ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান জামায়াতের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা: মির্জা ফখরুল এবার শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা আল্লাহ আমাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছেন: কারামুক্তির পর সিদ্দিক  পানি থেকে লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেল ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আছেন মা ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা শেষ: ট্রাম্প বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ৩ জেলার পাঁচ নদীর পানি বিএনপির সমাবেশে আইফোন চুরি, কুরআন তেলাওয়াত করিয়ে তওবা করালো জনতা সরকারের কাজের গতি দেখে বিরোধী দল ভয় পাচ্ছে: আবদুস সালাম রাজনৈতিক সহমর্মিতা বজায় রাখতে বিএনপি–জামায়াত বৈঠক

আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকেগুঁড়িয়ে দেওয়ারপরিকল্পনার কথা সৌদি আরবকে জানিয়েছিল ইরান। মার্কিনইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেগুঁড়িয়ে দেওয়ারপরিকল্পনার কথা সৌদি আরবকে জানিয়েছিল ইরান। খবর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালএর।  প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব ও ওমানকে ইরান জানায় যে, তারা আমিরাতকেআক্রমণের লক্ষ্যবস্তুকরতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে আবুধাবি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করাই ছিল তেহরানের কৌশল।

মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। আমিরাত সম্প্রতি ওপেক থেকে বের হয়য়ে যাওয়াও সেই উত্তেজনা বাড়ার সাম্প্রতিক উদাহরণ। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি রিয়াদ ও আবুধাবিকে সংহত করার বদলে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে ইরানি কর্মকর্তারা সৌদি কর্মকর্তাদের সরাসরি বলেন যে তারা আমিরাতকে ধ্বংস করতে চায়। 

তবে উত্তেজনা সত্ত্বেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সংলাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের মধ্যে কথা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ফিশারগুলো কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে চায় ইরান। সৌদি আরব ও আমিরাতউভয় দেশই আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শন করার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে।   

আমিরাত এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান অন্তত ২ হাজার ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের ওপর নির্ভরশীল। এই যুদ্ধ ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের জোটকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইসরাইল আমিরাতকে লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত থেকে সরে যায়, তাহলে আঞ্চলিক ক্ষমতা হিসেবে ইরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারেএমন আশঙ্কায় আমিরাত আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমনকি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলার জন্য তারা প্রস্তুত। সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেও নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করছে। সূত্র: দ্যা মিডল ইস্ট আই

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

আপডেট সময় ০৪:২৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকেগুঁড়িয়ে দেওয়ারপরিকল্পনার কথা সৌদি আরবকে জানিয়েছিল ইরান। মার্কিনইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেগুঁড়িয়ে দেওয়ারপরিকল্পনার কথা সৌদি আরবকে জানিয়েছিল ইরান। খবর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালএর।  প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব ও ওমানকে ইরান জানায় যে, তারা আমিরাতকেআক্রমণের লক্ষ্যবস্তুকরতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে আবুধাবি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করাই ছিল তেহরানের কৌশল।

মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। আমিরাত সম্প্রতি ওপেক থেকে বের হয়য়ে যাওয়াও সেই উত্তেজনা বাড়ার সাম্প্রতিক উদাহরণ। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি রিয়াদ ও আবুধাবিকে সংহত করার বদলে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে ইরানি কর্মকর্তারা সৌদি কর্মকর্তাদের সরাসরি বলেন যে তারা আমিরাতকে ধ্বংস করতে চায়। 

তবে উত্তেজনা সত্ত্বেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সংলাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের মধ্যে কথা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ফিশারগুলো কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে চায় ইরান। সৌদি আরব ও আমিরাতউভয় দেশই আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শন করার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে।   

আমিরাত এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান অন্তত ২ হাজার ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের ওপর নির্ভরশীল। এই যুদ্ধ ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের জোটকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইসরাইল আমিরাতকে লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত থেকে সরে যায়, তাহলে আঞ্চলিক ক্ষমতা হিসেবে ইরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারেএমন আশঙ্কায় আমিরাত আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমনকি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলার জন্য তারা প্রস্তুত। সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেও নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করছে। সূত্র: দ্যা মিডল ইস্ট আই