ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রবাসীদের দিয়ে যুবদলের কমিটি, একযোগে ১৬ নেতার পদত্যাগ শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী ঘুষের টাকা গুনতে গুনতে ভূমি কর্মকর্তা বললেন, এক মাসে কাজ কমপ্লিট করে দেওয়া হবে ‘আওয়ামী লীগ তো ভারতে জায়গা পেয়েছে, আপনারা কোথায় পালাবেন’—গাংনীতে এনসিপির পথসভায় বক্তারা ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, জায়গা পেলেন ওসমান হাদিও আগে ভোট চুরি হতো এবার বিএনপি ফল চুরি করেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ রক্ত লেখা ইতিহাস কখনো মুছে যায় না: নাহিদ ইসলাম ভারতের দিকে তাক করা চীনের ১১ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, স্যাটেলাইট ইমেজে অবাক করা দৃশ্য তিন শিক্ষার্থীকে পে’টা’লে’ন সালাহউদ্দিন আম্মারসহ শিবির নেতারা ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

‘আমি বা ইতালি মিনতি করে না’, ছবি তোলা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে ক্ষুব্ধ মেলোনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

জি-৭ সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ছবি তোলার জন্য ‘মিনতি’ করেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিতে দুই নেতার মধ্যে তুমুল বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মেলোনি। এ ঘটনার জেরে আগামী সপ্তাহের শুরুতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পর থেকে এই দুই নেতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যে কতটা ফাটল ধরেছে, এই ঘটনা সেটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

চলতি সপ্তাহে পূর্ব ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে বেশ কিছুক্ষণ ঘনিষ্ঠ আলাপ করতে দেখা যায়। একটি ছোট সোফায় মেলোনির হাসিমুখে কথা বলার ভিডিও-ও ধারণ করা হয়। সম্মেলন শেষে মেলোনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্ক অপরিবর্তিত রয়েছে এবং কোনও ক্ষোভ নেই। তবে এর পরপরই ইতালির লা সেভেন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ছবি তোলার জন্য সে (মেলোনি) আমার কাছে মিনতি করেছিল; আমার ওর জন্য করুণা হয়েছিল।’

 

ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, ‘আমি তার সঙ্গে কথা বলায় সে সম্ভবত খুশি।’ চ্যানেলটি ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য প্রচার না করে ইতালীয় ভাষায় ভয়েস-ওভার দিয়ে এটি সম্প্রচার করে।

 

 

এই মন্তব্যে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রামে নিজের ৭০ লাখ অনুসারীর উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় মেলোনি বলেন, ‘আমি সত্যিই স্তব্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তা আমার জানা নেই।’

 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি ট্রাম্প এতটা দৃঢ়তা দেখান না, বরং তাদের নেতাদের সঙ্গে অনেক বেশি আপসকারী মনোভাব দেখান, যা দুঃখজনক।

 

ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মেলোনি বলেন, তবে একটি বিষয় তার মনে রাখা উচিত: আমি বা ইতালি কেউই কখনও মিনতি করে না।

২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়া মেলোনি ছিলেন একমাত্র ইউরোপীয় নেতা, যিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রকাশ্য বিরোধিতা করায় গত এপ্রিলে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে মেলোনিকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’ পরে ট্রাম্প যখন পোপ লিও চতুর্দশকে ‘অপরাধের বিষয়ে দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতিকে ভয়ানক’ বলে সমালোচনা করেন, তখনও মেলোনি একে গ্রহণযোগ্য নয় বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবাসীদের দিয়ে যুবদলের কমিটি, একযোগে ১৬ নেতার পদত্যাগ

‘আমি বা ইতালি মিনতি করে না’, ছবি তোলা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে ক্ষুব্ধ মেলোনি

আপডেট সময় ১০:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

জি-৭ সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ছবি তোলার জন্য ‘মিনতি’ করেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিতে দুই নেতার মধ্যে তুমুল বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মেলোনি। এ ঘটনার জেরে আগামী সপ্তাহের শুরুতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পর থেকে এই দুই নেতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যে কতটা ফাটল ধরেছে, এই ঘটনা সেটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

চলতি সপ্তাহে পূর্ব ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে বেশ কিছুক্ষণ ঘনিষ্ঠ আলাপ করতে দেখা যায়। একটি ছোট সোফায় মেলোনির হাসিমুখে কথা বলার ভিডিও-ও ধারণ করা হয়। সম্মেলন শেষে মেলোনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্ক অপরিবর্তিত রয়েছে এবং কোনও ক্ষোভ নেই। তবে এর পরপরই ইতালির লা সেভেন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ছবি তোলার জন্য সে (মেলোনি) আমার কাছে মিনতি করেছিল; আমার ওর জন্য করুণা হয়েছিল।’

 

ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, ‘আমি তার সঙ্গে কথা বলায় সে সম্ভবত খুশি।’ চ্যানেলটি ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য প্রচার না করে ইতালীয় ভাষায় ভয়েস-ওভার দিয়ে এটি সম্প্রচার করে।

 

 

এই মন্তব্যে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রামে নিজের ৭০ লাখ অনুসারীর উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় মেলোনি বলেন, ‘আমি সত্যিই স্তব্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তা আমার জানা নেই।’

 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি ট্রাম্প এতটা দৃঢ়তা দেখান না, বরং তাদের নেতাদের সঙ্গে অনেক বেশি আপসকারী মনোভাব দেখান, যা দুঃখজনক।

 

ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মেলোনি বলেন, তবে একটি বিষয় তার মনে রাখা উচিত: আমি বা ইতালি কেউই কখনও মিনতি করে না।

২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়া মেলোনি ছিলেন একমাত্র ইউরোপীয় নেতা, যিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রকাশ্য বিরোধিতা করায় গত এপ্রিলে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে মেলোনিকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’ পরে ট্রাম্প যখন পোপ লিও চতুর্দশকে ‘অপরাধের বিষয়ে দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতিকে ভয়ানক’ বলে সমালোচনা করেন, তখনও মেলোনি একে গ্রহণযোগ্য নয় বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।