রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই— এমন আলোচনাই আবারও সামনে এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে ঘিরে। এক সময় যাকে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়ে আক্রমণ করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), সেই শুভেন্দুই এখন দলটির মুখ হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে ২০১৬ সালের একটি ভিডিও। ওই সময় বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশিত তথাকথিত ‘নারদ স্টিং অপারেশন’-এ দেখা যায়, শুভেন্দুসহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা অর্থের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। অভিযোগ ওঠে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছিল।
ভিডিওটি প্রকাশের পর বিজেপি তৎকালীন সময়ে ব্যাপকভাবে এটি প্রচার করেছিল। তবে পরবর্তীতে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর দলটির অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয় বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি উঠেছে। এ নিয়ে আবারও রাজনৈতিক নৈতিকতা ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা।
নরেন্দ্র মোদি-র পুরোনো বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের দাবি, একসময় যাকে দুর্নীতিবাজ বলে আক্রমণ করা হয়েছিল, তাকেই এখন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্বে বসিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর মাধ্যমে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন তিনি। বিশেষ করে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন তাকে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখে পরিণত করে।
২০০৯ ও ২০১৪ সালে লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৬ সালে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় পরিবহন ও সেচ দপ্তরের দায়িত্ব পান শুভেন্দু। তবে সময়ের সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর অমিত শাহ-এর উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। আর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























