কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত এলাকায় রাস্তার দুই পাশে কালেমা লেখা সাদা পতাকা টাঙানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন বলছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২৭ জুন) শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও নাফ নদীর জেটিঘাটে সারিবদ্ধভাবে কালেমা লেখা সাদা পতাকা টাঙানো অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, মাদ্রাসাপড়ুয়া একদল যুবক এসব পতাকা টাঙানোর পর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্থানীয় এক যুবক দাবি করেন, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের ‘আল হিদায়া ছাত্র সংগঠন’-এর উদ্যোগেই এ আয়োজন করা হয়েছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, কালেমা লেখা পতাকা দেখে তার ভালো লেগেছে।
‘আল হিদায়া ছাত্র সংগঠন’ এবং ‘বিউটি অব শাহপরীর দ্বীপ’ নামে দুটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক শরীরে কালেমা লেখা সাদা পতাকা জড়িয়ে এবং হাতে একই ধরনের পতাকা নিয়ে শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন সড়ক ও জেটিঘাট এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে তারা পতাকা প্রদর্শনের বিভিন্ন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
তবে সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, শনিবার সকালে সড়কের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো বেশ কয়েকটি পতাকা কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। এর প্রতিবাদে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাইকে প্রোফাইল ছবিতে কালেমা লেখা পতাকা ব্যবহারের আহ্বান জানান।
শাহপরীর দ্বীপ ডাঙারপাড়া এশা’ আতুল ইসলাম ফোরকানিয়া মাদরাসার শিক্ষক আনসারুল হক বলেন, ‘আল হিদায়া ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগেই এসব পতাকা টাঙানো হয়েছে। আমিও এতে অংশ নিয়েছি। ইসলাম ও কালেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। পরে প্রশাসনিক চাপের কথা জানতে পেরে আমি নিজেই কিছু পতাকা নামিয়ে ফেলি।’
সংগঠনটির উপদেষ্টা মোহাম্মদ আসেম বিল্লাহ তাহেরী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের ধারাবাহিকতায় টেকনাফ সীমান্তেও তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। ইসলামকে ভালোবেসেই এটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, কিছু পতাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর প্রতিবাদে ভবিষ্যতে আরও পতাকা উত্তোলন করা হবে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, হঠাৎ করে বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের পতাকা টাঙানোয় মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
সবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে কালেমা লেখা সাদা পতাকা টাঙানো হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এগুলো স্থাপন করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পতাকা টাঙানোর উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















