বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন ভেঙেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তেই। তবে সেই হতাশার কয়েক দিনের মধ্যেই বড় স্বীকৃতি পেলেন সোমালি রেফারি ওমর আবদুলকাদির আর্তান। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে না পারা এই রেফারিকেই উয়েফা সুপার কাপের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
আগামী ১২ আগস্ট অস্ট্রিয়ার সাল্ৎসবুর্গে হবে উয়েফা সুপার কাপ। ম্যাচে মুখোমুখি হবে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং ইউরোপা লিগজয়ী অ্যাস্টন ভিলা। ইউরোপীয় মৌসুমের প্রতীকী শুরুর এই ম্যাচেই বাঁশি হাতে দেখা যাবে ৩৪ বছর বয়সি আর্তানকে।
আর্তান এবারের বিশ্বকাপে ফিফার নির্বাচিত ম্যাচ অফিসিয়ালদের একজন ছিলেন। উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল তার। কিন্তু মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠানো হয়। পরে তিনি সোমালিয়ায় ফিরে যান, যেখানে তাকে বীরের মতো সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আর্তান দাবি করেছিলেন, তার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বৈধ ভিসা এবং ফিফার অনুমোদন ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক কর্মকর্তা পরে দাবি করেন, সীমান্ত পর্যায়ের বাড়তি যাচাইয়ে তার বিষয়ে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট আপত্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে। সেই কারণ দেখিয়েই তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরে বিষয়টি নিয়ে বলেন, আর্তানের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। তবে ফিফা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তার বক্তব্য ছিল, ফিফা একটি ক্রীড়া সংস্থা; কোনো দেশের সরকার বা সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।
এই প্রেক্ষাপটেই আর্তানকে সুপার কাপের দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্য পাচ্ছে। উয়েফা জানিয়েছে, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সিএএফের সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঘোষণার সময় ও প্রেক্ষাপটের কারণে এটিকে আর্তানের প্রতি ইউরোপীয় ফুটবলের বড় আস্থার বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দের চেফেরিন আর্তানকে তরুণ কিন্তু অভিজ্ঞ রেফারি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, আর্তান আফ্রিকার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ফুটবল মানুষকে সংযুক্ত করার জন্য, আর উয়েফা তার দক্ষতা ও মর্যাদাকে সম্মান জানাতে চেয়েছে।
সিএএফ সভাপতি পাত্রিস মোতসেপেও আর্তানের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আর্তান সোমালিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশকে গর্বিত করেছেন। ২০২৫ সালে সিএএফ বর্ষসেরা পুরুষ রেফারির স্বীকৃতি এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হওয়া তার আন্তর্জাতিক মানেরই প্রমাণ।
আর্তানের জন্য বিশ্বকাপের সুযোগ হারানো নিঃসন্দেহে বড় আঘাত। সোমালিয়ার প্রথম রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের পথে ছিলেন তিনি। ইতিহাসের সেই দরজা আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। তবে উয়েফা সুপার কাপের দায়িত্ব তার ক্যারিয়ারে নতুন এক মর্যাদা যোগ করছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে বাঁশি হাতে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কিন্তু ফুটবল দুনিয়ার আরেক বড় মঞ্চে এবার তাঁকেই সামনে আনছে উয়েফা। আর্তানের গল্প তাই শুধু এক রেফারির ব্যক্তিগত হতাশা বা সাফল্যের নয়; বরং ফুটবল, রাজনীতি, সীমান্ত ও মর্যাদার জটিল সম্পর্কেরও।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















