ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রংপুরে চার খুন হত্যার আগে-পরে ৮০ বার ফোনালাপ হয় আসামিদের: পুলিশ ১১০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ইউরোপে তৃতীয় বাংলাদেশি হাফেজ সাদ ছাত্রদল নেতার হুমকির পর পদত্যাগ করলেন চবির হল প্রভোস্ট বিদ্যুৎ সংকট: ‘১২ ঘণ্টায় ৯ বার লোডশেডিং, এলেও ২০ মিনিটের বেশি থাকে না’ আর কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয়: আছিয়ার মা নির্বাচনের ৭ বছর পর রাশেদ খাঁনকে ডাকসুর জিএস ঘোষণা ধারের টাকা ফেরত না দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেত্রীর ৬ মাসের কারাদণ্ড বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কাল: দেশবাসীকে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবকের গলায় জুতার মালা দিয়ে এলাকা ঘুরানো হলো পদ্মা সেতুতে উল্টে গেল যাত্রীবাহী বাস, গুরুতর আহত ১০

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৩,৭০০ কোটি টাকা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের আমানত প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

তবে এই বৃদ্ধির আগে টানা দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত কমেছিল। ২০২৩ সালের শেষে আমানতের পরিমাণ নেমে আসে মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে, যা ছিল গত ২৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ধারাবাহিকভাবে আমানতের পরিমাণ আবার বাড়তে শুরু করে।

এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ সেই রেকর্ডের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ১০ কোটি সুইস ফ্রাঁ অতিক্রম করে। সে বছর আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ কোটি ৪৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ২৪ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ২৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। পরবর্তী কয়েক বছরে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬ সালে ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের বছরে তা আবার বেড়ে ৬১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয় এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে উন্নীত হয়।

তবে ২০২২ সালে আমানতের পরিমাণ হঠাৎ কমে ৫ কোটি ৫২ লাখ এবং ২০২৩ সালে আরও কমে ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে নেমে আসে। এরপর গত দুই বছরে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সুইস ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। এর অন্যতম কারণ দেশটির ব্যাংকিং গোপনীয়তা নীতি। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিদেশি আমানতকারীদের তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

তবে দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাবি, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য অংশের অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত বা বিদেশে পাচার করা সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসএনবির প্রকাশিত তথ্য থেকে আমানতকারীদের পরিচয় বা অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায় না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

রংপুরে চার খুন হত্যার আগে-পরে ৮০ বার ফোনালাপ হয় আসামিদের: পুলিশ

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৩,৭০০ কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৩:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের আমানত প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

তবে এই বৃদ্ধির আগে টানা দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত কমেছিল। ২০২৩ সালের শেষে আমানতের পরিমাণ নেমে আসে মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে, যা ছিল গত ২৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ধারাবাহিকভাবে আমানতের পরিমাণ আবার বাড়তে শুরু করে।

এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ সেই রেকর্ডের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ১০ কোটি সুইস ফ্রাঁ অতিক্রম করে। সে বছর আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ কোটি ৪৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ২৪ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ২৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। পরবর্তী কয়েক বছরে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬ সালে ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের বছরে তা আবার বেড়ে ৬১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয় এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে উন্নীত হয়।

তবে ২০২২ সালে আমানতের পরিমাণ হঠাৎ কমে ৫ কোটি ৫২ লাখ এবং ২০২৩ সালে আরও কমে ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে নেমে আসে। এরপর গত দুই বছরে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সুইস ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। এর অন্যতম কারণ দেশটির ব্যাংকিং গোপনীয়তা নীতি। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিদেশি আমানতকারীদের তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

তবে দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাবি, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য অংশের অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত বা বিদেশে পাচার করা সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসএনবির প্রকাশিত তথ্য থেকে আমানতকারীদের পরিচয় বা অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায় না।