ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনাকে ছাড়া ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে

এবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী বাধা নন। তার উপস্থিতি ছাড়াও দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত। ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন দ্য উইক–কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আসন্ন নির্বাচন, দলীয় সংস্কার এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় তিনি পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান, সীমান্তে হত্যা বন্ধ এবং বাণিজ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সাক্ষাৎকারে ‘দ্য উইক’-এর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট এডিটর নম্রতা বিজি আহুজার প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, পানি বণ্টন ইস্যুতে কেবল আলোচনা নয়, আন্তরিক সমাধান প্রয়োজন। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি বন্ধ হওয়া জরুরি। পাশাপাশি বাণিজ্য বৈষম্য ন্যায্যভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, ক্রিকেট ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি অপ্রয়োজনীয় ছিল, যা দুই পক্ষেই প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সার্বভৌমত্ব, আত্মসম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করা দরকার। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর শোকের সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর–এর বাংলাদেশ সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভূমিকা ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলবে—এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি একটি ফ্যাক্টর হলেও তা অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মাধ্যমেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে তিনি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। দুই দেশের সম্পর্ক ব্যক্তিবিশেষের ঊর্ধ্বে গিয়ে এগোনো উচিত।

ছাত্রদের উদ্যোগে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সঙ্গে বিএনপি কেন জোটে যায়নি—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আলোচনা হয়েছিল, তবে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা সম্ভব হয়নি। এনসিপি বেশি আসন দাবি করেছিল, যা দেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, নতুন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে বিএনপি নিশ্চিত ছিল না, কারণ বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্ব বেশি। ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পাকিস্তানের প্রতি নরম অবস্থান নিচ্ছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতেই হবে। এটিই বিএনপির অবস্থান।

জাতীয় নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটাররা তাদের অধিকার ফিরে পেতে আগ্রহী। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো জোট হবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি সরাসরি ‘না’ বলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার গঠন হলে কেবল আন্দোলনের সঙ্গী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার হবে; সেখানে জামায়াতের থাকার সুযোগ নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর দেশে ফেরা এবং ‘৩১ দফা’ সংস্কার কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে তরুণদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিএনপির পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনাকে ছাড়া ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ১০:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী বাধা নন। তার উপস্থিতি ছাড়াও দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত। ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন দ্য উইক–কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আসন্ন নির্বাচন, দলীয় সংস্কার এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় তিনি পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান, সীমান্তে হত্যা বন্ধ এবং বাণিজ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সাক্ষাৎকারে ‘দ্য উইক’-এর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট এডিটর নম্রতা বিজি আহুজার প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, পানি বণ্টন ইস্যুতে কেবল আলোচনা নয়, আন্তরিক সমাধান প্রয়োজন। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি বন্ধ হওয়া জরুরি। পাশাপাশি বাণিজ্য বৈষম্য ন্যায্যভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, ক্রিকেট ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি অপ্রয়োজনীয় ছিল, যা দুই পক্ষেই প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সার্বভৌমত্ব, আত্মসম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করা দরকার। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর শোকের সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর–এর বাংলাদেশ সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভূমিকা ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলবে—এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি একটি ফ্যাক্টর হলেও তা অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মাধ্যমেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে তিনি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। দুই দেশের সম্পর্ক ব্যক্তিবিশেষের ঊর্ধ্বে গিয়ে এগোনো উচিত।

ছাত্রদের উদ্যোগে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সঙ্গে বিএনপি কেন জোটে যায়নি—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আলোচনা হয়েছিল, তবে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা সম্ভব হয়নি। এনসিপি বেশি আসন দাবি করেছিল, যা দেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, নতুন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে বিএনপি নিশ্চিত ছিল না, কারণ বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্ব বেশি। ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পাকিস্তানের প্রতি নরম অবস্থান নিচ্ছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতেই হবে। এটিই বিএনপির অবস্থান।

জাতীয় নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটাররা তাদের অধিকার ফিরে পেতে আগ্রহী। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো জোট হবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি সরাসরি ‘না’ বলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার গঠন হলে কেবল আন্দোলনের সঙ্গী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার হবে; সেখানে জামায়াতের থাকার সুযোগ নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর দেশে ফেরা এবং ‘৩১ দফা’ সংস্কার কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে তরুণদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিএনপির পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।