরিবারগুলোর কাছে ও ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চাইছি।”

জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান তাকে আংশিক জেরা করেন। বাকি জেরা আজ অনুষ্ঠিত হবে।


চানখাঁরপুল মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

একই দিনে গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

২৬ নম্বর সাক্ষী অতিরিক্ত এসপি মনিরুল ইসলাম তার জবানবন্দিতে গত বছরের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে সংঘটিত ছয় হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন।

ট্রাইব্যুনাল–১ বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে আগামী রোববার জেরা গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধ নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনার মাঝেই ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য

আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানো মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে রাজসাক্ষীর বিস্ফোরক জবানবন্দি

আপডেট সময় ০৭:৪১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

গণঅভ্যুত্থানের সময় গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুড়িয়ে ফেলা মানুষদের রক্ষা করতে না পারায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন পুলিশের সাবেক এসআই ও রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক। বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এদিন আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন আবজালুল।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ছাত্র–জনতার আন্দোলন চলাকালে আশুলিয়া থানার ওসি এ এফ এম সায়েদকে আন্দোলন দমন ও বিরোধীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিতই নির্দেশ দিতেন এমপি সাইফুল ইসলাম। এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেন ওসি সায়েদ।

তিনি জানান, ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওসি সায়েদ থানার সব কর্মকর্তা ও ফোর্সকে নিচে ডেকে আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দেন। দুপুর আড়াইটার দিকে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার খবর পেয়ে ওসি থানা ফিরে আসেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে ছাত্র–জনতার মিছিল থানা অভিমুখে এলে তার নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুলি চালায়। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওসির নির্দেশে তাদের লাশ ভ্যানে তুলে থানায় আনা হয়।

এই দৃশ্য দেখার পর তিনি ট্রমায় পড়েন বলে জানান এসআই আবজালুল। তিনি আরও বলেন, পরদিন থানায় গিয়ে নিজের নামে ইস্যুকৃত পিস্তল জমা দিলে জানতে পারেন—গুলিতে নিহতদের লাশ সেই রাতেই ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ মিলে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে ফেলেন। এরপর তারা সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টে চলে যান।

জবানবন্দিতে আবজালুল অভিযোগ করেন, তৎকালীন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভারের অতিরিক্ত এসপি আব্দুল্লাহিল কাফি ও সার্কেল এএসপি শাহিদুল কেউই এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেননি।

তিনি আরও বলেন, “আমি গত মে মাসে গ্রেপ্তার হই। কিন্তু বিবেকের তাড়নায়, শহীদ ভাইদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, কোনো প্ররোচনা ছাড়া রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করি। তাদের রক্ষা করতে না পারায় আমি পরিবারগুলোর কাছে ও ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চাইছি।”

জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান তাকে আংশিক জেরা করেন। বাকি জেরা আজ অনুষ্ঠিত হবে।


চানখাঁরপুল মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

একই দিনে গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

২৬ নম্বর সাক্ষী অতিরিক্ত এসপি মনিরুল ইসলাম তার জবানবন্দিতে গত বছরের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে সংঘটিত ছয় হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন।

ট্রাইব্যুনাল–১ বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে আগামী রোববার জেরা গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।