ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সুখবর, সহায়তার ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থনা করি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন আর ভালো না হয়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী বরিশালে হাসপাতালের বেডে শুয়েই অশ্লীলতা দুই সমকামী তরুণীর টিফিনে শিক্ষার্থীদের কাঁচা কলা খাওয়ানো সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত প্রেমিকের সঙ্গে থাকার দাবিতে মোবাইল টাওয়ারে উঠলেন বিবাহিত নারী মঙ্গলবার দেশের কোথাও লোডশেডিং হয়নি: বিদ্যুৎ বিভাগ সরকার চাইলে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে পারে: রুমিন ফারহানা দেশের ৩৭৮১৪ পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন

প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না: জামায়াত আমির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

এবার প্রয়োজনে জীবন দেবো; তবুও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আগের মতো গায়ের জোরে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে যুবসমাজ তা প্রতিহত করবে। জুলাই বিপ্লবের যুবসমাজ ঘুমিয়ে যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী সাইফুল আলম মিলনের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার মাধ্যমে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’নষ্ট করা হচ্ছে। নারীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে; সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে। এর ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই এই ব্যর্থতার দায় নিতে হবে। ৫ আগস্টের পর জামায়াত কারও বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা বা হয়রানি করেনি দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের অভিনন্দন জানাবে। আমরা বিজয়ী হলে আমাদেরকে মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা অন্যদেরও থাকতে হবে।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে সংসদ সদস্যদেরকে বছরে তাঁর সব আয়-ব্যয় ও কার্যক্রম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মুক্তিকামী মজলুম জনগণ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদেরই বিজয়ী করবে; এতে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। সেই নির্বাচনের ফলাফল বার্তা দেবে- এরা কোনো চাঁদাবাজি করে না এবং কোনো চাঁদাবাজি বরদাশত করবে না।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে সাথে সাথেই ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবস হয়ে যাবে; বাকী ১০ ভাগকে বুঝাবো; না মানলে যা করার দরকার তাই করা হবে। চেহারা না দেখেই সেদিন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের স্বার্থে সেদিন আমরা নির্দয়-নিষ্ঠুর হবো। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দেশের প্রধান সমস্যা; এগুলো বন্ধ হলে বাংলাদেশ জাম্প দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে; দেশের উন্নয়ন হবে। সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের কারণে কৃষক তাঁর পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে— উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত মাসের ২৮ তারিখে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের রুখে দিয়েছিলেন; কারওয়ান বাজারের মতো সারা দেশের ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৯০ শতাংশ চাঁদাবাজির ‘হাত অবশ’ হয়ে যাবে। চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজ বললেই তাদের গায়ে ফোসকা পড়ে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে চাঁদাবাজি বন্ধে জামায়াত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাঠে কাজ করবে। যুবকদের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজকে আর চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদকগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। বিশ্বের কোথাও বাংলাদেশের মতো এত যুবসমাজ নাই। প্রত্যেক যুবক আমাদের দেশ গড়ার কারিগর। আমরা যুবক-যুবতীদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করব না। আমরা তাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৪:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

এবার প্রয়োজনে জীবন দেবো; তবুও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আগের মতো গায়ের জোরে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে যুবসমাজ তা প্রতিহত করবে। জুলাই বিপ্লবের যুবসমাজ ঘুমিয়ে যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী সাইফুল আলম মিলনের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার মাধ্যমে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’নষ্ট করা হচ্ছে। নারীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে; সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে। এর ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই এই ব্যর্থতার দায় নিতে হবে। ৫ আগস্টের পর জামায়াত কারও বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা বা হয়রানি করেনি দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের অভিনন্দন জানাবে। আমরা বিজয়ী হলে আমাদেরকে মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা অন্যদেরও থাকতে হবে।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে সংসদ সদস্যদেরকে বছরে তাঁর সব আয়-ব্যয় ও কার্যক্রম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মুক্তিকামী মজলুম জনগণ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদেরই বিজয়ী করবে; এতে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। সেই নির্বাচনের ফলাফল বার্তা দেবে- এরা কোনো চাঁদাবাজি করে না এবং কোনো চাঁদাবাজি বরদাশত করবে না।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে সাথে সাথেই ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবস হয়ে যাবে; বাকী ১০ ভাগকে বুঝাবো; না মানলে যা করার দরকার তাই করা হবে। চেহারা না দেখেই সেদিন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের স্বার্থে সেদিন আমরা নির্দয়-নিষ্ঠুর হবো। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দেশের প্রধান সমস্যা; এগুলো বন্ধ হলে বাংলাদেশ জাম্প দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে; দেশের উন্নয়ন হবে। সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের কারণে কৃষক তাঁর পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে— উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত মাসের ২৮ তারিখে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের রুখে দিয়েছিলেন; কারওয়ান বাজারের মতো সারা দেশের ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৯০ শতাংশ চাঁদাবাজির ‘হাত অবশ’ হয়ে যাবে। চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজ বললেই তাদের গায়ে ফোসকা পড়ে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে চাঁদাবাজি বন্ধে জামায়াত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাঠে কাজ করবে। যুবকদের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজকে আর চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদকগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। বিশ্বের কোথাও বাংলাদেশের মতো এত যুবসমাজ নাই। প্রত্যেক যুবক আমাদের দেশ গড়ার কারিগর। আমরা যুবক-যুবতীদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করব না। আমরা তাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব।