ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া এজেন্সি সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল ডিবি হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকে জামিন না দেওয়ায় জেল সুপারকে শোকজ বিচারকের তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পেয়ে ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রেতা ছিলেন: ফজলুর রহমান মাহবুবা হাকিমের হলফনামায় তথ্য গোপন নয়, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’ জাকির নায়েকের সঙ্গে আজহারির সাক্ষাৎ, উপহার পেলেন ‘বিশেষ আতর’ আবারও বাড়ল নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ঢাবির বিজয় একাত্তর হলের ক্লাব রুমের নাম ফলক ভাঙচুর ইরানের সরকার পতন ও হামাস-হিজবুল্লাহকে নির্মূল করব: নেতানিয়াহু

শিক্ষার্থীদের আসল শত্রু হলো উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল ‘আরএসএস’: রাহুল গান্ধী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও কট্টর উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘকে (আরএসএস) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। লোকসভায় প্রশ্নফাঁসবিরোধী নতুন আইন নিয়ে আলোচনার সময় তিনি আরএসএসকে শিক্ষার্থীদের আসল শত্রু বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী নন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছে আরএসএস। বক্তব্যের শুরুতে রাহুল বলেন, সমাজে দুই ধরনের মানুষ রয়েছে। একদল সব সময় শিখতে চায়, নতুন কিছু জানতে চায় এবং সত্যের সন্ধান করে। অন্যদিকে আরেক দল মনে করে তারা সবই জানে। এই দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষকে বোঝাতে তিনি একটিঅসংসদীয় শব্দব্যবহার করেন। এতেই সরকারপক্ষের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান।

সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুলকে ওই শব্দ ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানান। এনডিএ জোটের সদস্যরাও তার সঙ্গে প্রতিবাদে যোগ দেন। রাহুল বলেন, তিনি সংসদের কোনও সদস্যকে উদ্দেশ্য করে ওই শব্দ ব্যবহার করেননি। কিন্তু তাতেও সরকারপক্ষের বিক্ষোভ থামেনি। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও রাহুলকে ওই শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান। এরপর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে শব্দটি বাদ দেয়ার নির্দেশ দেন।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ শিক্ষামন্ত্রীর হাতে নয়, আরএসএসের হাতে। তার ভাষায়, ‘শিক্ষামন্ত্রী নন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালায় আরএসএস। তারা শিক্ষার্থীদের সত্য ও জ্ঞানের অনুসন্ধান করতে দিচ্ছে না। বরং নিজেদের কল্পিত ইতিহাস পড়তে বাধ্য করছে।তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধু একটি মুখ। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শত্রু হলো আরএসএস।গত ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের হামলার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে কথা বলার সাহস নেই।

এ বক্তব্যের পর আবারও আপত্তি জানান কিরেন রিজিজু। তিনি রাহুলের কাছে অভিযোগের প্রমাণ চান এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। রিজিজু বলেন, ‘অমিত শাহ হামলার নির্দেশ দিয়েছেনএর প্রমাণ কোথায়? বিরোধীদলীয় নেতা এভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে পারেন না। তার বক্তব্য ফিরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত।এর জবাবে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এত বড় মাত্রায় বলপ্রয়োগের অনুমতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ দিতে পারেন না। এ বক্তব্যের পর আবারও সরকারপক্ষের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। তখন স্পিকার ওম বিড়লা রাহুলকে স্মরণ করিয়ে দেন, কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করা সংসদের নিয়মের পরিপন্থি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া এজেন্সি সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির

শিক্ষার্থীদের আসল শত্রু হলো উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল ‘আরএসএস’: রাহুল গান্ধী

আপডেট সময় ১০:৫১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও কট্টর উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘকে (আরএসএস) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। লোকসভায় প্রশ্নফাঁসবিরোধী নতুন আইন নিয়ে আলোচনার সময় তিনি আরএসএসকে শিক্ষার্থীদের আসল শত্রু বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী নন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছে আরএসএস। বক্তব্যের শুরুতে রাহুল বলেন, সমাজে দুই ধরনের মানুষ রয়েছে। একদল সব সময় শিখতে চায়, নতুন কিছু জানতে চায় এবং সত্যের সন্ধান করে। অন্যদিকে আরেক দল মনে করে তারা সবই জানে। এই দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষকে বোঝাতে তিনি একটিঅসংসদীয় শব্দব্যবহার করেন। এতেই সরকারপক্ষের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান।

সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুলকে ওই শব্দ ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানান। এনডিএ জোটের সদস্যরাও তার সঙ্গে প্রতিবাদে যোগ দেন। রাহুল বলেন, তিনি সংসদের কোনও সদস্যকে উদ্দেশ্য করে ওই শব্দ ব্যবহার করেননি। কিন্তু তাতেও সরকারপক্ষের বিক্ষোভ থামেনি। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও রাহুলকে ওই শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান। এরপর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে শব্দটি বাদ দেয়ার নির্দেশ দেন।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ শিক্ষামন্ত্রীর হাতে নয়, আরএসএসের হাতে। তার ভাষায়, ‘শিক্ষামন্ত্রী নন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালায় আরএসএস। তারা শিক্ষার্থীদের সত্য ও জ্ঞানের অনুসন্ধান করতে দিচ্ছে না। বরং নিজেদের কল্পিত ইতিহাস পড়তে বাধ্য করছে।তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধু একটি মুখ। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শত্রু হলো আরএসএস।গত ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের হামলার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে কথা বলার সাহস নেই।

এ বক্তব্যের পর আবারও আপত্তি জানান কিরেন রিজিজু। তিনি রাহুলের কাছে অভিযোগের প্রমাণ চান এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। রিজিজু বলেন, ‘অমিত শাহ হামলার নির্দেশ দিয়েছেনএর প্রমাণ কোথায়? বিরোধীদলীয় নেতা এভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে পারেন না। তার বক্তব্য ফিরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত।এর জবাবে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এত বড় মাত্রায় বলপ্রয়োগের অনুমতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ দিতে পারেন না। এ বক্তব্যের পর আবারও সরকারপক্ষের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। তখন স্পিকার ওম বিড়লা রাহুলকে স্মরণ করিয়ে দেন, কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করা সংসদের নিয়মের পরিপন্থি।