ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় মাত্র ১০ টাকা পাওনা নিয়ে সৃষ্ট তুচ্ছ বিরোধের জেরে সংঘটিত আলোচিত আয়েশা খাতুন (৪০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জহিরুল ইসলামকে ফুলবাড়িয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে বুধবার রাত ১টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৪ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আয়েশা খাতুন একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আয়েশা খাতুনের ছেলে আশিক মিয়ার কাছে তার ভাতিজা জহিরুল ইসলামের ১০ টাকা পাওনা ছিল। ওই পাওনা টাকা নিয়ে ঘটনার দিন বিকেলে আশিক মিয়া ও জহিরুল ইসলামের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে আশিক মিয়ার মা আয়েশা খাতুন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন।
অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত জহিরুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়েশা খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালা গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে যায়। পরদিন ১৫ এপ্রিল নিহতের মা বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রাখে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১৪ আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জহিরুল ইসলামের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















