ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রোনালদোর কাতারে থাকতে পারাটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের: মেসি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের পরও চোখে জল মেসির, জানালেন আবেগঘন কারণ নামাজ নিয়ে বিজেপি মন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে তুমুল সমালোচনা ইরান চুক্তির ৩০০ বিলিয়ন ডলার তহবিলের অর্ধেকের বেশি নিশ্চিত চোখের জল মুছতেই এলো সুখবর, মাকে নিয়ে স্বস্তিতে ভোজিনহা ভয়াবহ ফাউল করেও ছাড় পেলেন মেসি, সমালোচনার ঝড় প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়লো প্যান্ডেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ১৪ দফার চুক্তিতে যা আছে মেসি একা কাঁদেননি,  হ্যাটট্রিকে কাঁদলেন কোচ স্কালোনিও বেআইনিভাবে বাংলাদেশে ৫ হাজার মুসলমানকে পুশব‍্যাক করেছে শুভেন্দু: এইচআরডব্লিউ

ভয়াবহ ফাউল করেও ছাড় পেলেন মেসি, সমালোচনার ঝড়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

এবার বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আলজেরিয়াকে ৩০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়ার ম্যাচে।ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। ম্যাচের এক পর্যায়ে আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার আইসা মান্দির ওপর করা মেসির একটি বিপজ্জনক ফাউল ঘিরে এখন ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কেন রেফারির নজর এড়িয়ে গেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা?

ম্যাচের একটি বল দখলের লড়াইয়ে মেসি বেশ আনাড়িভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসেন মান্দিকে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বলের নাগাল না পেয়ে মেসির বুটের স্টাড সরাসরি আইসা মান্দির কাফ পেশির পেছনের অংশে আঘাত করে। ফাউলটি ছিল যথেষ্ট বিপজ্জনক। তাৎক্ষণিকভাবে আলজেরিয়াকে ফ্রিকিক দেওয়া হলেও রেফারি মেসিকে কার্ড দেখানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-ও এই ঘটনায় কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। যদিও ফাউল করার পরপরই মেসি মান্দির কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন, কিন্তু তা বিতর্কের আগুন নেভাতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে ইএসপিএন এফসির টকশোতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষক আলে মোরেনো এবং নেদুম ওনোহা। মোরেনো সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বড় তারকা খেলোয়াড়রা কি রেফারিদের কাছ থেকে সবসময়ই বিশেষ বা পক্ষপাতমূলক সুবিধা পান?’ বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি স্পষ্ট লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমালোচনার বন্যা। ক্ষুব্ধ সমর্থকরা প্রশ্ন তুলছেন, বিশ্বকাপের মতো আসরে এমন একটি ফাউল কার্ড ছাড়া কীভাবে পার হয়? একজন সমর্থক তো একেপাগলামিবলে আখ্যা দিয়েছেন।

অনেকের ধারণা, বিশ্বকাপের শুরুতেই অতিরিক্ত কার্ড প্রদর্শনের ফলে বিতর্কের মুখে পড়া রেফারিরা হয়তো কিছুটা নরম হওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতেই তিনটি লাল কার্ডের নির্দেশনায় অনেক খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন, যা এড়াতে ফিফা হয়তো রেফারিদের নির্দেশ দিয়েছে একটু সহনশীল হতে। সেই সুযোগেই হয়তো বড় ধরণের কোনো শাস্তি থেকে বেঁচে গেছেন মেসি।

রেফারির এই সিদ্ধান্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য এসেছে আশীর্বাদ হিসেবে। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলে পরের ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কাটাতে হয়। নকআউট পর্বের আগে মেসিকে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে দেখতে চাইবে না আর্জেন্টিনা। ফলে মাঠের লড়াইয়ে মেসির এইঅদৃশ্যসুবিধাটি আর্জেন্টিনা দলকে টুর্নামেন্টের সামনের পথচলায় বাড়তি স্বস্তি দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে রেফারিদের এমননরমদৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকে কি না, নাকি ফিফা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রোনালদোর কাতারে থাকতে পারাটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের: মেসি

ভয়াবহ ফাউল করেও ছাড় পেলেন মেসি, সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় ১২:২৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

এবার বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আলজেরিয়াকে ৩০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়ার ম্যাচে।ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। ম্যাচের এক পর্যায়ে আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার আইসা মান্দির ওপর করা মেসির একটি বিপজ্জনক ফাউল ঘিরে এখন ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কেন রেফারির নজর এড়িয়ে গেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা?

ম্যাচের একটি বল দখলের লড়াইয়ে মেসি বেশ আনাড়িভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসেন মান্দিকে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বলের নাগাল না পেয়ে মেসির বুটের স্টাড সরাসরি আইসা মান্দির কাফ পেশির পেছনের অংশে আঘাত করে। ফাউলটি ছিল যথেষ্ট বিপজ্জনক। তাৎক্ষণিকভাবে আলজেরিয়াকে ফ্রিকিক দেওয়া হলেও রেফারি মেসিকে কার্ড দেখানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-ও এই ঘটনায় কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। যদিও ফাউল করার পরপরই মেসি মান্দির কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন, কিন্তু তা বিতর্কের আগুন নেভাতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে ইএসপিএন এফসির টকশোতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষক আলে মোরেনো এবং নেদুম ওনোহা। মোরেনো সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বড় তারকা খেলোয়াড়রা কি রেফারিদের কাছ থেকে সবসময়ই বিশেষ বা পক্ষপাতমূলক সুবিধা পান?’ বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি স্পষ্ট লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমালোচনার বন্যা। ক্ষুব্ধ সমর্থকরা প্রশ্ন তুলছেন, বিশ্বকাপের মতো আসরে এমন একটি ফাউল কার্ড ছাড়া কীভাবে পার হয়? একজন সমর্থক তো একেপাগলামিবলে আখ্যা দিয়েছেন।

অনেকের ধারণা, বিশ্বকাপের শুরুতেই অতিরিক্ত কার্ড প্রদর্শনের ফলে বিতর্কের মুখে পড়া রেফারিরা হয়তো কিছুটা নরম হওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতেই তিনটি লাল কার্ডের নির্দেশনায় অনেক খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন, যা এড়াতে ফিফা হয়তো রেফারিদের নির্দেশ দিয়েছে একটু সহনশীল হতে। সেই সুযোগেই হয়তো বড় ধরণের কোনো শাস্তি থেকে বেঁচে গেছেন মেসি।

রেফারির এই সিদ্ধান্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য এসেছে আশীর্বাদ হিসেবে। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলে পরের ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কাটাতে হয়। নকআউট পর্বের আগে মেসিকে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে দেখতে চাইবে না আর্জেন্টিনা। ফলে মাঠের লড়াইয়ে মেসির এইঅদৃশ্যসুবিধাটি আর্জেন্টিনা দলকে টুর্নামেন্টের সামনের পথচলায় বাড়তি স্বস্তি দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে রেফারিদের এমননরমদৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকে কি না, নাকি ফিফা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে।