ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিপি সাদিক কায়েম বললেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি মানে হচ্ছে একটা মুলা ঝুলানো। সেই তদন্ত কমিটির মুলা আপনারা দেখতে পেয়েছেন।’
মূলত ফজলুল হক মুসলিম হলের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিকে ইঙ্গিত করে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
আজ মঙ্গলবার ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের পদত্যাগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং প্রতিবেদন দেওয়ার জন্যও তিন কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চার মাস পার হলেও সেই তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তার অভিযোগ, কমিটির পর কমিটি হচ্ছে, তদন্তের পর তদন্ত হচ্ছে, কিন্তু কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ছাত্রদলের উদ্দেশে সাদিক কায়েম বলেন, আপনারা সভ্য ভাষায় রাজনীতি করেন। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে যদি আপনারা মনে করেন নব্বই-পরবর্তী ক্যাম্পাসে যেভাবে সন্ত্রাসীরা রাজত্ব করেছে, টেন্ডারবাজি করেছে, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করেছে, সেই ধরনের পেশিশক্তির রাজনীতি করে এই ক্যাম্পাসে রাজনীতি বিনির্মাণ করবেন, তাহলে আপনারা ভুলের মধ্যে আছেন।
তিনি আরও বলেন, এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশে ছাত্রলীগের যে পরিণতি হয়েছিল, তার চেয়ে ভয়াবহ পরিণতি আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
ফজলুল হক মুসলিম হলের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ডাকসু ভিপি বলেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে হলের এক শিক্ষার্থী ইব্রাহিমকে প্রভোস্ট ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ভাষ্য, ওই শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে একটি মিথ্যা জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।সাদিক কায়েম বলেন, আমরা যখন জাস্টিসের কথা বলছিলাম, ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা এবং শিক্ষার্থীরা যখন প্রভোস্ট অফিসে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ চাচ্ছিলাম, তখন আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে আশ্বস্ত করে ডাকসু ভিপি বলেন, ডাকসুর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আবার গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরে আসতে দেবেন না। কোনো ছাত্রসংগঠন যেন পেশিশক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ, ছাত্রদলের হামলা এবং এর আগে শাহবাগ থানায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী জড়িতদের বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















