ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘আমি বা ইতালি মিনতি করে না’, ছবি তোলা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে ক্ষুব্ধ মেলোনি মোহাম্মদপুরে অফিসে ঢুকে কিশোর গ্যাংয়ের চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ধর্ষণ মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আশরাফ হাকিমি ‘সাকলায়েনের বিদায়’ এড়িয়ে গেলেন পরীমণি জেডি ভ্যান্সের ‘ধমকে’ থামলো ইসরাইল, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর অপতথ্য প্রচার নিয়ে বিবৃতি দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মরক্কো-স্কটল্যান্ডে ঝুঁলছে ব্রাজিলের গ্রুপ ভাগ্য মেহেরপুর সীমান্তে চারজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফ ৬ কোটি টাকার বৃত্তি পেলেন চাঁদপুরের সানজিদা তুলি আজ থেকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল-লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী : অ্যাক্সিওস

আমার বাবাকে এনে দেন’ বলেই মূর্ছা যাচ্ছেন সুদানে নিহত জাহাঙ্গীরের মা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪২৩ বার পড়া হয়েছে

এবার সুদানের আবেই এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষীর মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের (৩০) বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামে। গত ৭ নভেম্বর তিনি সুদানে যান। তার মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়িতে হাহাকার আর মাতম। জানা গেছে, নিহত জাহাঙ্গীর আলম ঐ গ্রামের আকন্দ বাড়ির হযরত আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেসওয়েটার পদে কর্মরত ছিলেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন মেঝো। বড় ভাই মো. মোস্তফা প্রবাসী এবং ছোট ভাই মো. শাহিন মিয়া বাড়িতে কৃষিকাজ করেন। স্ত্রী আর তিন বছরের একমাত্র ছেলে ইরফানকে রেখে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ির উঠোনজুড়ে এখন শুধু কান্না আর হাহাকার। বাবার আদর কী, তা বোঝার আগেই পিতৃহারা হলো ছোট্ট ইরফান।

প্রায় এগারো বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন নিয়ে এক মাস সাত দিন আগে সুদানে যান তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানকে ভালো ভবিষ্যৎ দেয়ার আশাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশের মাটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুর খবরে তারাকান্দি গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।

প্রতিবেশীরা বলছেন, শান্ত স্বভাবের এই মানুষটি দেশের জন্য জীবন দিয়ে গেলেন। এলাকায় শোকের মাতম চলছে। সবাই এক কণ্ঠে শহীদ জাহাঙ্গীর আলমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন এবং তার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

নিহতের বাবা হযরত আলী বলেন, ‘এক মাস আগে আমার বাবা গেছে মিশনে। সে যাওয়ার সময় বলেছে তার ছেলে কে দেখে শুনে রাখতে। আর আমাকে বলেছে কাজ কাম কম করতে যেহেতু আমি অসুস্থ। সে দেশে এসে আমাকে টাকা দিবে এবং যাওয়া সময়ও সে টাকা দিয়ে গেছে। আমার বাবা আর এখন নেই।’ নিহতের মা পালিমা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার বাবাকে এনে দেন।’ এ বলেই মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। পাকুন্দিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, আমি ঘটনার শোনার পরই পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমি বা ইতালি মিনতি করে না’, ছবি তোলা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে ক্ষুব্ধ মেলোনি

আমার বাবাকে এনে দেন’ বলেই মূর্ছা যাচ্ছেন সুদানে নিহত জাহাঙ্গীরের মা

আপডেট সময় ০৪:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার সুদানের আবেই এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষীর মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের (৩০) বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামে। গত ৭ নভেম্বর তিনি সুদানে যান। তার মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়িতে হাহাকার আর মাতম। জানা গেছে, নিহত জাহাঙ্গীর আলম ঐ গ্রামের আকন্দ বাড়ির হযরত আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেসওয়েটার পদে কর্মরত ছিলেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন মেঝো। বড় ভাই মো. মোস্তফা প্রবাসী এবং ছোট ভাই মো. শাহিন মিয়া বাড়িতে কৃষিকাজ করেন। স্ত্রী আর তিন বছরের একমাত্র ছেলে ইরফানকে রেখে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ির উঠোনজুড়ে এখন শুধু কান্না আর হাহাকার। বাবার আদর কী, তা বোঝার আগেই পিতৃহারা হলো ছোট্ট ইরফান।

প্রায় এগারো বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন নিয়ে এক মাস সাত দিন আগে সুদানে যান তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানকে ভালো ভবিষ্যৎ দেয়ার আশাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশের মাটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুর খবরে তারাকান্দি গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।

প্রতিবেশীরা বলছেন, শান্ত স্বভাবের এই মানুষটি দেশের জন্য জীবন দিয়ে গেলেন। এলাকায় শোকের মাতম চলছে। সবাই এক কণ্ঠে শহীদ জাহাঙ্গীর আলমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন এবং তার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

নিহতের বাবা হযরত আলী বলেন, ‘এক মাস আগে আমার বাবা গেছে মিশনে। সে যাওয়ার সময় বলেছে তার ছেলে কে দেখে শুনে রাখতে। আর আমাকে বলেছে কাজ কাম কম করতে যেহেতু আমি অসুস্থ। সে দেশে এসে আমাকে টাকা দিবে এবং যাওয়া সময়ও সে টাকা দিয়ে গেছে। আমার বাবা আর এখন নেই।’ নিহতের মা পালিমা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার বাবাকে এনে দেন।’ এ বলেই মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। পাকুন্দিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, আমি ঘটনার শোনার পরই পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে।