যুদ্ধ নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনার মাঝেই ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য
যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও সম্ভাব্য এই অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এর মধ্যেই ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন হুমকি দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বুধবার (৬ মে) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, যদি ইরান আগে থেকেই আলোচিত শর্তগুলো মেনে নেয়, তাহলে “অপারেশন এপিক ফিউরি” বন্ধ করা হবে। তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, শর্ত মানা না হলে ইরানে আবারও হামলা চালানো হবে এবং সেই হামলার মাত্রা ও তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যে সামরিক অভিযান শুরু করে, সেটির নাম দেওয়া হয় “এপিক ফিউরি”। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। একই সময় নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এখনো অনেক দূরের বিষয়।
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। তিনি একদিকে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দাবি করেন, আবার অন্যদিকে নতুন করে সামরিক অভিযানের হুমকি দেন। সম্প্রতি তিনি কংগ্রেসে জানিয়েছেন, যুদ্ধ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অথচ এর আগে তিনি “প্রজেক্ট ফ্রিডম” নামে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা চলমান রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম চীন সফর। ইরানি টেলিভিশন ও এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাঘচি জানান, উভয় পক্ষ যুদ্ধ বন্ধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চীন যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন আঞ্চলিক কাঠামো গঠনে ভূমিকা রাখবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, তারা অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চীনকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নিতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















