ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরানে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক পাঠাল রাশিয়া আমরা চিন্তাও করিনি, ইরান আমাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেবে: মার্কিন জেনারেল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র মারা গেছেন অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া সেই ছাত্রদল নেতাকে ছেড়ে দিলো পুলিশ, থানা ঘেরাও জালিয়াতির অভিযোগে হান্নান মাসউদের এমপি পদ শূন্য ঘোষণা চেয়ে রিট প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএনপির একটি গ্রুপের ‘ষড়যন্ত্রের’ বিচার চাইলেন এমপি বাবুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে উচ্চস্বরে গান, মাদ্রাসাছাত্র-পুলিশের সংঘর্ষে আহত ৩০ তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য হাতে সময় খুবই কম: বীণা সিক্রি হান্নান মাসুদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দাবানলে কানাডার একটি প্রদেশের সমান বনভূমি পুড়ে ছাই

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও আদালটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) মার্কিন প্রশাসন এ নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তারা এমন কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষর করাইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টশীর্ষক নির্বাহী আদেশের আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান এবং আট বিচারকসহ আদালটির ১০ কর্মকর্তাকে একই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আকানে ও সেয়ের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর থেকেই আদালটির ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও জোরালো হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, আকানে ও সেয়ে আইসিসির এমন কর্মকাণ্ডেসরাসরিযুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে এমন দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে যেসব দেশের সরকার আইসিসির এখতিয়ার মেনে নেয়নি।

রুবিও বলেন, ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য আইসিসির হুমকি দূর করতে আমাদের পুরো সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ব্যাপক হবে।রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধ করতে আরও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যোগ দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসির বিরুদ্ধে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আদালটিমার্কিন সার্বভৌমত্বেরজন্য হুমকি তৈরি করেছে। ক্যাম্প ডেভিডে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও বলেন, যেসব দেশ আইসিসির সদস্য নয়, তাদের নাগরিকদের ওপরও আদালত এখতিয়ার দাবি করায় প্রতিষ্ঠানটিনিজেকেই অবৈধকরে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলদুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। এরপর ট্রাম্প বলেন, রুবিওবিবি ও আরও কয়েকজনকে রক্ষা করারচেষ্টা করছেন।বিবিবলতে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বোঝান।

তবে আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে শুরু থেকেই আদালতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে আসছেন। গত ডিসেম্বরে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা বিচারকদের দায়িত্ব পালনের ব্যাখ্যা বা বিচারিক কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। আকানে বলেন, ‘আইনগত কাঠামোর ব্যাখ্যা ও মামলার বিচার নিয়ে আমরা কারও কোনো ধরনের চাপ কখনোই মেনে নেব না।আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাই এর মূল ভিত্তি এবং তা অটুট থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইসিসির ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট এবং এই পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম জাপানি নাগরিক আকানের ওপর সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আদালত এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সূত্র: আনাদোলু

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক পাঠাল রাশিয়া

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় ১০:৪৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও আদালটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) মার্কিন প্রশাসন এ নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তারা এমন কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষর করাইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টশীর্ষক নির্বাহী আদেশের আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান এবং আট বিচারকসহ আদালটির ১০ কর্মকর্তাকে একই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আকানে ও সেয়ের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর থেকেই আদালটির ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও জোরালো হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, আকানে ও সেয়ে আইসিসির এমন কর্মকাণ্ডেসরাসরিযুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে এমন দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে যেসব দেশের সরকার আইসিসির এখতিয়ার মেনে নেয়নি।

রুবিও বলেন, ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য আইসিসির হুমকি দূর করতে আমাদের পুরো সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ব্যাপক হবে।রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধ করতে আরও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যোগ দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসির বিরুদ্ধে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আদালটিমার্কিন সার্বভৌমত্বেরজন্য হুমকি তৈরি করেছে। ক্যাম্প ডেভিডে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও বলেন, যেসব দেশ আইসিসির সদস্য নয়, তাদের নাগরিকদের ওপরও আদালত এখতিয়ার দাবি করায় প্রতিষ্ঠানটিনিজেকেই অবৈধকরে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলদুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। এরপর ট্রাম্প বলেন, রুবিওবিবি ও আরও কয়েকজনকে রক্ষা করারচেষ্টা করছেন।বিবিবলতে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বোঝান।

তবে আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে শুরু থেকেই আদালতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে আসছেন। গত ডিসেম্বরে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা বিচারকদের দায়িত্ব পালনের ব্যাখ্যা বা বিচারিক কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। আকানে বলেন, ‘আইনগত কাঠামোর ব্যাখ্যা ও মামলার বিচার নিয়ে আমরা কারও কোনো ধরনের চাপ কখনোই মেনে নেব না।আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাই এর মূল ভিত্তি এবং তা অটুট থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইসিসির ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট এবং এই পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম জাপানি নাগরিক আকানের ওপর সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আদালত এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সূত্র: আনাদোলু