ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ আর নেই এনএসআই পরিচয়ে মাদক উদ্ধারে গিয়ে যুবক আটক জনসভায় প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের নাম উল্লেখ করে বিতর্কে ইউএনও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া: সেই বাপ্পিকে ছেড়ে দেওয়ায় থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ রাজশাহীতে চলন্ত ট্রেন থেকে তেল চুরি, তদন্ত কমিটি গঠন ঢাবি প্রশাসনের তদন্ত কমিটি মানে একটা মুলা ঝুলানো: সাদিক কায়েম নারীদের পিংক বাসে ভাড়া কত, টিকিট কাটবেন কীভাবে? নরসিংদীর রায়পুরায় চেয়ারম্যান গ্রেফতারের পর সংঘর্ষ, আহত ১৫ বিএনপি নেতা-কর্মী তারেক রহমানের সফরের জন্য এখনও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ভারত: ভারতীয় হাইকমিশনার খদরে খাসি না থাকায় বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার দাবি কনে পক্ষের, বর বলছেন কাবিন নিয়ে বিরোধ; প্রমাণ হিসেবে ফর্দনামা প্রকাশ কনে পক্ষের

গাজীপুরে পাঁচ খুন: স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে স্বজনকে ফোন ফুরকানের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার রোমহর্ষক ঘটনায় নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া নিজেই ফোন করে স্বজনদের এ খবর জানিয়ে পালিয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে প্রতিবেশীদের চিৎকারে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেয়া হয়। 

নৃশংস এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া () ও ফারিয়া () এবং শ্যালক রসুল মিয়া। পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফুরকান মিয়া বছরখানেক আগে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে; বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

স্বজনরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাতমুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফুরকান মিয়া এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পড়ে থাকতে দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফুরকান হোসেন এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ করেছিলেন। একই সাথে ওই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া অভিযোগের কপিগুলো এবং পারিপার্শ্বিক আলামত যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফুরকান পলাতক রয়েছেন। এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ আর নেই

গাজীপুরে পাঁচ খুন: স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে স্বজনকে ফোন ফুরকানের

আপডেট সময় ০১:৫৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার রোমহর্ষক ঘটনায় নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া নিজেই ফোন করে স্বজনদের এ খবর জানিয়ে পালিয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে প্রতিবেশীদের চিৎকারে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেয়া হয়। 

নৃশংস এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া () ও ফারিয়া () এবং শ্যালক রসুল মিয়া। পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফুরকান মিয়া বছরখানেক আগে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে; বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

স্বজনরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাতমুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফুরকান মিয়া এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পড়ে থাকতে দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফুরকান হোসেন এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ করেছিলেন। একই সাথে ওই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া অভিযোগের কপিগুলো এবং পারিপার্শ্বিক আলামত যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফুরকান পলাতক রয়েছেন। এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।