জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে খাস জমিতে তোলা এক অসহায় ব্যক্তির মুদি দোকান জোরপূর্বক দখল করে বিএনপির কার্যালয় বানানোর অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে পৌরসভার বলারদিয়ার ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নেতা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা।
ভুক্তভোগী মো. শামীম হোসেনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দোকান ও জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত ৪ আগস্ট তিনি সরিষাবাড়ী থানায় মারামারির একটি অভিযোগ করেন।
বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত থানার তদন্ত কর্মকর্তা দোকানটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং দোকান তালাবদ্ধ করে চাবি থানার হেফাজতে রাখা হয়।
তবে শামীমের অভিযোগ, বিবাদীরা প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নকল (ডুপ্লিকেট) চাবি বানিয়ে তালা খোলে এবং ভেতরের সব মালামাল সরিয়ে ফেলে। অভিযোগে ফ্রিজ, চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে শুক্রবার সকালে তালাবদ্ধ সেই দোকানে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে ‘৩ নং বলারদিয়ার বিএনপি কার্যালয়’ লেখা একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
বিরোধপূর্ণ দোকানে এভাবে রাজনৈতিক সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক, আব্দুল খালেক, হযরত আলীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে পৌর ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ড বিএনপির একমাত্র অফিস চৌধুরী মোড়ে অবস্থিত। এর বাইরে দলের কোনো দ্বিতীয় কার্যালয় নেই। কেউ যদি ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অফিস বানায়, তবে দল এর কোনো দায়ভার নেবে না।’
ভুক্তভোগী শামীম হোসেন ও তার স্ত্রী তাদের মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সরিষাবাড়ী থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















