ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আওয়ামীলীগ একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি : শিক্ষামন্ত্রী ইরান-লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেবে চীন গোসলে নেমে আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল নিয়ে ৩ বন্ধুর তর্ক, একজনকে চুবিয়ে হত্যা ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনও অস্তিত্ব নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমরাই মেসিকে সুযোগ করে দিয়েছি: আলজেরিয়া কোচ সিগারেট-মদের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মিছিল দেখে ‘ভাষা হারিয়েছেন’ আইনমন্ত্রী মোদিকে দেখেই মেলোনির হাস্যরস, ‘আমরাই সবচেয়ে বিখ্যাত কাপল’ জনগণের টাকা পাচার হতে দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী ইরানের খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে তাদের ড্রেসিংরুমে যান ফিফা প্রধান জুলাইয়ের এক তারিখ থেকে পুরোদমে শুরু ফ্যামিলি-কৃষক-ইমাম কার্ড কর্মসূচি: আইনমন্ত্রী

চোখের জল মুছতেই এলো সুখবর, মাকে নিয়ে স্বস্তিতে ভোজিনহা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্র এনে দিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। কিন্তু ম্যাচ শেষে বিজয়ের আনন্দের বদলে তাকে দেখা যায় অশ্রুসিক্ত চোখে। সেই আবেগঘন মুহূর্তের পেছনে ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত বেদনা—জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গ্যালারিতে ছিলেন না তার মা।

৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক স্পেনের বিপক্ষে সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে কেপ ভার্দেকে ০-০ গোলের ড্র এনে দেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ও ভ্রমণ ব্যয়ের অর্থ জোগাড় করতে না পারায় তার মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরা খেলা দেখতে যেতে পারেননি।

আবেগাপ্লুত ভোজিনহা বলেন, “আমি কেঁদেছি কারণ আমার দাদা-দাদি আমাকে বড় করেছেন। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। তারা আমার জীবনের সবকিছু ছিলেন। আর আজ আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি। ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।”

তিনি জানান, ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। অনেক বাধা পেরিয়ে আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়াতে পেরেছেন। “আমি সারাজীবন এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছি। মাঝপথে খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম, কিন্তু স্বপ্নের জন্য লড়ে গেছি। আজকের অর্জন শুধু আমার নয়, পুরো দলের,” বলেন তিনি।

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কেপ ভার্দেকে এমন কিছু দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, যাদের নাগরিকদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হয়। সেই কারণে সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে পারেননি ভোজিনহার পরিবার।

তবে তার আবেগঘন গল্প দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা ভোজিনহার প্রতি সমর্থন জানান এবং বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এরই মধ্যে এসেছে নতুন সুখবর। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভোজিনহার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে এবং তার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে কাজ চলছে, যাতে তিনি বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।

যদিও এখনো ভিসা অনুমোদন বা যাত্রার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও মা-ছেলের বহু প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এখন অপেক্ষা, বিশ্বকাপের পরবর্তী কোনো ম্যাচে গ্যালারিতে মাকে দেখে আরেকটি আবেগঘন মুহূর্ত উপহার দিতে পারেন কি না কেপ ভার্দের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামীলীগ একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি : শিক্ষামন্ত্রী

চোখের জল মুছতেই এলো সুখবর, মাকে নিয়ে স্বস্তিতে ভোজিনহা

আপডেট সময় ১২:৫২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্র এনে দিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। কিন্তু ম্যাচ শেষে বিজয়ের আনন্দের বদলে তাকে দেখা যায় অশ্রুসিক্ত চোখে। সেই আবেগঘন মুহূর্তের পেছনে ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত বেদনা—জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গ্যালারিতে ছিলেন না তার মা।

৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক স্পেনের বিপক্ষে সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে কেপ ভার্দেকে ০-০ গোলের ড্র এনে দেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ও ভ্রমণ ব্যয়ের অর্থ জোগাড় করতে না পারায় তার মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরা খেলা দেখতে যেতে পারেননি।

আবেগাপ্লুত ভোজিনহা বলেন, “আমি কেঁদেছি কারণ আমার দাদা-দাদি আমাকে বড় করেছেন। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। তারা আমার জীবনের সবকিছু ছিলেন। আর আজ আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি। ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।”

তিনি জানান, ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। অনেক বাধা পেরিয়ে আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়াতে পেরেছেন। “আমি সারাজীবন এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছি। মাঝপথে খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম, কিন্তু স্বপ্নের জন্য লড়ে গেছি। আজকের অর্জন শুধু আমার নয়, পুরো দলের,” বলেন তিনি।

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কেপ ভার্দেকে এমন কিছু দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, যাদের নাগরিকদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হয়। সেই কারণে সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে পারেননি ভোজিনহার পরিবার।

তবে তার আবেগঘন গল্প দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা ভোজিনহার প্রতি সমর্থন জানান এবং বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এরই মধ্যে এসেছে নতুন সুখবর। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভোজিনহার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে এবং তার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে কাজ চলছে, যাতে তিনি বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।

যদিও এখনো ভিসা অনুমোদন বা যাত্রার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও মা-ছেলের বহু প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এখন অপেক্ষা, বিশ্বকাপের পরবর্তী কোনো ম্যাচে গ্যালারিতে মাকে দেখে আরেকটি আবেগঘন মুহূর্ত উপহার দিতে পারেন কি না কেপ ভার্দের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।