ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১৫ বছর বাধার মধ্যেও সক্রিয় ছিল ছাত্রশিবির: নুরুল ইসলাম সাদ্দাম দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো ডা. জাহেদকে ৭-১ গোলে কুরাসাওকে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপ শুরু জার্মানির হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিলের পর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন সিদ্ধান্ত দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দুই এমপিকে সরিয়ে দিলেন মমতা শাপলার কসাই’ গ্রেপ্তার, ফেসবুকে শফিকুল আলমের রহস্যময় বার্তা এমপি মনিরুল হকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে ১৩ ফেব্রুয়ারি গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারত’ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল ভারতীয় সীমান্তে ‘ভবঘুরে’ নিয়ে একের পর এক ঘটনায় বিব্রত প্রশাসন

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দুই এমপিকে সরিয়ে দিলেন মমতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলটির ভেতরের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের একটি অংশ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার উদ্যোগ নেয়ার মধ্যেই সাংগঠনিক পদে বড় পরিবর্তন এনেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর অংশ হিসেবে যুব ও মহিলা সংগঠনের শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে দলটির দুই এমপি সায়নী ঘোষ ও মালা রায়কে।

 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, সংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের মাত্র এক সপ্তাহ পরই তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনের সভাপতির পদ থেকে যাদবপুরের সংসদ সদস্য সায়নী ঘোষকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন যুবনেতা অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার (১৩ জুন) তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকেও কলকাতা দক্ষিণের সংসদ সদস্য মালা রায়কে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নদিয়ার কালীগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ।

 

সায়নী ঘোষ ও মালা রায়— দুজনকেই বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলজুড়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে বিদ্রোহীরা ঘোষণা দিয়েছে, তারা সোমবার (১৫ জুন) লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে একটি চিঠি জমা দেবে।

 

এমন অবস্থায় শনিবার জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতাদের দাবি, লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জনই ইতোমধ্যে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মধ্যে সায়নী ঘোষ ও মালা রায়ও রয়েছেন।

 

বিদ্রোহী সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের গোষ্ঠী স্বীকৃতি পেলে সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন দেবে। এর আগে রাজ্য বিধানসভায় দলের বিধায়কদের বিদ্রোহের পর গত ৫ জুন তৃণমূলের সব পুরোনো কমিটি ও অঙ্গসংগঠন ভেঙে দিয়ে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

সংকটে থাকা দলকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই নতুন নেতৃত্ব কাঠামোতে বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ নেতাদের জায়গা দেয়া হয়। তবে তখনই সায়নী ঘোষ ও মালা রায়কে যথাক্রমে যুব ও মহিলা সংগঠনের সভাপতি হিসেবে পুনর্নিয়োগ করেছিলেন তিনি।

 

একই সময় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনর্নিয়োগ পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা এবং ডায়মন্ড হারবারের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

রাজ্যসভায় তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ এক সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তিন দিন আগে অনুষ্ঠিত দলীয় বৈঠকেই নেয়া হয়েছিল’। তিনি আরও বলেন, ‘মমতা দিদি দুধ-কলা দিয়ে সাপ পুষেছিলেন। পরে তারা সাপই হয়ে উঠেছে’। বিদ্রোহী ২০ জন এমপির প্রসঙ্গ টেনেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

এদিকে দলের বেলেঘাটা এলাকার সংসদ সদস্য কুণাল ঘোষকে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে। এর আগে এই পদে ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দল আমাকে এই দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে।’

 

অন্যদিকে প্রবীণ সংসদ সদস্য সৌগত রায়কে তৃণমূলের লোকসভা দলের প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে লোকসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত আটজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ বছর বাধার মধ্যেও সক্রিয় ছিল ছাত্রশিবির: নুরুল ইসলাম সাদ্দাম

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দুই এমপিকে সরিয়ে দিলেন মমতা

আপডেট সময় ১২:২০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলটির ভেতরের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের একটি অংশ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার উদ্যোগ নেয়ার মধ্যেই সাংগঠনিক পদে বড় পরিবর্তন এনেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর অংশ হিসেবে যুব ও মহিলা সংগঠনের শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে দলটির দুই এমপি সায়নী ঘোষ ও মালা রায়কে।

 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, সংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের মাত্র এক সপ্তাহ পরই তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনের সভাপতির পদ থেকে যাদবপুরের সংসদ সদস্য সায়নী ঘোষকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন যুবনেতা অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার (১৩ জুন) তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকেও কলকাতা দক্ষিণের সংসদ সদস্য মালা রায়কে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নদিয়ার কালীগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ।

 

সায়নী ঘোষ ও মালা রায়— দুজনকেই বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলজুড়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে বিদ্রোহীরা ঘোষণা দিয়েছে, তারা সোমবার (১৫ জুন) লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে একটি চিঠি জমা দেবে।

 

এমন অবস্থায় শনিবার জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতাদের দাবি, লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জনই ইতোমধ্যে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মধ্যে সায়নী ঘোষ ও মালা রায়ও রয়েছেন।

 

বিদ্রোহী সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের গোষ্ঠী স্বীকৃতি পেলে সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন দেবে। এর আগে রাজ্য বিধানসভায় দলের বিধায়কদের বিদ্রোহের পর গত ৫ জুন তৃণমূলের সব পুরোনো কমিটি ও অঙ্গসংগঠন ভেঙে দিয়ে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

সংকটে থাকা দলকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই নতুন নেতৃত্ব কাঠামোতে বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ নেতাদের জায়গা দেয়া হয়। তবে তখনই সায়নী ঘোষ ও মালা রায়কে যথাক্রমে যুব ও মহিলা সংগঠনের সভাপতি হিসেবে পুনর্নিয়োগ করেছিলেন তিনি।

 

একই সময় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনর্নিয়োগ পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা এবং ডায়মন্ড হারবারের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

রাজ্যসভায় তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ এক সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তিন দিন আগে অনুষ্ঠিত দলীয় বৈঠকেই নেয়া হয়েছিল’। তিনি আরও বলেন, ‘মমতা দিদি দুধ-কলা দিয়ে সাপ পুষেছিলেন। পরে তারা সাপই হয়ে উঠেছে’। বিদ্রোহী ২০ জন এমপির প্রসঙ্গ টেনেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

এদিকে দলের বেলেঘাটা এলাকার সংসদ সদস্য কুণাল ঘোষকে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে। এর আগে এই পদে ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দল আমাকে এই দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে।’

 

অন্যদিকে প্রবীণ সংসদ সদস্য সৌগত রায়কে তৃণমূলের লোকসভা দলের প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে লোকসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত আটজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।