এবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে শুধু পৃথিবীর কক্ষপথে নয়, চাঁদের আশপাশেও সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। বুধবার ওয়াশিংটনের কাছে এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমুদ্রের তলদেশ থেকে ‘সিসলুনার স্পেস’ পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় যুদ্ধ করা, টিকে থাকা এবং জয়ী হওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত হতে হবে। পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে সিসলুনার স্পেস বলা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে ২০১৯ সালে গঠিত মার্কিন মহাকাশ বাহিনীও চাঁদের আশপাশে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাহিনীর কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন বলেন, মানবজাতি মহাকাশে আরও গভীরে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত থাকা মহাকাশ বাহিনীর দায়িত্ব।
এর কয়েক দিন আগে একই সম্মেলনে মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক প্রথমবারের মতো জানান, যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে ‘মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র’ মোতায়েন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্যের পর মহাকাশের সামরিকীকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গ্যাগনন বলেন, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। তিনি চীনকে এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, চীন মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সমর্থন করে এবং এর অস্ত্রায়ন ও সামরিকীকরণের বিরোধিতা করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি অনুযায়ী, চাঁদসহ মহাজাগতিক বস্তু শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে এবং মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ। এদিকে আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করে ২৫ হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন গ্যাগনন।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















