ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া এজেন্সি সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল ডিবি হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকে জামিন না দেওয়ায় জেল সুপারকে শোকজ বিচারকের তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পেয়ে ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রেতা ছিলেন: ফজলুর রহমান মাহবুবা হাকিমের হলফনামায় তথ্য গোপন নয়, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’ জাকির নায়েকের সঙ্গে আজহারির সাক্ষাৎ, উপহার পেলেন ‘বিশেষ আতর’ আবারও বাড়ল নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ঢাবির বিজয় একাত্তর হলের ক্লাব রুমের নাম ফলক ভাঙচুর ইরানের সরকার পতন ও হামাস-হিজবুল্লাহকে নির্মূল করব: নেতানিয়াহু

কম্বোডিয়ায় সাইবার দাসত্বের শিকার বাংলাদেশিরা, মানবপাচার নিয়ে উদ্বেগ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে, শেষে সাইবার দাসত্ব। মানবপাচারের নতুন রূপ এখন ‘সাইবার স্ক্যাম’। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভালো চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশিদের বাধ্য করা হচ্ছে অনলাইন প্রতারণার কাজে।

গবেষণা বলছে, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে নেওয়া হলেও ৯৮ শতাংশ ব্যক্তি প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। আর ৯০ শতাংশকে জোর করে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন সাইবার প্রতারণায়।

কম্বোডিয়ায় পাচারের শিকার মো. সফিকুল ইসলাম হৃদয় বলেন, মাত্র ১৭ দিনের সেই বন্দিজীবন তার কাছে ১৭ বছরের সমান ছিল। নির্যাতনের কারণে কয়েকবার আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। আট লাখ টাকা হারিয়ে অবশেষে দেশে ফিরতে পারলেও সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে তাকে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো—বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন। শুধু জুন মাসেই সেখান থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৮৩ জন। তাদের অধিকাংশই অভিযোগ করেছেন, চাকরির বদলে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে মানবপাচারের ধরন আরও জটিল ও ভয়াবহ হয়েছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়েই অনেককে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। তাই বিদেশে পাঠানোর আগে চাকরির সত্যতা ও নিয়োগকর্তার বিশ্বাসযোগ্যতা কঠোরভাবে যাচাই করা জরুরি।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, বিএমইটি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা দরকার। কম্বোডিয়ায় বৈধ শ্রমবাজার থাকলে সরকারকে সেটি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে মানবপাচারের ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা বিচারাধীন। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৭টি মামলা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খালাস পেয়েছেন আসামিরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মানবপাচার ও সাইবার দাসত্বের মতো আন্তঃদেশীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া এজেন্সি সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির

কম্বোডিয়ায় সাইবার দাসত্বের শিকার বাংলাদেশিরা, মানবপাচার নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট সময় ১১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে, শেষে সাইবার দাসত্ব। মানবপাচারের নতুন রূপ এখন ‘সাইবার স্ক্যাম’। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভালো চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশিদের বাধ্য করা হচ্ছে অনলাইন প্রতারণার কাজে।

গবেষণা বলছে, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে নেওয়া হলেও ৯৮ শতাংশ ব্যক্তি প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। আর ৯০ শতাংশকে জোর করে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন সাইবার প্রতারণায়।

কম্বোডিয়ায় পাচারের শিকার মো. সফিকুল ইসলাম হৃদয় বলেন, মাত্র ১৭ দিনের সেই বন্দিজীবন তার কাছে ১৭ বছরের সমান ছিল। নির্যাতনের কারণে কয়েকবার আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। আট লাখ টাকা হারিয়ে অবশেষে দেশে ফিরতে পারলেও সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে তাকে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো—বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন। শুধু জুন মাসেই সেখান থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৮৩ জন। তাদের অধিকাংশই অভিযোগ করেছেন, চাকরির বদলে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে মানবপাচারের ধরন আরও জটিল ও ভয়াবহ হয়েছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়েই অনেককে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। তাই বিদেশে পাঠানোর আগে চাকরির সত্যতা ও নিয়োগকর্তার বিশ্বাসযোগ্যতা কঠোরভাবে যাচাই করা জরুরি।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, বিএমইটি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা দরকার। কম্বোডিয়ায় বৈধ শ্রমবাজার থাকলে সরকারকে সেটি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে মানবপাচারের ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা বিচারাধীন। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৭টি মামলা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খালাস পেয়েছেন আসামিরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মানবপাচার ও সাইবার দাসত্বের মতো আন্তঃদেশীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।