ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে উল্লেখ করে ক্রেমলিন জানিয়েছে, বিশ্বকে একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক যুদ্ধ থেকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় বা গ্যারান্টি হলো পারমাণবিক অস্ত্র। বহুজাতিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার নতুন আশঙ্কার মধ্যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য এলো।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মস্কোতে এক পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া বিশ্বে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, যা একটি বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে সক্ষম। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের সমকক্ষ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাসম্পন্ন অ-পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম দুই পারমাণবিক শক্তির মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫০টিতে সীমিত রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল।

চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ফলে দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম দেশ দুটির পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ রইল না। যদিও দুই দেশই উচ্চপর্যায়ের সামরিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে সম্মত হয়েছে, তবে চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন কোনো চুক্তি করার বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর লক্ষণ দেখা যায়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অবশ্য দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছিল।

 

এদিকে ইউক্রেন অভিযানের শুরু থেকেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন, যা পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এমন একটি নতুন চুক্তির পক্ষে চাপ দিচ্ছেন যেখানে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, কারণ বেইজিংয়ের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

তবে চীন আমেরিকার এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে মস্কোর দাবি, নতুন কোনো চুক্তিতে যদি চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতেই হয়, তবে ওয়াশিংটনের পরমাণু-সমৃদ্ধ মিত্র দেশ ব্রিটেন এবং ফ্রান্সকেও এই চুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সব মিলিয়ে চুক্তিহীন এই নতুন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে এক অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া

আপডেট সময় ১২:৩৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে উল্লেখ করে ক্রেমলিন জানিয়েছে, বিশ্বকে একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক যুদ্ধ থেকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় বা গ্যারান্টি হলো পারমাণবিক অস্ত্র। বহুজাতিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার নতুন আশঙ্কার মধ্যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য এলো।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মস্কোতে এক পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া বিশ্বে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, যা একটি বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে সক্ষম। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের সমকক্ষ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাসম্পন্ন অ-পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম দুই পারমাণবিক শক্তির মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫০টিতে সীমিত রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল।

চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ফলে দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম দেশ দুটির পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ রইল না। যদিও দুই দেশই উচ্চপর্যায়ের সামরিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে সম্মত হয়েছে, তবে চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন কোনো চুক্তি করার বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর লক্ষণ দেখা যায়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অবশ্য দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছিল।

 

এদিকে ইউক্রেন অভিযানের শুরু থেকেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন, যা পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এমন একটি নতুন চুক্তির পক্ষে চাপ দিচ্ছেন যেখানে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, কারণ বেইজিংয়ের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

তবে চীন আমেরিকার এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে মস্কোর দাবি, নতুন কোনো চুক্তিতে যদি চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতেই হয়, তবে ওয়াশিংটনের পরমাণু-সমৃদ্ধ মিত্র দেশ ব্রিটেন এবং ফ্রান্সকেও এই চুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সব মিলিয়ে চুক্তিহীন এই নতুন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে এক অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি।