তার নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফুটবলের নির্মল আনন্দের এক অনন্য ছবি। পরিসংখ্যান, ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ভক্তদের হৃদয়ে খেলার সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো সেই বিরল ফুটবলারদের একজন, যাদের স্মরণ করা হয় শুধু সাফল্যের জন্য নয়, ফুটবলকে শিল্পে রূপ দেওয়ার ক্ষমতার জন্য।
মাঠে বল পায়ে তার চিরচেনা হাসি, চোখ ধাঁধানো ড্রিবল, কল্পনাতীত পাস এবং মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়ার দক্ষতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে বছরের পর বছর। প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে দিতে তার সৃজনশীলতা ফুটবলকে কেবল একটি খেলা নয়, বরং বিনোদনের এক অসাধারণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছেন রোনালদিনহো।
সেই রোনালদিনহো যদি আবার মাঠে ফেরেন তাহলে কেমন হয়? যদি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরেন? ব্রাজিল ভক্তদের জন্য এর চেয়ে নিশ্চিতভাবেই আনন্দের খবর আর কিছু হতে পারে না। তেমন কিছুই হতে যাচ্ছে।
অবসরের এক দশকেরও বেশি সময় পর ইতালির সেরি সি ক্লাব রাভেন্নার সঙ্গে চুক্তি করেছেন রোনালদিনহো। ৪৬ বছর বয়সে ফুটবলে ফেরার ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাবেক এই তারকা।
চুক্তি সইয়ের পর রোনালদিনহো বলেন, ‘আমি আবার বল নিয়ে নাচার জন্য মুখিয়ে আছি। ফুটবল সবসময়ই আমার কাছে আনন্দের বিষয় ছিল এবং সেই আনন্দের চেতনা রাভেন্নায় নিয়ে যেতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। জাদু শুরু হোক!’
রাভেন্না ক্লাবটির পরিচালনায় রয়েছেন সিপ্রিয়ানি রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ডের ইগনাজিও সিপ্রিয়ানি। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘রোনালদিনহো আমার শৈশবের আদর্শ ছিলেন। আমি আশা করি তার সম্পৃক্ততা নতুন প্রজন্মের সমর্থকদের রাভেন্নার প্রেমে পড়তে অনুপ্রাণিত করবে।’
রোনালদিনহো সর্বশেষ পেশাদার ফুটবল খেলেছিলেন ২০১৫ সালে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে। ইতালিতে এটি হবে তার দ্বিতীয় অধ্যায়। এর আগে তিনি ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এসি মিলানের জার্সিতে খেলেছিলেন।
ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা ২০০৫ সালে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতেছিলেন। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত রোনালদিনহো। ফুটবল মাঠে তার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা এরই মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















