ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দখলমুক্ত হচ্ছে ডিএনসিসির ২৯ খাল তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগে কড়া জবাব চীনের মারা গেলেন কোরআন বুকে নিয়ে মহাকাশে যাওয়া সেই মুসলিম নভোচারী বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্যে কি খুলছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার? সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন দিতে বাংলালিংককে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আর নেই রাম মন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারিতে বিপাকে মোদি সরকার চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ, রক্তাক্ত ইউনিয়ন বিএনপি নেতা বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি সত্ত্বেও কিছু জায়গায় লোডশেডিং থাকবে: বিদ্যুৎ মন্ত্রী অর্ধেকে নামছে হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের খরচ

খেলতে গিয়ে পাইলিংয়ের গর্তে পড়ে ঝরল ২ ভাইয়ের প্রাণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • ৫৯১ বার পড়া হয়েছে

এবার কিশোরগঞ্জে পাইলিংয়ের গর্তের পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন সদর উপজেলার নগুয়া কদম তলার মমিন মিয়ার ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৪) ও পাকুন্দিয়া উপজেলার মসুয়া এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে মাহাদ হোসেন (৫)। সম্পর্কে দুজন মামাতো ফুফাতো ভাই। রোববার  রাতে সদর উপজেলার নগুয়া কদমতলা এলাকায় ঘরের পাশে গর্তে পড়ে মারা যায় তারা। সোমবার (২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এদিকে পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘরের পাশে স্বপন মিয়া নামে এক ব্যক্তি বাড়ি করার জন্য পিলার স্থাপন করতে গর্ত করেন। বিকেলে মাহাদ ও ওবায়দুল্লাহ ঘর থেকে বাহিরে খেলা করতে বের হয়। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খুঁজতে গিয়ে সেই গর্তের ভেতর পানিতে তাদের ভেসে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্ত্যবরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওবায়দুল্লাহ’র মা মরিয়ম আক্তার বলেন, আমার বিয়ের দশ বছর পর একটা ছেলে সন্তান হয়েছে। অনেক স্বপ্ন ছিল তাকে নিয়ে। সেই স্বপ্ন আমার এভাবে ভাঙবে বুঝতে পারিনি। বিকেলে বাড়ির ওঠানে দুজন খেলা করছিল। কোন ফাঁক দিয়ে বাহিরে চলে গেছে বুঝতে পারিনি। এতো বড় বাড়ি করবে আর পিলার দেওয়ার জন্য এতো বড় গর্ত করছে কোন প্রটেকশান নাই। গর্তে পানি জমে থাকায় সেখানে গিয়ে পড়ে মারা গেছে আমার সন্তান। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ায় খোঁজাখুজির একপর্যায়ে গর্তের মধ্যে গিয়ে দুজনকে ভেসে থাকতে দেখি।

মাহাদ হোসেনের মা সুমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী প্রবাসী। ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বিকেলে বেড়াতে আসছি। দুজন উঠানে খেলা করছিল। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ায় কোন খোঁজ খবর পাচ্ছিলাম না। ভেবেছিলাম আশপাশের বাড়িতে মনে হয়ে খেলা করতেছে। পরে খোঁজ নিয়ে বাড়ি ঘরে না পেয়ে মসজিদের মাইকিং করা হয়। সন্ধ্যার পর ঘরের পাশে গর্তে দুজনকে একসঙ্গে পাওয়া যায়। হাসপাতাল নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কায়সার আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হাসপাতালে দুই শিশু সন্তানকে তাদের স্বজনরা নিয়ে আসে। দুজনই পানিতে পড়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই দুজন মারা যায়। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছি। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দখলমুক্ত হচ্ছে ডিএনসিসির ২৯ খাল

খেলতে গিয়ে পাইলিংয়ের গর্তে পড়ে ঝরল ২ ভাইয়ের প্রাণ

আপডেট সময় ১২:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

এবার কিশোরগঞ্জে পাইলিংয়ের গর্তের পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন সদর উপজেলার নগুয়া কদম তলার মমিন মিয়ার ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৪) ও পাকুন্দিয়া উপজেলার মসুয়া এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে মাহাদ হোসেন (৫)। সম্পর্কে দুজন মামাতো ফুফাতো ভাই। রোববার  রাতে সদর উপজেলার নগুয়া কদমতলা এলাকায় ঘরের পাশে গর্তে পড়ে মারা যায় তারা। সোমবার (২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এদিকে পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘরের পাশে স্বপন মিয়া নামে এক ব্যক্তি বাড়ি করার জন্য পিলার স্থাপন করতে গর্ত করেন। বিকেলে মাহাদ ও ওবায়দুল্লাহ ঘর থেকে বাহিরে খেলা করতে বের হয়। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খুঁজতে গিয়ে সেই গর্তের ভেতর পানিতে তাদের ভেসে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্ত্যবরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওবায়দুল্লাহ’র মা মরিয়ম আক্তার বলেন, আমার বিয়ের দশ বছর পর একটা ছেলে সন্তান হয়েছে। অনেক স্বপ্ন ছিল তাকে নিয়ে। সেই স্বপ্ন আমার এভাবে ভাঙবে বুঝতে পারিনি। বিকেলে বাড়ির ওঠানে দুজন খেলা করছিল। কোন ফাঁক দিয়ে বাহিরে চলে গেছে বুঝতে পারিনি। এতো বড় বাড়ি করবে আর পিলার দেওয়ার জন্য এতো বড় গর্ত করছে কোন প্রটেকশান নাই। গর্তে পানি জমে থাকায় সেখানে গিয়ে পড়ে মারা গেছে আমার সন্তান। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ায় খোঁজাখুজির একপর্যায়ে গর্তের মধ্যে গিয়ে দুজনকে ভেসে থাকতে দেখি।

মাহাদ হোসেনের মা সুমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী প্রবাসী। ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বিকেলে বেড়াতে আসছি। দুজন উঠানে খেলা করছিল। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ায় কোন খোঁজ খবর পাচ্ছিলাম না। ভেবেছিলাম আশপাশের বাড়িতে মনে হয়ে খেলা করতেছে। পরে খোঁজ নিয়ে বাড়ি ঘরে না পেয়ে মসজিদের মাইকিং করা হয়। সন্ধ্যার পর ঘরের পাশে গর্তে দুজনকে একসঙ্গে পাওয়া যায়। হাসপাতাল নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কায়সার আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হাসপাতালে দুই শিশু সন্তানকে তাদের স্বজনরা নিয়ে আসে। দুজনই পানিতে পড়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই দুজন মারা যায়। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছি। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।