প্রায় তিন বছর পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে দেখা গেল নেইমারকে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দীর্ঘ ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটান ব্রাজিলিয়ান তারকা। ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ড্রেসিংরুমে কেঁদেছেনও।
মিয়ামিতে ভিনিসিয়ুস ও কুনহার গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে সেলেসাও সমর্থকদের কাছে এদিন স্বস্তির খবর ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ফরোয়ার্ড ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে বলেন, “আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। ড্রেসিংরুমে একা বসে কেঁদেছি। এতদিন পর আবার এই অনুভূতিগুলো ফিরে পাওয়া আমার জন্য বিশাল স্বস্তির।”
ব্রাজিলের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন কখনোই ছাড়েননি বলে জানান নেইমার। তার ভাষায়, “জাতীয় দলের হয়ে খেলা, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া, এমনকি শিরোপা জেতার স্বপ্নও আমি সবসময় দেখেছি। তাই এই মুহূর্তটা আমার জন্য বিশেষ।”
দীর্ঘ বিরতির সময়টাও সহজ ছিল না। তবে লক্ষ্য থেকে কখনো সরে যাননি তিনি। নেইমার বলেন, “কঠিন সময় ছিল। কিন্তু আমি কখনো অনুশীলন বন্ধ করিনি। প্রায় ২৫ দিন খুব কঠোর পরিশ্রম করেছি, যাতে প্রস্তুত থাকতে পারি।” নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অবশ্য রসিকতাও করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। মজাচ্ছলেই বলছিলেন, ‘এখন ২০০ মিনিট খেলতেও পারি’।
তিন ম্যাচে ৪ গোল করা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রেরও প্রশংসা করেছেন নেইমার। ভিনি সম্পর্কে বলেন, “এই মুহূর্তে সে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে দুর্দান্ত ছন্দে আছে, ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। সামনে নকআউট পর্ব, তাই ওর মতো খেলোয়াড় আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
কথাপ্রসঙ্গে উঠে আসল লিওনেল মেসির প্রসঙ্গ। ঘটনাচক্রে এদিনই ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ১৮ গোল করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের বন্ধু মেসিকে নিয়ে নেইমারের মন্তব্য, “মেসি মাঠের বাইরের মানুষ হিসেবে আরও ভালো।” আরও যোগ করেন, “মাঠে সে কতটা অসাধারণ, সেটা সবাই জানে। তাহলে ভাবুন, মাঠের বাইরে সে কতটা ভালো মানুষ!”
দুজনের এখনও নিয়মিত যোগাযোগ হয় বলেও জানান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক কথা বলি। এই বিশ্বকাপ চলাকালেও কথা হয়েছে। সে জানে, আমি তাকে কতটা ভালোবাসি এবং শ্রদ্ধা করি।’
সবশেষে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নেইমার। ব্রাজিল তারকা বলেন, ‘আর্জেন্টিনার মানুষের কাছ থেকে আমি সবসময় অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

ডেস্ক রিপোর্ট 



















