ঢাকা , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কলকাতার ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’র নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জী সড়ক’ নামকরণ করলো বিজেপি সরকার সৌদির পতাকায় ‘কালেমা তাইয়েবা’ থাকায় ম্যাচের আগে মাটিতে বিছানোর বদলে হাতে ধরে প্রদর্শন করাচ্ছে ফিফা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সফল হলে নেতানিয়াহুর ‘রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ’: পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঢাকাসহ দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ আগামীকাল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, মাঠে থাকবে ডিএমপির ১৮ হাজার পুলিশ ‘অভিমানী’ মাজারের সেই কুমির অনশনে, ১৯ দিনেও খাবার তোলেনি মুখে ইরানের ফুটবলাররা দেশ ও জাতির মর্যাদা রক্ষার লড়াই করছে: আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচের পর ড্রেসিং রুমে চিঠি রেখে গেল ইরান রাখালবালক থেকে ইরানের বিশ্বকাপের নায়ক আলিরেজা

২০ বছর হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীরা কী প্রতিদান দেন: প্রশ্ন চালকের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

ভাই, বছরের পর বছর হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করা শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরিবহন শ্রমিকদেরতুচ্ছতাচ্ছিল্য ছাড়াআর কী করেন? রাজধানীর এক বাসচালকের এমনই একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে এই মন্তব্য করেন তিনি। তার এমন মন্ত্যব্যে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন অনেকে, আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি রাষ্ট্রের নীতির অংশ, ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়। গতকাল রোববার (২১ জুন) ভাইরাল ভিডিওটি থেকে ওই বাসচালকের নাম কিংবা পরিচয় জানা যায়নি। বাসচালক বলেন, সর্বনিম্ন ২০ বছর পিঠে কইরা বহন করি বা গাড়িতে কইরা বহন করি। এই স্টুডেন্টরা প্রতিষ্ঠিত হইয়া আমাদের সাধারণ শ্রমিকদের জন্য কী করছে?

পরিবহন শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ক নানান তাত্ত্বিক আলোচনা হলেও একজন শ্রমিকের মুখে এ ধরনের প্রশ্ন অনেকের কাছেই নতুন মনে হয়েছে। ভিডিওটির নিচে হাজারো মন্তব্যে নেটিজেনরা লিখেছেন, ছাত্রজীবনে দীর্ঘ সময় তারা হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন, কিন্তু এর পেছনে শ্রমিকদের ত্যাগ বা আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি কখনো এভাবে ভাবেননি। চালকের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ও তার প্রতিদান নিয়ে প্রশ্ন।  তার ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দুই দশক হাফ ভাড়ার সুবিধা ভোগ করে। এই সময়ে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের শিক্ষাজীবন সহজ করতে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু সেই শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনা শেষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন শ্রমিকদের জন্য তাদের কোনো অবদান চোখে পড়ে না।

তিনি বলেন, যে শিক্ষার্থী একসময় হাফ ভাড়ায় বাসে চলাচল করেছে, সে পরে ডাক্তার, প্রকৌশলী, পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা বিচারক হয়। কিন্তু কোনো দিন কি তারা পরিবহন শ্রমিকদের জন্য তাদের সেবার মূল্য কমিয়েছে? চালকের ভাষায়, অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকেও অন্যদের মতো পূর্ণ ফি দিতে হয়, যদিও সেই চিকিৎসক একসময় তার কাছ থেকে হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন। তিনি বলেন, উনি ১০ জনের থেকে যে ভিজিট নিছেন, আমার থেকেও একই ভিজিট নিছেন; কিন্তু আমার কাছে তো ২০ বছর উনি সুবিধা নিছেন। ভিডিওটিতে পরিবহন শ্রমিকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও উঠে এসেছে। চালকের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের নিজের ভাতিজা, ভাগিনা, ছোট ভাই কিংবা সন্তানের মতো দেখেন। নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অনেকেই সেই শ্রমিকদের প্রতি অবজ্ঞার মনোভাব দেখান।

তার অভিযোগ, ভাড়া বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে সামান্য বিরোধ তৈরি হলেই অনেক সময় শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে বাস আটকে দেন, শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং মালিকপক্ষের কাছে অভিযোগ তুলে শাস্তির ব্যবস্থা করেন।  চালক বলেন, যখন একটু সামান্য ব্যাঘাত ঘটে তখন তারা ভাবে না যে এটা আমার বাবা হইতে পারে বা বড় ভাই হইতে পারে। তবে ভিডিওটির মন্তব্যঘরে সবাই যে চালকের সঙ্গে একমত হয়েছেন, তা নয়। অখিল মাহমুদ নামের একজন লিখেছেন, এটা সরকারি নীতি। দেশে চলতে হলে আইন মানতেই হবে। স্টুডেন্টদের প্রতিদিন চলতে হয়। এরাই বড় হয়ে দেশের কাজে লাগে। দেশের স্বার্থে এতটুকু করতেই হবে। অখিল মাহমুদকে আরেকজন আবার এভাবে রিপ্লাই দিয়েছেন, এসব বাধ্যকর আইন কি শুধু গরিব শ্রমিকদের জন্যই?

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতার ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’র নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জী সড়ক’ নামকরণ করলো বিজেপি সরকার

২০ বছর হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীরা কী প্রতিদান দেন: প্রশ্ন চালকের

আপডেট সময় ১১:১৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ভাই, বছরের পর বছর হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করা শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরিবহন শ্রমিকদেরতুচ্ছতাচ্ছিল্য ছাড়াআর কী করেন? রাজধানীর এক বাসচালকের এমনই একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে এই মন্তব্য করেন তিনি। তার এমন মন্ত্যব্যে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন অনেকে, আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি রাষ্ট্রের নীতির অংশ, ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়। গতকাল রোববার (২১ জুন) ভাইরাল ভিডিওটি থেকে ওই বাসচালকের নাম কিংবা পরিচয় জানা যায়নি। বাসচালক বলেন, সর্বনিম্ন ২০ বছর পিঠে কইরা বহন করি বা গাড়িতে কইরা বহন করি। এই স্টুডেন্টরা প্রতিষ্ঠিত হইয়া আমাদের সাধারণ শ্রমিকদের জন্য কী করছে?

পরিবহন শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ক নানান তাত্ত্বিক আলোচনা হলেও একজন শ্রমিকের মুখে এ ধরনের প্রশ্ন অনেকের কাছেই নতুন মনে হয়েছে। ভিডিওটির নিচে হাজারো মন্তব্যে নেটিজেনরা লিখেছেন, ছাত্রজীবনে দীর্ঘ সময় তারা হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন, কিন্তু এর পেছনে শ্রমিকদের ত্যাগ বা আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি কখনো এভাবে ভাবেননি। চালকের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ও তার প্রতিদান নিয়ে প্রশ্ন।  তার ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দুই দশক হাফ ভাড়ার সুবিধা ভোগ করে। এই সময়ে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের শিক্ষাজীবন সহজ করতে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু সেই শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনা শেষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন শ্রমিকদের জন্য তাদের কোনো অবদান চোখে পড়ে না।

তিনি বলেন, যে শিক্ষার্থী একসময় হাফ ভাড়ায় বাসে চলাচল করেছে, সে পরে ডাক্তার, প্রকৌশলী, পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা বিচারক হয়। কিন্তু কোনো দিন কি তারা পরিবহন শ্রমিকদের জন্য তাদের সেবার মূল্য কমিয়েছে? চালকের ভাষায়, অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকেও অন্যদের মতো পূর্ণ ফি দিতে হয়, যদিও সেই চিকিৎসক একসময় তার কাছ থেকে হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন। তিনি বলেন, উনি ১০ জনের থেকে যে ভিজিট নিছেন, আমার থেকেও একই ভিজিট নিছেন; কিন্তু আমার কাছে তো ২০ বছর উনি সুবিধা নিছেন। ভিডিওটিতে পরিবহন শ্রমিকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও উঠে এসেছে। চালকের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের নিজের ভাতিজা, ভাগিনা, ছোট ভাই কিংবা সন্তানের মতো দেখেন। নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অনেকেই সেই শ্রমিকদের প্রতি অবজ্ঞার মনোভাব দেখান।

তার অভিযোগ, ভাড়া বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে সামান্য বিরোধ তৈরি হলেই অনেক সময় শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে বাস আটকে দেন, শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং মালিকপক্ষের কাছে অভিযোগ তুলে শাস্তির ব্যবস্থা করেন।  চালক বলেন, যখন একটু সামান্য ব্যাঘাত ঘটে তখন তারা ভাবে না যে এটা আমার বাবা হইতে পারে বা বড় ভাই হইতে পারে। তবে ভিডিওটির মন্তব্যঘরে সবাই যে চালকের সঙ্গে একমত হয়েছেন, তা নয়। অখিল মাহমুদ নামের একজন লিখেছেন, এটা সরকারি নীতি। দেশে চলতে হলে আইন মানতেই হবে। স্টুডেন্টদের প্রতিদিন চলতে হয়। এরাই বড় হয়ে দেশের কাজে লাগে। দেশের স্বার্থে এতটুকু করতেই হবে। অখিল মাহমুদকে আরেকজন আবার এভাবে রিপ্লাই দিয়েছেন, এসব বাধ্যকর আইন কি শুধু গরিব শ্রমিকদের জন্যই?