দুবাইয়ে বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার খবর প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তার অবস্থান এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা। ২০২৪ সালে সিডনিতে অনুষ্ঠিত একটি ব্যক্তিগত বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় ছড়িয়ে পড়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবেশবাদী লেখক ড. নার্গিস বানু সম্প্রতি একাধিক ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, বেনজীর আহমেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের ভূমিকা নিয়ে সত্য উদঘাটিত হলে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। তার পোস্টের পর প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি জোরালো হয়েছে।
অনুসন্ধানী সূত্রগুলো বলছে, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের মুখে দেশ ছাড়ার পর বেনজীর আহমেদ বিভিন্ন দেশ হয়ে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থান করেছিলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সেখানে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন, যার একটি ছবি সে সময় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
এর আগে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও পর্তুগাল হয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় যান বলে দাবি করা হয়।
বেনজীরের অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Change.org-এ একটি পিটিশনও চালু করা হয়েছিল। ওই আবেদনে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য উঠে আসে। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায়ও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
প্রবাসী কমিউনিটির কয়েকজন প্রতিনিধি মনে করেন, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে তার অবস্থান নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তারা অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, বেনজীর আহমেদকে ঘিরে চলমান বিতর্ক এখন শুধু একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহি, অর্থপাচার এবং প্রবাসী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























