ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি মাদুরোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চান ভেনেজুয়েলার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ‘মুরগি’ বিশ্ব জ্বালানি বাজার আমেরিকা নয়, ইরানের হাতেই আছে: গালিবাফ কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার রহস্য উদঘাটন, যেভাবে গ্রেপ্তার হলো ঘাতকরা পঞ্চাশ বছর পর যশোরে পাশাপাশি বাবা-ছেলের নামফলক মার্কিন নৌ-অবরোধ তোয়াক্কা না করে ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল বাইরে পাঠালো ইরান: ডন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা: ছেলের প্রথম জন্মদিন আজ, বাবার মরদেহ সমাহিত হয়েছে গতকাল ড. ইউনূসের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র মর্যাদা ৬ মাস কমল আমার অধীনে বন্দি ছিলেন শেখ হাসিনা: জেরায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আযমী আমরা অনেক কথা বলি, কিন্তু বাস্তবায়ন করি না: বিডা চেয়ারম্যান

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’, ভারতে হতে পারে তীব্র খরা 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

এবার প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বজুড়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। চলতি বছরের মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে শক্তিশালীএল নিনোসক্রিয় হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই প্রাকৃতিক পর্যায়টি শেষ পর্যন্ত একটি বিরল ও ধ্বংসাত্মকসুপার এল নিনোতে রূপ নিতে পারে, যা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, মেজুলাই নাগাদ এল নিনো সৃষ্টির সম্ভাবনা অন্তত ৬১ শতাংশ। এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলপ্রবাহের একটি পর্যায়, যা বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ভারসাম্য ওলটপালট করে দেয়। এর বিপরীতে থাকে শীতল জলপ্রবাহের পর্যায়লা নিনা

সুপার এল নিনোর শঙ্কা কতটুকু? আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা অ্যাকুওয়েদারের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস প্রদানকারী পল প্যাস্টেলক জানান, প্রায় ১৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে এটিসুপার এল নিনোতে পরিণত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা টানা কয়েক মাস ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকলে তাকে সুপার এল নিনো বলা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ২০২৩২৪ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের ওপর প্রভাব- ওয়াশিংটন পোস্টের আবহাওয়াবিদ বেন নোল সতর্ক করেছেন যে, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ুতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে আগামী অক্টোবর নাগাদ মধ্য ও উত্তর ভারতে তীব্র খরা দেখা দেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাধাগ্রস্ত হলে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দেবে, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হবে:

যুক্তরাষ্ট্র: দেশটির মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টি বাড়লেও টেক্সাসসহ উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি রয়েছে।

আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা: মহাদেশ দুটির বড় একটি অংশে চরম উষ্ণতা ও খরার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া: বছরের শেষ নাগাদ ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ খরা দেখা দিতে পারে।

সমুদ্র ও হারিকেন: সাধারণত এল নিনো সক্রিয় থাকলে আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেনের প্রকোপ কমে আসে, তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রান্তীয় ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’, ভারতে হতে পারে তীব্র খরা 

আপডেট সময় ১০:১৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

এবার প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বজুড়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। চলতি বছরের মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে শক্তিশালীএল নিনোসক্রিয় হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই প্রাকৃতিক পর্যায়টি শেষ পর্যন্ত একটি বিরল ও ধ্বংসাত্মকসুপার এল নিনোতে রূপ নিতে পারে, যা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, মেজুলাই নাগাদ এল নিনো সৃষ্টির সম্ভাবনা অন্তত ৬১ শতাংশ। এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলপ্রবাহের একটি পর্যায়, যা বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ভারসাম্য ওলটপালট করে দেয়। এর বিপরীতে থাকে শীতল জলপ্রবাহের পর্যায়লা নিনা

সুপার এল নিনোর শঙ্কা কতটুকু? আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা অ্যাকুওয়েদারের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস প্রদানকারী পল প্যাস্টেলক জানান, প্রায় ১৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে এটিসুপার এল নিনোতে পরিণত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা টানা কয়েক মাস ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকলে তাকে সুপার এল নিনো বলা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ২০২৩২৪ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের ওপর প্রভাব- ওয়াশিংটন পোস্টের আবহাওয়াবিদ বেন নোল সতর্ক করেছেন যে, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ুতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে আগামী অক্টোবর নাগাদ মধ্য ও উত্তর ভারতে তীব্র খরা দেখা দেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাধাগ্রস্ত হলে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দেবে, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হবে:

যুক্তরাষ্ট্র: দেশটির মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টি বাড়লেও টেক্সাসসহ উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি রয়েছে।

আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা: মহাদেশ দুটির বড় একটি অংশে চরম উষ্ণতা ও খরার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া: বছরের শেষ নাগাদ ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ খরা দেখা দিতে পারে।

সমুদ্র ও হারিকেন: সাধারণত এল নিনো সক্রিয় থাকলে আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেনের প্রকোপ কমে আসে, তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রান্তীয় ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।