ঢাকা , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহু নন, ইসরাইলের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন ট্রাম্প!

 

নেতানিয়াহু নন, ইসরাইলের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন ট্রাম্প!

বর্তমানে ইসরাইলের যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি ওয়াশিংটন থেকেই নেওয়া হচ্ছে—এমন ধারণা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বাস করতেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইরানের মতো একটি আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের গতিপথ বদলে যাওয়ায় এখন ইসরাইলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে— কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতানিয়াহুর স্বাধীন ভূমিকা আদৌ কতটুকু। অনেকের মতে, এখন আর এসব সিদ্ধান্তে তার একক কর্তৃত্ব নেই।

 

উদাহরণ হিসেবে লেবাননে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা উদ্যোগের ফলেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, যা ইসরাইলকে মেনে নিতে হয়েছে।

 

এদিকে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে যে, চলমান সংঘাতটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল ক্ষয়যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহুর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। জনমত জরিপগুলোতে তাঁর জনপ্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

 

বর্তমান বাস্তবতায় অনেকেই মনে করছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সামনে এখন ওয়াশিংটনের ইঙ্গিতের অপেক্ষা করা ছাড়া খুব বেশি বিকল্প নেই। কারণ, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি ক্রমশ মার্কিন প্রশাসনের হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহু নন, ইসরাইলের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন ট্রাম্প!

আপডেট সময় ১১:১০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

 

নেতানিয়াহু নন, ইসরাইলের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন ট্রাম্প!

বর্তমানে ইসরাইলের যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি ওয়াশিংটন থেকেই নেওয়া হচ্ছে—এমন ধারণা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বাস করতেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইরানের মতো একটি আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের গতিপথ বদলে যাওয়ায় এখন ইসরাইলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে— কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতানিয়াহুর স্বাধীন ভূমিকা আদৌ কতটুকু। অনেকের মতে, এখন আর এসব সিদ্ধান্তে তার একক কর্তৃত্ব নেই।

 

উদাহরণ হিসেবে লেবাননে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা উদ্যোগের ফলেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, যা ইসরাইলকে মেনে নিতে হয়েছে।

 

এদিকে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে যে, চলমান সংঘাতটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল ক্ষয়যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহুর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। জনমত জরিপগুলোতে তাঁর জনপ্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

 

বর্তমান বাস্তবতায় অনেকেই মনে করছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সামনে এখন ওয়াশিংটনের ইঙ্গিতের অপেক্ষা করা ছাড়া খুব বেশি বিকল্প নেই। কারণ, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি ক্রমশ মার্কিন প্রশাসনের হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে।