ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দুই দিনের কর্মসূচি জামায়াত জোটের গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, খসড়া অনুমোদন মন্ত্রীসভায় ১ মণ দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়লেন যুবদল নেতা বেরোবিতে জুলাই প্রদর্শনী ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ‘এক দফার ঘোষণার আগে নাছিরের মাধ্যমে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়’ ২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা হান্নান গ্রেফতার চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে নাসীরুদ্দীনের প্রতিবাদ, ‘ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না’ সাধারণদের মতোই ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স পেলেন জাইমা রহমান, বিশেষ সুবিধা নয় বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে জুলাইকে অস্বীকার করেছে: গোলাম পরওয়ার জুলাই কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর অর্জন নয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বেরোবিতে জুলাই প্রদর্শনী ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

 

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই কর্মসূচি’ প্রদর্শনীর ব্যানারকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

 

 

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতার স্মারক চত্বরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থেমে চলতে থাকে। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পার্কের মোড় ও প্রধান ফটক এলাকায় দুই সংগঠনের সমর্থকরা অবস্থান নেয় এবং থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, শাখা ছাত্রশিবির স্বাধীনতার স্মারক চত্বরে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই প্রদর্শনী’র আয়োজন করে। ওই প্রদর্শনীতে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীর ফাঁসিকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ দাবি করে একটি ব্যানার টাঙানো হয়।

 

 

রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা গিয়ে ওই ব্যানার সরিয়ে ফেলার দাবি জানান। শিবির তা সরাতে অস্বীকার করলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ উঠে। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শওকত আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান এবং ছাত্র উপদেষ্টারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। রাত ১০টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য কার্যালয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক শুরু হলেও কোনো সমাধান আসেনি। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদ অভিযোগ করে বলেন, জুলাই কর্মসূচিতে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার নেতাদের ছবি প্রদর্শনীতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রদলের নেতারা এসে হামলা চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রদর্শনী পণ্ড করার চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে বহিরাগত এনে হামলা চালায়।

 

 

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়ামিন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি দেওয়া হয়েছিল। তা সরাতে বলায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে আমাদের নিরস্ত কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান জানান, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপাচার্য ড. এম শওকত আলী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত করতে উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দুই দিনের কর্মসূচি জামায়াত জোটের

বেরোবিতে জুলাই প্রদর্শনী ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ

আপডেট সময় ১২:২৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

 

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই কর্মসূচি’ প্রদর্শনীর ব্যানারকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

 

 

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতার স্মারক চত্বরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থেমে চলতে থাকে। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পার্কের মোড় ও প্রধান ফটক এলাকায় দুই সংগঠনের সমর্থকরা অবস্থান নেয় এবং থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, শাখা ছাত্রশিবির স্বাধীনতার স্মারক চত্বরে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই প্রদর্শনী’র আয়োজন করে। ওই প্রদর্শনীতে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীর ফাঁসিকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ দাবি করে একটি ব্যানার টাঙানো হয়।

 

 

রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা গিয়ে ওই ব্যানার সরিয়ে ফেলার দাবি জানান। শিবির তা সরাতে অস্বীকার করলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ উঠে। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শওকত আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান এবং ছাত্র উপদেষ্টারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। রাত ১০টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য কার্যালয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক শুরু হলেও কোনো সমাধান আসেনি। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদ অভিযোগ করে বলেন, জুলাই কর্মসূচিতে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার নেতাদের ছবি প্রদর্শনীতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রদলের নেতারা এসে হামলা চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রদর্শনী পণ্ড করার চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে বহিরাগত এনে হামলা চালায়।

 

 

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়ামিন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি দেওয়া হয়েছিল। তা সরাতে বলায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে আমাদের নিরস্ত কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান জানান, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপাচার্য ড. এম শওকত আলী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত করতে উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।