ঢাকা , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলকাতার ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’র নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জী সড়ক’ নামকরণ করলো বিজেপি সরকার সৌদির পতাকায় ‘কালেমা তাইয়েবা’ থাকায় ম্যাচের আগে মাটিতে বিছানোর বদলে হাতে ধরে প্রদর্শন করাচ্ছে ফিফা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সফল হলে নেতানিয়াহুর ‘রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ’: পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঢাকাসহ দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ আগামীকাল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, মাঠে থাকবে ডিএমপির ১৮ হাজার পুলিশ ‘অভিমানী’ মাজারের সেই কুমির অনশনে, ১৯ দিনেও খাবার তোলেনি মুখে ইরানের ফুটবলাররা দেশ ও জাতির মর্যাদা রক্ষার লড়াই করছে: আরাঘচি

‘আমি বা ইতালি মিনতি করে না’, ছবি তোলা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে ক্ষুব্ধ মেলোনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

জি-৭ সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ছবি তোলার জন্য ‘মিনতি’ করেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিতে দুই নেতার মধ্যে তুমুল বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মেলোনি। এ ঘটনার জেরে আগামী সপ্তাহের শুরুতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পর থেকে এই দুই নেতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যে কতটা ফাটল ধরেছে, এই ঘটনা সেটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

চলতি সপ্তাহে পূর্ব ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে বেশ কিছুক্ষণ ঘনিষ্ঠ আলাপ করতে দেখা যায়। একটি ছোট সোফায় মেলোনির হাসিমুখে কথা বলার ভিডিও-ও ধারণ করা হয়। সম্মেলন শেষে মেলোনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্ক অপরিবর্তিত রয়েছে এবং কোনও ক্ষোভ নেই। তবে এর পরপরই ইতালির লা সেভেন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ছবি তোলার জন্য সে (মেলোনি) আমার কাছে মিনতি করেছিল; আমার ওর জন্য করুণা হয়েছিল।’

 

ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, ‘আমি তার সঙ্গে কথা বলায় সে সম্ভবত খুশি।’ চ্যানেলটি ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য প্রচার না করে ইতালীয় ভাষায় ভয়েস-ওভার দিয়ে এটি সম্প্রচার করে।

 

 

এই মন্তব্যে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রামে নিজের ৭০ লাখ অনুসারীর উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় মেলোনি বলেন, ‘আমি সত্যিই স্তব্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তা আমার জানা নেই।’

 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি ট্রাম্প এতটা দৃঢ়তা দেখান না, বরং তাদের নেতাদের সঙ্গে অনেক বেশি আপসকারী মনোভাব দেখান, যা দুঃখজনক।

 

ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মেলোনি বলেন, তবে একটি বিষয় তার মনে রাখা উচিত: আমি বা ইতালি কেউই কখনও মিনতি করে না।

২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়া মেলোনি ছিলেন একমাত্র ইউরোপীয় নেতা, যিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রকাশ্য বিরোধিতা করায় গত এপ্রিলে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে মেলোনিকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’ পরে ট্রাম্প যখন পোপ লিও চতুর্দশকে ‘অপরাধের বিষয়ে দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতিকে ভয়ানক’ বলে সমালোচনা করেন, তখনও মেলোনি একে গ্রহণযোগ্য নয় বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

‘আমি বা ইতালি মিনতি করে না’, ছবি তোলা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে ক্ষুব্ধ মেলোনি

আপডেট সময় ১০:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

জি-৭ সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ছবি তোলার জন্য ‘মিনতি’ করেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিতে দুই নেতার মধ্যে তুমুল বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মেলোনি। এ ঘটনার জেরে আগামী সপ্তাহের শুরুতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পর থেকে এই দুই নেতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যে কতটা ফাটল ধরেছে, এই ঘটনা সেটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

চলতি সপ্তাহে পূর্ব ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে বেশ কিছুক্ষণ ঘনিষ্ঠ আলাপ করতে দেখা যায়। একটি ছোট সোফায় মেলোনির হাসিমুখে কথা বলার ভিডিও-ও ধারণ করা হয়। সম্মেলন শেষে মেলোনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্ক অপরিবর্তিত রয়েছে এবং কোনও ক্ষোভ নেই। তবে এর পরপরই ইতালির লা সেভেন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ছবি তোলার জন্য সে (মেলোনি) আমার কাছে মিনতি করেছিল; আমার ওর জন্য করুণা হয়েছিল।’

 

ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, ‘আমি তার সঙ্গে কথা বলায় সে সম্ভবত খুশি।’ চ্যানেলটি ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য প্রচার না করে ইতালীয় ভাষায় ভয়েস-ওভার দিয়ে এটি সম্প্রচার করে।

 

 

এই মন্তব্যে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রামে নিজের ৭০ লাখ অনুসারীর উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় মেলোনি বলেন, ‘আমি সত্যিই স্তব্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তা আমার জানা নেই।’

 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি ট্রাম্প এতটা দৃঢ়তা দেখান না, বরং তাদের নেতাদের সঙ্গে অনেক বেশি আপসকারী মনোভাব দেখান, যা দুঃখজনক।

 

ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মেলোনি বলেন, তবে একটি বিষয় তার মনে রাখা উচিত: আমি বা ইতালি কেউই কখনও মিনতি করে না।

২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়া মেলোনি ছিলেন একমাত্র ইউরোপীয় নেতা, যিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রকাশ্য বিরোধিতা করায় গত এপ্রিলে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে মেলোনিকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’ পরে ট্রাম্প যখন পোপ লিও চতুর্দশকে ‘অপরাধের বিষয়ে দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতিকে ভয়ানক’ বলে সমালোচনা করেন, তখনও মেলোনি একে গ্রহণযোগ্য নয় বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।