ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: অলি আহমদ আইনের মারপ্যাঁচে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিলে গণবিস্ফোরণ হবে: মঞ্চ ২৪ দাবি না মানলে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হবে: জামায়াতের আমির কমলাপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণ অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানাজা কাল সকাল ১০টায় সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক, মানুষের নিরাপত্তা নেই: নাহিদ ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে: রাজা নাসির আব্বাস ভারতীয় পণ্যে ১০০ শতাংশ মার্কিন শুল্কারোপের শঙ্কা, ঘুম হারাম রপ্তানিকারকদের এবার রাজধানীর বাড্ডায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন

আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে চট্টগ্রামে প্রতিদিন ১,০০০ টন বর্জ্য থেকে যাচ্ছে সংগ্রহের বাইরে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ১ হাজার টনই সংগ্রহ করতে পারছে না সিটি করপোরেশন। পুরোনো যন্ত্রপাতি, জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বর্জ্য ফেলার জায়গার সংকটে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ টন বর্জ্য সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে সিটি করপোরেশনের। বাকি বর্জ্যের একটি অংশ সড়ক, নালা, খাল ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। এতে জলাবদ্ধতা, পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

২৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২৯৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে চসিক। বর্তমানে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

চসিকের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি প্রথমে প্রায় ৩ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করে ব্যয় কমিয়ে ২৯৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্প ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশ চসিক এবং বাকি অর্থ সরকার বহন করবে।

তবে নিজস্ব অংশের অর্থ জোগান দেওয়ার সক্ষমতা সিটি করপোরেশনের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা। এ ব্যয়ও সরকার বহন করবে কি না, সে বিষয়ে মেয়র সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।

চসিকের অধিকাংশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যন্ত্রপাতি প্রায় ২৫ বছরের পুরোনো। ফলে নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করা গেলে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

শুধু যন্ত্রপাতি নয়, প্রয়োজন সচেতনতা

নগর পরিকল্পনাবিদ দেলোয়ার মজুমদার বলেন, পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা কমে এসেছে। তাই নতুন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তবে শুধু যন্ত্রপাতি কিনলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

তার মতে, বর্জ্য উৎপাদনের স্থানেই আলাদা করা, পুনর্ব্যবহার ও যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায় শুধু নগরবাসীর ওপর চাপালে হবে না। সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা সঠিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও অপসারণ করছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

২৫ ওয়ার্ডে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর সংগ্রহ

বর্জ্য সংগ্রহের ঘাটতি কমাতে নগরীর ২৫টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে চসিক।

এর আগে ৪১টি ওয়ার্ডে বেসরকারি ভেন্ডরের মাধ্যমে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করা হতো। এ জন্য প্রতিটি পরিবার থেকে মাসে ৭০ টাকা নেওয়া হতো। তবে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় এখন চসিকের নিজস্ব অর্থায়নে ২৫টি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার টন বর্জ্য সংগ্রহের বাইরে থাকায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে নালা-নর্দমা ভরাট, জলাবদ্ধতা ও কর্ণফুলী নদীর দূষণ বাড়ছে।

তার মতে, বিনামূল্যে বর্জ্য সংগ্রহে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব চট্টগ্রাম গড়তে দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

ল্যান্ডফিলেও বাড়ছে চাপ

বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তা ফেলার জায়গার সংকটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চসিকের বর্তমান ল্যান্ডফিল প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিদিন সেখানে প্রায় ৭০টি বর্জ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ করছে।

বর্তমানে বায়েজিদের আরেফিন নগর ও হালিশহরের আনন্দবাজারে দুটি উন্মুক্ত ডাম্পিং কেন্দ্র ব্যবহার করছে চসিক। দীর্ঘদিন ধরে সনাতন পদ্ধতিতে বর্জ্য ফেলায় সেখানে বড় বড় ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে।

দুটি কেন্দ্রেই আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা বা লিচেট শোধনাগার নেই। ফলে বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত তরল ও দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। দূষিত তরল ড্রেন ও খাল হয়ে কর্ণফুলী নদীতেও মিশছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ অবস্থায় আরেফিন নগর ও আনন্দবাজারের ডাম্পিং কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফতেয়াবাদসহ নতুন এলাকায় ল্যান্ডফিল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে।

স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে কোরিয়ার সহযোগিতা

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে চসিক।

গত ৬ আগস্ট কোরিয়া এনভায়রনমেন্টাল ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের (কেইআইটিআই) পরামর্শকদের সঙ্গে মেয়রের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিদ্যমান দুটি উন্মুক্ত ডাম্পিং সাইট পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে পরিবেশসম্মতভাবে পুনর্বাসন এবং একটি আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

