আগামী মাসে মুক্তির কথা রয়েছে মৌসুমী ও জায়েদ খান অভিনীত সিনেমা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। তবে মুক্তির আগেই সিনেমাটি ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ, তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মৌসুমীর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানি অভিযোগ করেছেন, এটি আসলে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নয়। মৌসুমীও একই সুরে অভিযোগ তুলেছেন।
ওমর সানির দাবি, একটি ছোট গল্পের ভিত্তিতে প্রায় এক ঘণ্টার নাটকে অভিনয়ের জন্য মৌসুমীকে রাজি করান পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো চুক্তি ছাড়াই সেই টেলিফিল্মকে সিনেমা হিসেবে রূপ দিয়ে সেন্সর সার্টিফিকেট নেয়া হয়েছে, যা করা হয়েছে অভিনেত্রীর অগোচরে। এই অভিযোগ তুলে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন ওমর সানি। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাওয়ার যোগ্য নয়।”
রোববার দুপুরে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওমর সানী দাবি করেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ আসলে সিনেমা নয়, এটি একটি নাটক হিসেবে শুটিং করা হয়েছিল।
সিনেমাটির মুক্তি বন্ধের দাবি জানিয়ে ওমর সানী বলেন, একটা নাটকের শুটিং হয়েছিল আমেরিকাতে, যেখানে আমার স্ত্রী, আপনাদের সবার প্রিয় প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী অভিনয় করেছিলেন। মৌসুমীকে এভাবে মানুষ দেখতে অভ্যস্ত নয়। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি, এটা বন্ধের অনুরোধ জানাচ্ছি।
একই ভিডিওতে ভয়েস ওভারে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মৌসুমীও। তিনি বলেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ একটা এক ঘণ্টার নাটক ছিল, আমেরিকাতে এটার শুটিং হয়। আমি যেহেতু এখানে আছি তাই হাসান জাহাঙ্গীর আমাকে অনেক অনুরোধ করার পর কাজটি করতে রাজি হই। দুই দিন শুটিং করার পর সে জানায় আরেক দিন শুটিং করতে হবে, সেটাও করে দিলাম।
এরপর সে আমাকে জানায় যে এটার ফুটেজ বেশি হয়েছে তাই এটাকে টেলিফিল্ম হিসেবে মুক্তি দিতে চায়। তাই আমাকে আরেক দিন শুটিং করে দিতে বলে। তখন আমি তাকে জানাই যে তাহলে আমাকে টেলিফিল্ম হিসেবে পারিশ্রমিক দিতে হবে। সে বলে যে ঠিক আছে। এখন দেখি যে এটা সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে।
এও দেখেছি সেন্সর সার্টিফিকেট পেয়েছে। এটা কিভাবে হয়? যেখানে আমি কিছুই জানি না, সেখানে আমাকে কাটপিসের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। খুবই দুঃখজনক। এটা মোটেও উচিত হয়নি। আমি আশা করব, পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি, শিল্পী সমিতি বিষয়টি বিবেচনা করবে। এরপর ওমর সানী জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ইতিমধ্যে সমিতিগুলোতে চিঠি দিয়েছেন।
আগামী ১৫ মে সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















