ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিগত ১৮ বছরে লোভ–লালসায় পা দিইনি: তথ্যমন্ত্রী পার্থ স্বৈরাচারের সময়ে বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী নিজের বি’রুদ্ধে অভি/যোগের প্রমাণ উন্মুক্ত করতে বললেন আসিফ মাহমুদ পে-স্কেল: ৫৩ বছরে ১৩০ থেকে পৌঁছেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেওয়ার দাবি নাকচ করল মালয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বং’স করতে ইরানকে গোপনে ‘ক্ষেপ/ণা/স্ত্র’ সহায়তা করছে রাশিয়া চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে নারীকে ধ/র্ষণ, চার পুলিশ সদস্যের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন কমলো এলপিজির দাম, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আর নেই

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৮১৮ বার পড়া হয়েছে

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, গবেষক ও বহু গ্রন্থপ্রণেতা মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২৯ জুন) ভারতের লখনউয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। পরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তার ইন্তেকালের খবরে ভারতসহ পুরো উপমহাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলেম-উলামা ও শিক্ষাবিদরা তার মৃত্যু ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও দাওয়াহ অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আসর নামাজের পর জামিয়া সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। জানাজায় দেশ-বিদেশের অসংখ্য আলেম, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৫৪ সালে ভারতের লখনউয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সালমান নদভি। লখনউয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষাজীবন শুরু করে সেখানেই হিফজ, স্নাতক ও হাদিসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাদিস গবেষণায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দাওয়াহ ও শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। আরবি ও উর্দু ভাষায় ইসলামী ধর্মতত্ত্ব, ইতিহাস, আকিদা ও হাদিস বিষয়ে তার অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইংরেজি, আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষার বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকীর সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ড. আব্দুল আলী ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, জামেয়া দারুল উলুম সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলির চ্যান্সেলর এবং জমিয়ত শাবাব উল ইসলামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে আজীবন নিবেদিত এই আলেমের ইন্তেকালে মুসলিম বিশ্ব একজন প্রভাবশালী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদকে হারালো।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিগত ১৮ বছরে লোভ–লালসায় পা দিইনি: তথ্যমন্ত্রী পার্থ

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভি আর নেই

আপডেট সময় ০৫:১৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, গবেষক ও বহু গ্রন্থপ্রণেতা মাওলানা সাইয়েদ সালমান হুসাইনি নদভি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২৯ জুন) ভারতের লখনউয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। পরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তার ইন্তেকালের খবরে ভারতসহ পুরো উপমহাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলেম-উলামা ও শিক্ষাবিদরা তার মৃত্যু ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও দাওয়াহ অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আসর নামাজের পর জামিয়া সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। জানাজায় দেশ-বিদেশের অসংখ্য আলেম, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৫৪ সালে ভারতের লখনউয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সালমান নদভি। লখনউয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষাজীবন শুরু করে সেখানেই হিফজ, স্নাতক ও হাদিসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাদিস গবেষণায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দাওয়াহ ও শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। আরবি ও উর্দু ভাষায় ইসলামী ধর্মতত্ত্ব, ইতিহাস, আকিদা ও হাদিস বিষয়ে তার অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইংরেজি, আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষার বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকীর সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ড. আব্দুল আলী ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, জামেয়া দারুল উলুম সাইয়েদ আহমদ শহিদ কাটোলির চ্যান্সেলর এবং জমিয়ত শাবাব উল ইসলামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে আজীবন নিবেদিত এই আলেমের ইন্তেকালে মুসলিম বিশ্ব একজন প্রভাবশালী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদকে হারালো।