চসিক জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা

দীর্ঘমেয়াদে বর্জ্যকে শুধু অপসারণযোগ্য বস্তু হিসেবে না দেখে সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে চসিক। পর্যাপ্ত বর্জ্য সংগ্রহ করা গেলে তা থেকে বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে নগরীর পুরো বর্জ্য সংগ্রহব্যবস্থাকে কার্যকর করা এবং আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামো নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই

আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে চট্টগ্রামে প্রতিদিন ১,০০০ টন বর্জ্য থেকে যাচ্ছে সংগ্রহের বাইরে

আপডেট সময় ০৪:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের মধ্যে প্রায় ১ হাজার টনই সংগ্রহ করতে পারছে না সিটি করপোরেশন। পুরোনো যন্ত্রপাতি, জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বর্জ্য ফেলার জায়গার সংকটে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ টন বর্জ্য সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে সিটি করপোরেশনের। বাকি বর্জ্যের একটি অংশ সড়ক, নালা, খাল ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। এতে জলাবদ্ধতা, পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

২৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২৯৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে চসিক। বর্তমানে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

চসিকের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি প্রথমে প্রায় ৩ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করে ব্যয় কমিয়ে ২৯৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্প ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশ চসিক এবং বাকি অর্থ সরকার বহন করবে।

তবে নিজস্ব অংশের অর্থ জোগান দেওয়ার সক্ষমতা সিটি করপোরেশনের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা। এ ব্যয়ও সরকার বহন করবে কি না, সে বিষয়ে মেয়র সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।

চসিকের অধিকাংশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যন্ত্রপাতি প্রায় ২৫ বছরের পুরোনো। ফলে নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করা গেলে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

শুধু যন্ত্রপাতি নয়, প্রয়োজন সচেতনতা

নগর পরিকল্পনাবিদ দেলোয়ার মজুমদার বলেন, পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা কমে এসেছে। তাই নতুন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তবে শুধু যন্ত্রপাতি কিনলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

তার মতে, বর্জ্য উৎপাদনের স্থানেই আলাদা করা, পুনর্ব্যবহার ও যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায় শুধু নগরবাসীর ওপর চাপালে হবে না। সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা সঠিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও অপসারণ করছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

২৫ ওয়ার্ডে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর সংগ্রহ

বর্জ্য সংগ্রহের ঘাটতি কমাতে নগরীর ২৫টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে চসিক।

এর আগে ৪১টি ওয়ার্ডে বেসরকারি ভেন্ডরের মাধ্যমে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করা হতো। এ জন্য প্রতিটি পরিবার থেকে মাসে ৭০ টাকা নেওয়া হতো। তবে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় এখন চসিকের নিজস্ব অর্থায়নে ২৫টি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার টন বর্জ্য সংগ্রহের বাইরে থাকায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে নালা-নর্দমা ভরাট, জলাবদ্ধতা ও কর্ণফুলী নদীর দূষণ বাড়ছে।

তার মতে, বিনামূল্যে বর্জ্য সংগ্রহে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব চট্টগ্রাম গড়তে দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

ল্যান্ডফিলেও বাড়ছে চাপ

বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তা ফেলার জায়গার সংকটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চসিকের বর্তমান ল্যান্ডফিল প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিদিন সেখানে প্রায় ৭০টি বর্জ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ করছে।

বর্তমানে বায়েজিদের আরেফিন নগর ও হালিশহরের আনন্দবাজারে দুটি উন্মুক্ত ডাম্পিং কেন্দ্র ব্যবহার করছে চসিক। দীর্ঘদিন ধরে সনাতন পদ্ধতিতে বর্জ্য ফেলায় সেখানে বড় বড় ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে।

দুটি কেন্দ্রেই আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা বা লিচেট শোধনাগার নেই। ফলে বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত তরল ও দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। দূষিত তরল ড্রেন ও খাল হয়ে কর্ণফুলী নদীতেও মিশছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ অবস্থায় আরেফিন নগর ও আনন্দবাজারের ডাম্পিং কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফতেয়াবাদসহ নতুন এলাকায় ল্যান্ডফিল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে।

স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে কোরিয়ার সহযোগিতা

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে চসিক।

গত ৬ আগস্ট কোরিয়া এনভায়রনমেন্টাল ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের (কেইআইটিআই) পরামর্শকদের সঙ্গে মেয়রের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিদ্যমান দুটি উন্মুক্ত ডাম্পিং সাইট পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে পরিবেশসম্মতভাবে পুনর্বাসন এবং একটি আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

চসিক জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা

দীর্ঘমেয়াদে বর্জ্যকে শুধু অপসারণযোগ্য বস্তু হিসেবে না দেখে সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে চসিক। পর্যাপ্ত বর্জ্য সংগ্রহ করা গেলে তা থেকে বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে নগরীর পুরো বর্জ্য সংগ্রহব্যবস্থাকে কার্যকর করা এবং আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামো নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।