ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি মাদুরোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চান ভেনেজুয়েলার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ‘মুরগি’ বিশ্ব জ্বালানি বাজার আমেরিকা নয়, ইরানের হাতেই আছে: গালিবাফ কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার রহস্য উদঘাটন, যেভাবে গ্রেপ্তার হলো ঘাতকরা পঞ্চাশ বছর পর যশোরে পাশাপাশি বাবা-ছেলের নামফলক মার্কিন নৌ-অবরোধ তোয়াক্কা না করে ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল বাইরে পাঠালো ইরান: ডন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা: ছেলের প্রথম জন্মদিন আজ, বাবার মরদেহ সমাহিত হয়েছে গতকাল ড. ইউনূসের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র মর্যাদা ৬ মাস কমল আমার অধীনে বন্দি ছিলেন শেখ হাসিনা: জেরায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আযমী আমরা অনেক কথা বলি, কিন্তু বাস্তবায়ন করি না: বিডা চেয়ারম্যান

বিশ্ব জ্বালানি বাজার আমেরিকা নয়, ইরানের হাতেই আছে: গালিবাফ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ওয়াশিংটনের সীমাবদ্ধতা এবং তেহরানের কৌশলগত আধিপত্যের বিষয়টি সরাসরি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উসকানির কড়া জবাব দেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্ব তেলের বাজারে প্রভাব বিস্তারের আসল চাবিকাঠি এখনো ইরানের হাতেই রয়েছে।

গালিবাফ তাঁর এক্স  পোস্টে একটি গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে দুই দেশের শক্তির তুলনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের জরুরি মজুদ তেলের ব্যবহার এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণের মতো সহজ কৌশলগুলো খাটিয়ে ফেলেছে। বিপরীতে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালী ও বাবআলমানদেব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এবং প্রধান পাইপলাইন রুটগুলোর নিয়ন্ত্রণ পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করেনি। গালিবাফের মতে, ইরানের এইআনপ্লেড কার্ডবা অপ্রকাশিত শক্তিগুলো যে কোনো উত্তেজনার মুখে ওয়াশিংটনকে কোণঠাসা করার জন্য যথেষ্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজকোষ শূন্যের দিকে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের মৌসুম বাসামার ড্রাইভিং সিজনদরজায় কড়া নাড়ছে, যখন আমেরিকায় জ্বালানি তেলের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। গালিবাফ কটাক্ষ করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি তাদের হঠকারী নীতি অব্যাহত রাখে, তবে আমেরিকান নাগরিকদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করতে হবে। কারণ জ্বালানি সংকট ও তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ আমেরিকানদের পকেটে বড় ধরনের টান দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে আরও উসকে দেয়, তবে দেশটিতে প্রতি গ্যালন তেলের দাম ৬ ডলার বা তার বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি কেবল আমেরিকান পরিবারগুলোর ছুটির পরিকল্পনাই নষ্ট করবে না, বরং বাইডেন প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। গালিবাফের এই মন্তব্য মূলত মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি শান্ত অথচ অত্যন্ত কার্যকর সতর্কবার্তা, যেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সস্তা বাজার কৌশল আর প্রকৃত শক্তির পার্থক্য অনেক। তেহরান এখনো তার সেরা চালগুলো চালেনি, আর ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই তার শেষ অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে ফেলেছে। তথ্যসূত্র: ফারস নিউজ ও প্রেস টিভি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি

বিশ্ব জ্বালানি বাজার আমেরিকা নয়, ইরানের হাতেই আছে: গালিবাফ

আপডেট সময় ০৩:১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ওয়াশিংটনের সীমাবদ্ধতা এবং তেহরানের কৌশলগত আধিপত্যের বিষয়টি সরাসরি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উসকানির কড়া জবাব দেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্ব তেলের বাজারে প্রভাব বিস্তারের আসল চাবিকাঠি এখনো ইরানের হাতেই রয়েছে।

গালিবাফ তাঁর এক্স  পোস্টে একটি গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে দুই দেশের শক্তির তুলনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের জরুরি মজুদ তেলের ব্যবহার এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণের মতো সহজ কৌশলগুলো খাটিয়ে ফেলেছে। বিপরীতে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালী ও বাবআলমানদেব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এবং প্রধান পাইপলাইন রুটগুলোর নিয়ন্ত্রণ পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করেনি। গালিবাফের মতে, ইরানের এইআনপ্লেড কার্ডবা অপ্রকাশিত শক্তিগুলো যে কোনো উত্তেজনার মুখে ওয়াশিংটনকে কোণঠাসা করার জন্য যথেষ্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজকোষ শূন্যের দিকে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের মৌসুম বাসামার ড্রাইভিং সিজনদরজায় কড়া নাড়ছে, যখন আমেরিকায় জ্বালানি তেলের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। গালিবাফ কটাক্ষ করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি তাদের হঠকারী নীতি অব্যাহত রাখে, তবে আমেরিকান নাগরিকদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করতে হবে। কারণ জ্বালানি সংকট ও তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ আমেরিকানদের পকেটে বড় ধরনের টান দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে আরও উসকে দেয়, তবে দেশটিতে প্রতি গ্যালন তেলের দাম ৬ ডলার বা তার বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি কেবল আমেরিকান পরিবারগুলোর ছুটির পরিকল্পনাই নষ্ট করবে না, বরং বাইডেন প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। গালিবাফের এই মন্তব্য মূলত মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি শান্ত অথচ অত্যন্ত কার্যকর সতর্কবার্তা, যেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সস্তা বাজার কৌশল আর প্রকৃত শক্তির পার্থক্য অনেক। তেহরান এখনো তার সেরা চালগুলো চালেনি, আর ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই তার শেষ অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে ফেলেছে। তথ্যসূত্র: ফারস নিউজ ও প্রেস টিভি