পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক আইনসভার সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৪ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে কয়েক দশক আগে পাকিস্তানে চলে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আসনের প্রতিনিধিরা বর্তমানে ওই অঞ্চলে বসবাস করেন না, ফলে এটি স্থানীয় জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এই দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) বিক্ষোভের ডাক দেয়। তবে সরকার সংগঠনটিকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা করে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ রাজধানী মুজাফফরাবাদের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুঞ্চ জেলার কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান জানিয়েছেন, ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী রাওয়ালাকোটের বাইরে অবস্থান করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৭ জুলাই আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংকট আরও গভীর হয়েছে। জেএএসি সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবি জানালেও সরকার বলছে, এসব আসন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং বাতিলের সুযোগ নেই। এদিকে বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সূত্র: বিবিসি

ডেস্ক রিপোর্ট 























