ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান জামায়াতের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা: মির্জা ফখরুল এবার শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা আল্লাহ আমাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছেন: কারামুক্তির পর সিদ্দিক  পানি থেকে লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেল ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আছেন মা ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা শেষ: ট্রাম্প বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ৩ জেলার পাঁচ নদীর পানি বিএনপির সমাবেশে আইফোন চুরি, কুরআন তেলাওয়াত করিয়ে তওবা করালো জনতা সরকারের কাজের গতি দেখে বিরোধী দল ভয় পাচ্ছে: আবদুস সালাম রাজনৈতিক সহমর্মিতা বজায় রাখতে বিএনপি–জামায়াত বৈঠক

ভয়াবহ বিপদে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইসরায়েলি মেয়র, দোষ দিলেন নেতানিয়াহুকে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে

এবার লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর অবিরাম রকেট হামলার মুখে উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত সংলগ্ন জনপদগুলোতে এখন মৃত্যুপুরীর নিস্তব্ধতা। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যে নিজের শহরের বাসিন্দাদের বাঁচাতে না পারার আকুলতায় জনসমক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কিরিয়াত শমোনা শহরের মেয়র আভিচাই স্টার্ন। বুধবার (২৫ মার্চ) সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের তীব্র সমালোচনা করে একে একবড় পরাজয়হিসেবে অভিহিত করেছেন।

টাইমস অব ইসরায়েলএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা উত্তর ইসরায়েলের জনজীবনকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।  মেয়র স্টার্ন বলেন, ২৪ হাজার মানুষের এই সমৃদ্ধ শহরে এখন মাত্র ১০ হাজার বাসিন্দা অবশিষ্ট আছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে এক মাসের মধ্যে শহরটি পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়বে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্থানীয় মেয়রদের অনুরোধ করেছেন যেন তারা বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন অনুরোধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় কাউন্সিল প্রধানরা।  মেয়র স্টার্ন পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, যেখানে সাইরেন বাজার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়, সেখানে পর্যাপ্ত বোম শেল্টার ছাড়া মানুষ কীভাবে ঘরে থাকবে? স্টার্ন জরুরি ভিত্তিতে শহরের প্রায় ৪ হাজার ৭০০টি অরক্ষিত ঘরবাড়ি থেকে অক্ষম ও বৃদ্ধ মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “লেবানন বা ইরানে যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, যদি ইসরায়েলের নিজের একটি শহরই ধ্বংস হয়ে যায় বা জনশূন্য হয়, তবে তা হবে সবচেয়ে বড় পরাজয়।

শুধু স্টার্ন নন, মাত্তে আশের আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান মোশে দাভিদোভিচও সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে ঘোষিতনর্দান শিল্ডপ্রকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালেও হাজার হাজার মানুষ কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই হিজবুল্লাহর রকেটের মুখে বাস করছেন। সরকারি বাজেটে সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় ৫ হাজারেরও বেশি ভবন এখন চরম ঝুঁকিতে।

উত্তরাঞ্চলীয় মার্গালিওট মোশ্যাভের মেয়র ইতান দাভিদি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, সম্প্রতি রকেট হামলায় নিহত ২৭ বছর বয়সী নুরিএল দুবিন আগামী সেপ্টেম্বরে বিয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিয়ের মণ্ডপের বদলে তাকে এখন কবরে যেতে হলো।  দাভিদি আক্ষেপ করে বলেন, “ইসরায়েল আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এখন লেবাননের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।বৃহস্পতিবারও হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্লাস্টার বোমার আঘাতে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পাল্টা হামলার দাবি করলেও উত্তরের বাসিন্দারা বলছেন, তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

ভয়াবহ বিপদে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইসরায়েলি মেয়র, দোষ দিলেন নেতানিয়াহুকে

আপডেট সময় ১২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

এবার লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর অবিরাম রকেট হামলার মুখে উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত সংলগ্ন জনপদগুলোতে এখন মৃত্যুপুরীর নিস্তব্ধতা। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যে নিজের শহরের বাসিন্দাদের বাঁচাতে না পারার আকুলতায় জনসমক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কিরিয়াত শমোনা শহরের মেয়র আভিচাই স্টার্ন। বুধবার (২৫ মার্চ) সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের তীব্র সমালোচনা করে একে একবড় পরাজয়হিসেবে অভিহিত করেছেন।

টাইমস অব ইসরায়েলএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা উত্তর ইসরায়েলের জনজীবনকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।  মেয়র স্টার্ন বলেন, ২৪ হাজার মানুষের এই সমৃদ্ধ শহরে এখন মাত্র ১০ হাজার বাসিন্দা অবশিষ্ট আছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে এক মাসের মধ্যে শহরটি পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়বে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্থানীয় মেয়রদের অনুরোধ করেছেন যেন তারা বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন অনুরোধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় কাউন্সিল প্রধানরা।  মেয়র স্টার্ন পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, যেখানে সাইরেন বাজার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়, সেখানে পর্যাপ্ত বোম শেল্টার ছাড়া মানুষ কীভাবে ঘরে থাকবে? স্টার্ন জরুরি ভিত্তিতে শহরের প্রায় ৪ হাজার ৭০০টি অরক্ষিত ঘরবাড়ি থেকে অক্ষম ও বৃদ্ধ মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “লেবানন বা ইরানে যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, যদি ইসরায়েলের নিজের একটি শহরই ধ্বংস হয়ে যায় বা জনশূন্য হয়, তবে তা হবে সবচেয়ে বড় পরাজয়।

শুধু স্টার্ন নন, মাত্তে আশের আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান মোশে দাভিদোভিচও সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে ঘোষিতনর্দান শিল্ডপ্রকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালেও হাজার হাজার মানুষ কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই হিজবুল্লাহর রকেটের মুখে বাস করছেন। সরকারি বাজেটে সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় ৫ হাজারেরও বেশি ভবন এখন চরম ঝুঁকিতে।

উত্তরাঞ্চলীয় মার্গালিওট মোশ্যাভের মেয়র ইতান দাভিদি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, সম্প্রতি রকেট হামলায় নিহত ২৭ বছর বয়সী নুরিএল দুবিন আগামী সেপ্টেম্বরে বিয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিয়ের মণ্ডপের বদলে তাকে এখন কবরে যেতে হলো।  দাভিদি আক্ষেপ করে বলেন, “ইসরায়েল আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এখন লেবাননের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।বৃহস্পতিবারও হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্লাস্টার বোমার আঘাতে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পাল্টা হামলার দাবি করলেও উত্তরের বাসিন্দারা বলছেন, তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।