ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদবঞ্চিতদের কাছে ‘ক্ষমা চাইলেন’ ছাত্রদল সভাপতি

কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পরদিনই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। কমিটি প্রত্যাখ্যান করে রবিবার সন্ধ্যায় শহরের গুনগাছতলায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন তারা।

 

এর আগে একই স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদবঞ্চিত সভাপতি প্রার্থী মিজানুল আলম দাবি করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি তার কাছে ফোনে ক্ষমা চেয়েছেন।

 

রবিবার (৩ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিজানুল আলম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতির সঙ্গে যতবারই কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন ব্যালেন্স করে কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর বারবার ফোন করেও তাদের পাওয়া যায়নি।’

 

মিজান জানান, পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ফোন ধরে বলেন, ‘আমি দুঃখিত, আমি নিরুপায়। তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও, আমি পারিনি। আমার হাত-পা বাঁধা।’ তবে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

মিজানুল আলম আরও জানান, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায় হোয়াটসঅ্যাপে কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

 

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে মিজান বলেন, তার বাবা সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল ও পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্রে তিনি নিজেও কাজলের রাজনৈতিক ধারায় সক্রিয় হন।

 

তিনি প্রশ্ন রাখেন, কাজল ভাইয়ের যারা অনুসারী, তাদের কেউই এই কমিটিতে ঠাঁই পাননি- সেটা কেন হলো, কীভাবে হলো, তা তার কাছে বোধগম্য নয়।

 

নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মিজানুল আলম। তিনি বলেন, যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, এর আগে সংগঠনে তার কোনো পদ-পদবি ছিল না। কমিটির বাকিরা চট্টগ্রামে থাকতেন। তার কথায়, ‘এমনকি কাজের ছেলেকেও নেতা বানিয়েছে।’

 

সংবাদ সম্মেলনের পর পদবঞ্চিত নেতা-কর্মী ও মিজানের অনুসারীরা জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা নানা স্লোগান দেন এবং নতুন কমিটি বাতিলের দাবি জানান।

 

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে স্বজনপ্রীতি হয়েছে এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের অনুগত নেতা-কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

 

এরআগে গতকাল কমিটি ঘোষণার পর থেকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে অনলাইন দুনিয়া। একের পর এক পোস্টে তাঁরা তাদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘এখন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। পরে কথা বলব।’

 

জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ জাহান চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে যাকে যোগ্য মনে করেছে, নেতা বানিয়েছে। এটা নিয়ে এত মাতামাতি করার কী আছে।’

 

এবিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

 

উল্লেখ্য, শনিবার (২ মে) প্রায় দুই বছর পর কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে ফাহিমুর রহমানকে সভাপতি ও মোহাম্মদ সাঈদ আনোয়ারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এ ছাড়া মোহাম্মদ হোসেন মাদুকে সিনিয়র সহসভাপতি, মোহাম্মদ জাহেদ নুর জিতুকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ মুহাম্মাদ সালমান বাপ্পিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আশরাফ ইমরানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট সর্বশেষ কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন পেয়েছিল। সেই কমিটিতে শাহাদাত হোসাইন রিপনকে সভাপতি ও ফাহিমুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পদবঞ্চিতদের কাছে ‘ক্ষমা চাইলেন’ ছাত্রদল সভাপতি

আপডেট সময় ১১:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পরদিনই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। কমিটি প্রত্যাখ্যান করে রবিবার সন্ধ্যায় শহরের গুনগাছতলায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন তারা।

 

এর আগে একই স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদবঞ্চিত সভাপতি প্রার্থী মিজানুল আলম দাবি করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি তার কাছে ফোনে ক্ষমা চেয়েছেন।

 

রবিবার (৩ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিজানুল আলম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতির সঙ্গে যতবারই কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন ব্যালেন্স করে কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর বারবার ফোন করেও তাদের পাওয়া যায়নি।’

 

মিজান জানান, পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ফোন ধরে বলেন, ‘আমি দুঃখিত, আমি নিরুপায়। তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও, আমি পারিনি। আমার হাত-পা বাঁধা।’ তবে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

মিজানুল আলম আরও জানান, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায় হোয়াটসঅ্যাপে কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

 

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে মিজান বলেন, তার বাবা সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল ও পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্রে তিনি নিজেও কাজলের রাজনৈতিক ধারায় সক্রিয় হন।

 

তিনি প্রশ্ন রাখেন, কাজল ভাইয়ের যারা অনুসারী, তাদের কেউই এই কমিটিতে ঠাঁই পাননি- সেটা কেন হলো, কীভাবে হলো, তা তার কাছে বোধগম্য নয়।

 

নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মিজানুল আলম। তিনি বলেন, যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, এর আগে সংগঠনে তার কোনো পদ-পদবি ছিল না। কমিটির বাকিরা চট্টগ্রামে থাকতেন। তার কথায়, ‘এমনকি কাজের ছেলেকেও নেতা বানিয়েছে।’

 

সংবাদ সম্মেলনের পর পদবঞ্চিত নেতা-কর্মী ও মিজানের অনুসারীরা জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা নানা স্লোগান দেন এবং নতুন কমিটি বাতিলের দাবি জানান।

 

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে স্বজনপ্রীতি হয়েছে এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের অনুগত নেতা-কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

 

এরআগে গতকাল কমিটি ঘোষণার পর থেকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে অনলাইন দুনিয়া। একের পর এক পোস্টে তাঁরা তাদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘এখন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। পরে কথা বলব।’

 

জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ জাহান চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে যাকে যোগ্য মনে করেছে, নেতা বানিয়েছে। এটা নিয়ে এত মাতামাতি করার কী আছে।’

 

এবিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

 

উল্লেখ্য, শনিবার (২ মে) প্রায় দুই বছর পর কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে ফাহিমুর রহমানকে সভাপতি ও মোহাম্মদ সাঈদ আনোয়ারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এ ছাড়া মোহাম্মদ হোসেন মাদুকে সিনিয়র সহসভাপতি, মোহাম্মদ জাহেদ নুর জিতুকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ মুহাম্মাদ সালমান বাপ্পিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আশরাফ ইমরানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট সর্বশেষ কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন পেয়েছিল। সেই কমিটিতে শাহাদাত হোসাইন রিপনকে সভাপতি ও ফাহিমুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।