ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিতে বাজেটে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি! রামিসা হত্যার ডেথ রেফারেন্সের সিরিয়াল এগিয়ে আনার জন্য বলা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারে ঢোকার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষা আর নয়, ক্যাম্পাস থেকেই তৈরি হবে উদ্যোক্তা: প্রধানমন্ত্রী লালমনিরহাটে পুশইনচেষ্টা, লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া দিলো এলাকাবাসী ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি ধনকুবের রবিন খুদা  এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী পোস্টটি কার উদ্দেশে? প্রশ্নে মুখর নেটিজেনরা ভারতের হেলিকপটার ও ড্রোন যেন প্রবেশ না করে: সীমান্ত বৈঠকে বিএসএফকে বিজিবি ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা হত্যার রায় দেওয়া হয়েছে: আইনমন্ত্রী

মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে কি বাড়ছে গণবিচার?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

মাদক কারবার বা সেবনের অভিযোগ তুলে কাউকে প্রকাশ্যে মারধর, হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, এমনকি বাড়িঘরে হামলার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও নতুন করে সামনে এনেছে এক উদ্বেগজনক প্রশ্ন—অপরাধ দমনের নামে কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন কেউ কেউ?

ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে মাটিতে ফেলে মারধর করা হচ্ছে। আবার কোথাও কয়েকজন মিলে লাঠি বা ইট দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন একজনকে। চারপাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, কেউ আবার পুরো ঘটনাকে নীরবে দেখছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফরিদপুর জেলার এমন কয়েকটি ঘটনার তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাদক ব্যবসা বা মাদকসেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়রাই শাস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

তবে এসব ঘটনা নিয়ে সামাজিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বিচার যদি জনতার হাতেই চলে যায়, তাহলে আইন ও বিচারব্যবস্থার ভূমিকা কোথায়? একই সঙ্গে অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলেও তার বিচার করার দায়িত্ব আদালতের, জনতার নয়। বিচারবহির্ভূত শাস্তি কিংবা গণপিটুনির মতো ঘটনা আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজের ভাষায়, “আমরা তো জঙ্গলে বসবাস করছি না। কেউ অপরাধী হলে তার বিচারের জন্য দেশে আইন আছে, আদালত আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধ দমনে জনসচেতনতা প্রয়োজন হলেও তা কখনোই আইনের বিকল্প হতে পারে না। কারণ অভিযোগ আর অপরাধ প্রমাণ—দুইটি ভিন্ন বিষয়। আর আইনের শাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, জনতার নয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিতে বাজেটে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি!

মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে কি বাড়ছে গণবিচার?

আপডেট সময় ১২:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

মাদক কারবার বা সেবনের অভিযোগ তুলে কাউকে প্রকাশ্যে মারধর, হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, এমনকি বাড়িঘরে হামলার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও নতুন করে সামনে এনেছে এক উদ্বেগজনক প্রশ্ন—অপরাধ দমনের নামে কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন কেউ কেউ?

ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে মাটিতে ফেলে মারধর করা হচ্ছে। আবার কোথাও কয়েকজন মিলে লাঠি বা ইট দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন একজনকে। চারপাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, কেউ আবার পুরো ঘটনাকে নীরবে দেখছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফরিদপুর জেলার এমন কয়েকটি ঘটনার তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাদক ব্যবসা বা মাদকসেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়রাই শাস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

তবে এসব ঘটনা নিয়ে সামাজিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বিচার যদি জনতার হাতেই চলে যায়, তাহলে আইন ও বিচারব্যবস্থার ভূমিকা কোথায়? একই সঙ্গে অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলেও তার বিচার করার দায়িত্ব আদালতের, জনতার নয়। বিচারবহির্ভূত শাস্তি কিংবা গণপিটুনির মতো ঘটনা আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজের ভাষায়, “আমরা তো জঙ্গলে বসবাস করছি না। কেউ অপরাধী হলে তার বিচারের জন্য দেশে আইন আছে, আদালত আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধ দমনে জনসচেতনতা প্রয়োজন হলেও তা কখনোই আইনের বিকল্প হতে পারে না। কারণ অভিযোগ আর অপরাধ প্রমাণ—দুইটি ভিন্ন বিষয়। আর আইনের শাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, জনতার নয়।