এবার রাজধানীর মিরপুর–৬ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সেলিনা আফরোজ (৫৫) নামের এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাতে এলাকাটির একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাটটিতে একাই থাকছিলেন সেলিনা। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিনার স্বামী ও দুই সন্তান কানাডায় বসবাস করেন। প্রায় ১২ বছর আগে দেশে এসেছেন তিনি। দেশে আসার পর মিরপুরের ওই ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করা শুরু করেন। পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হানিফ বলেছেন, সেলিনার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত ও ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত শেষ হলে তবেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
এদিকে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গত ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে কোনো এক সময় মৃত্যু হয়েছে সেলিনার। কেননা, সবশেষ গত ২৬ মে রাতে এক ভাতিজার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। তারপর থেকে পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি তার।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে নুরুজাহান বেগম নামের এক বৃদ্ধা নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষরা একাকি বসবাসরত মানুষদের নিরাপত্তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। নুরুজাহানের মরদেহ উদ্ধারের পর জানা যায়, তার সন্তানদের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব, একজন শিক্ষক ও অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। নেটিজেনরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেন– সন্তানরা আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকার পরও কেন দীর্ঘ সময় একা ও অযত্নে ছিলেন ওই বৃদ্ধা? কেউ কি তার খোঁজ রাখার মতো ছিল না?

ডেস্ক রিপোর্ট 



















